ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭ ৫:০৯ অপরাহ্ণ

Home / slide / মুফতি হান্নানের ফাঁসি: রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

মুফতি হান্নানের ফাঁসি: রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

সাহেব-বাজার ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলাসহ শতাধিক মানুষের মৃত্যুও জন্য অভিযুক্ত জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তার দুই সহযোগীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হবে কি না, সে জন্য বঙ্গভবনের সিদ্ধান্তের কারা কর্তৃপক্ষ। আপিল বিভাগ তাদের রায় জানিয়ে দেয়ার পর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন হরকাতুল জিহাদের এই নেতা ও তার দুই সহযোগী। তবে এখনও বঙ্গভবনের সিদ্ধান্ত আসেনি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে।

মুফতি হান্নান ও তার দুই সহযোগীর মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত আদেশ হয়েছে ২০০৪ সালে সিলেটের শাহজালাল (রা.) এর মাজারে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায়।

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক ইকবাল হাসান বলেন, ‘তার আবেদন আমরা রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেটি এখনও ফেরত আসেনি। আসলেই আমাদের কার্যক্রম শুরু হবে।’

রাষ্ট্রপতি তার ক্ষমতাবলে যে কোনো আসামিকে তার দণ্ড মওকুফ করতে পারেন বা সাজা কমাতে পারেন। মুফতি হান্নান ও তার দুই সহযোগী তার কাছে আবেদন করেছেন গত ২৭ মার্চ।

রাষ্ট্রপতি কতদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবেন-এটি সুনির্দিষ্ট নয় বলে জানান কারা কর্মকর্তা ইকবাল হাসান। তিনি বলেন,  ‘কোনো আসামির আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে  আইন মন্ত্রণালয়ে যায়। সেখান থেকে সিদ্ধান্তের পর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যায়। সেখান থেকে আসে আমাদের কাছে। এ ক্ষেত্রে কিছুদিন সময় লাগে।’

মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী বিপুল বন্দী আছেন গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে। মৃত্যুদ- পাওয়া আরেক আসামি আছেন সিলেট কারাগারে। গত ২৭ মার্চ তারা প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান বলেন, ‘মুফতি হান্নান ও বিপুল কারাগারে ভালো আছেন। রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে সিদ্ধান্ত পেলে পরবর্তী করণীয় হবে। কারা বিধি মোতাবেক তার ফাঁসির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হজরত শাহজালালের (র.) মাজারে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। এতে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত এবং আনোয়ার চৌধুরীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

এ মামলার রায়ে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত পাঁচ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

পরে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানি ও আপিলেও এই দণ্ড বহাল থাকে। এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনও সর্বোচ্চ আদালত নাকচ করে গত ১৯ মার্চ। সে আদেশের কপি গত ২১ মার্চ যায় কারাগারে। পরদিন মৃত্যু পরোয়ানা পড়িয়ে শোনানো হয় মুফতি হান্নানকে।

বিভিন্ন ঘটনায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয় মুফতি হান্নানকে। ২০০৪ সালে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বোমা হামলা, ১৯৯৯ সালে যশোরের উদীচী সম্মেলনে বোমা হামলা, ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গোপালগঞ্জের সমাবেশের অদূরে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার মামলায় আসামি মুফতি হান্নান। এসব মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

বিজয়ের মাস : ১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বরের এইদিন বগুড়া শহর হানাদার মুক্ত হয়।ওই দিন বগুড়ায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *