ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭ ৫:১৯ অপরাহ্ণ

Home / slide / তিন ডাক্তারে চালান বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

তিন ডাক্তারে চালান বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা : তিনজন ডাক্তার দিয়ে চলছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স । এখানে ২৭ জন ডাক্তারের পোষ্ট থাকলেও  কাগজে কলমে রয়েছেন ১২ জন ডাক্তার । আর দায়িত্ব পালন করছে মাত্র ৩  জন । এক্সেরে মেশিন থাকলেও বিকল হয়ে পড়ে আছে ৭ মাস। যা মেরামতের ব্যবস্থা নেই।

অভিযোগ রয়েছে, এসব ডাক্তারা সঠিক সময়ে অফিসে আসেন না। এর ফলে ৩ লাখ জনগোষ্ঠীর এ উপজেলায়  প্রায় বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয় রোগীদের।

সরেজমিন রোববার সকাল ১১ টায় এসে দেখা যায়, শত-শত রোগীর চাপ সামলাচ্ছেন ৩ জন ডাক্তার। হাসপাতালের ভেতর বহির বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রুগীরা টিকিট কিনে দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘক্ষণ। এদের মধ্যে তারেক নামের এক রোগী জানালেন, একটু আগে কোন ডাক্তার হাসপাতালে ছিল না। ৫ মিনিট আগে একই সাথে রাজশাহী থেকে দু’জন ডাক্তার প্রবেশ করলেন।

স্থানীয়রা জানান, হাসপাতালে ডাক্তারদের জন্য আবাসিক কোয়ার্টার ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ সেই কোয়ার্টারে কোন ডাক্তার থাকেন না। এমনকি বড় কর্তা (টিএইচএ) ডা: সিরাজুল ইসলাম তিনিও পার্শ্ববর্তী উপজেলা চারঘাট থেকে প্রতিদিন অফিস করেন। এখানে ২৭ জন ডাক্তারের স্থলে কাগজে কলমে ১২ জন ডাক্তার দেখানো হলেও রাজশাহীতে কর্মরত আছেন ২ জন। যারা নিয়মিত বেতন তুলেন বাঘা থেকে। ঠিক একইভাবে অন্যরাও নানা কারণে অফিস না করে পার পেয়ে যান।

এর ফলে পুরো উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন হাতে গোনা কয়েকজন  ডাক্তার। তারা অভিযোগ করে বলেন, এ সব ডাক্তারা কোথায়-কেন অনুপস্থিত এ প্রশ্নের জবাব তাদের জানা নেই।

এদিকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, ডাক্তার সংকটের কারণে তারা সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছেন না। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আবার সময় শেষ হলে ডাক্তার উঠে যান। অনেকেই  চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

উপজেলার আমোদপুর গ্রামের মালেকা বেগম অভিযোগ করে বলেন , এটা নামে মাত্র হাসপাতাল। যাদের টাকা নেই তারা আসবে এই হাসপাতালে। এখানে চিকিৎসা নিতে এসে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরেও ঔষধ মিলেনা।

অপর একজন রোগী  কলিমুদ্দিন বলেন, এই হাসপাতালে যে এক্সরে মেশিন রয়েছে সেটি ছয় মাস ধরে বিকল। এর ফলে বাইরে অধিক টাকা দিয়ে রোগীদের এক্সরে করতে হয়।

এ বিষয় জানতে চাইলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের (টিএইচএ) ডা: সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি সবসময় বাড়ি থেকে অফিস করি একথা ঠিক না। মাঝে মধ্যে কোয়ার্টারে থাকি। তবে অধিকাংশ ডাক্তার বাইরে থেকে অফিস করার কারণে সময়ের কিছুটা গড়মিল হয়। তিনি এক্সরে মেশিন সারানোর জন্য সংশ্লিষ্ঠ দফতরে আবেদন করেছেন বলে জানান। আর যারা নিয়মিত অফিসে আসেন না-কিংবা রাজশাহীতে চাকরি করে বাঘায় বেতন উঠান তাদের ক্ষমতা তাঁর চেয়েও অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি ।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

কুয়াশায় দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘনকুয়াশার কারণে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *