ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭ ৮:০১ অপরাহ্ণ

Home / slide / আদৌ কি ভবিষ্যৎ আছে বিএনপির? । প্রশান্ত সাহা
আদৌ কি ভবিষ্যৎ আছে বিএনপির? । প্রশান্ত সাহা
আদৌ কি ভবিষ্যৎ আছে বিএনপির? । প্রশান্ত সাহা

আদৌ কি ভবিষ্যৎ আছে বিএনপির? । প্রশান্ত সাহা

একটি প্রশ্ন বার বার ঘুরে ফিরে আসছে, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি? বিশেষ করে কানাডার ফেডারেল আদালতের রায়ের পর এই প্রশ্নটি আরো শাণিত হয়েছে। যেখানে চিহ্নিত করা হয়েছে বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। কিন্তু এর অর্থ এই নয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি হারিয়ে যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিএনপি নিজেরাই নিজেদের প্রশ্নবিদ্ধ করেেছ নানাভাবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও খুব একটা পরিচ্ছন্ন নয়। এখনো স্বাধীনতার পক্ষে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলগুলো দৃঢ়ভাবে দেশের আদর্শের পক্ষে দাঁড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ অবশ্য অনেক। এরমধ্যে মূল হচ্ছে, আওয়ামী লীগ বাদে অন্যরা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আর যে সব দলও রয়েছে এর বাইরে তারাও দ্বিধা বিভক্ত। মূল দল হিসেবে আওয়ামী লীগও বড়দলের অহমিকায় অন্যদের কাছে টানতে ব্যর্থ হচ্ছে। যা ১৪ দলীয় জোটকে শক্তিশালী করার বদলে দুর্বল করছে। আর যদি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মত নামকাওয়াস্তে জোট ১৪ দলীয় জোট হয়, তাহলে ঠিকই আছে। আপেক্ষিকভাবে আসলে রাজনীতিতে বোধ হয় কেউই চায় না অন্যরা শক্তিশালী হোক। কিন্তু সহযোগীরা শক্তিশালী হলে আদর্শ শক্তিশালী হবে। ফলে মূল দলের শক্তি আরো বাড়বে এবং রাজনীতির স্বার্থে তা ব্যবহার করে দেশ ও জনগণের উন্নতি করা আরো সহজ হবে। এই সহজ অর্থ বড় দল বোঝে কি না তা জানি না। কিন্তু তা দৃশ্যমান নয়।

শুরু করেছিলাম বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে আওয়ামী লীগ বা ১৪ দল নিয়ে নয়। একটি বিদেশি রাষ্ট্রের আদালতের রায় বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে তা বিশ্বাস্য নয়। তবে বিএনপির মত দল যারা ক্ষমতায় থেকে দল সৃষ্টি করে ধীরে ধীরে সুবিধাবাদী সহ স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে দল বড় করেছে, তাদের ক্ষমতা থেকে বেশিদিন দূরে থেকে রাজনীতি করা নিঃসন্দেহে দুঃসাধ্য। কারণ সুবিধাবাদীরা সুবিধা পাওয়ার লোভেই দল করে, আদর্শের জন্য নয়। সুবিধা না থাকলে তারা চলে যাবে, তা স্বীকৃত। বিএনপির মূল সমস্যা এখানেই। ফলে সাংগঠনিক ভিত্তি নড়বড়ে। দলীয় কোন্দলসহ দলীয় আনুগত্য নেই। ফলে দলীয় শৃংখলাও শূন্যের কোঠায়। বিএনপির মত রাজনৈতিক দলকে বর্তমান প্রেক্ষিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাঝ দিয়েই অগ্রসর হতে হবে। এর কোনো বিকল্প ভাবনা অবান্তর। তার সর্ব প্রথম ধাপ নির্বাচন। নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই ক্ষমতা যাওয়ার প্রক্রিয়া একমাত্র পথ। সেখানে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও তৃণমূল কর্মীদের সংগঠিত করা মুখ্য দায়িত্ব। যা দৃশ্যত বিএনপি ব্যর্থ। তবে তাদের একটি সুবিধা রয়েছে। দলের শক্তি কম হলেও বিএনপির দেশের অভ্যন্তরে ভোট এখনো রয়েছে। তা অস্বীকার করলে ভুল হবে। এই ভোটদাতারা হচ্ছে যারা মনে করে আওয়ামী লীগই তাদের সাধের পাকিস্তান ভেঙে দিয়েছে। সাম্প্রদায়িক শক্তি যারা মনে করে, এদেশের সংখ্যালঘুরা দেশ ত্যাগ করলে তাদের বৈষয়িক লাভ হয় এবং আওয়ামী লীগের ভোট কমে। একশ্রেণির ধর্মান্ধ মধ্যযুগীয় চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসীরা ভাবে ধর্মীয় বিধিবিধান সর্বস্তরে চালু হোক। ইসলামি জঙ্গি সংগঠনরা হত্যা করে ইসলামিক রাজত্ব কায়েম করতে চায়। এদের জন্য সুবিধা বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে। এর উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছিল ২০০১ সালে বিএনপির সময়ে বাংলাভাই ও আব্দুর রহমানের উত্থানে। এর প্রমাণ যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের সময় রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থান। এই অবস্থান অস্বাভাবিক নয়। বরং এটাই স্বাভাবিক। কারণ বিএনপির জন্মদাতা একই কাজ করেছে রাজাকার, আলবদরদের নিয়ে। আশ্রয় দিয়েছে, প্রশ্রয় দিয়েছে। আর তারই উত্তরসূরিরা বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়েছে তাদের গাড়িতে।

তবে এরা তবুও কিছুদিন রাজনীতিতে টিকে থাকবে। যতদিন দেশের অভ্যন্তরে একশ্রেণি মানুষের মনে মনে মিনি পাকিস্তানের স্বপ্ন জাগরিত রাখবে বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধীতা পোষণ করে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করবে। এখানে ব্যক্তিবিশেষ নয় এদের পরিবারসহ সকলেই। তাই যুদ্ধাপরাধীদের আত্মীয়স্বজনরা মদদ দেয় জঙ্গি তৎপরতায়।

বিএনপির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত। তা হচ্ছে, যেভাবে জন্ম, সেভাবেই মৃত্যু। এর কোনো বিকল্প নেই। সুবিধাবাদিদের দল নিয়ে বেশি দূর যাওয়া যায় না। বিএনপির বর্তমান নেত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার। মামলায় মামলায় জর্জরিত। আর মামলাগুলো রাজনৈতিক বলে অনুসারীরা চিৎকার করলেও তাদের নেত্রী তা মুখোমুখি লড়াইয়ের বদলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। রাজনীতি করলে সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লড়াই করতে হয়। শুধু মুখে বললে হয় না। নেত্রীর সন্তানও তাই। কারণ একটাই, তাহলো এরা কেউই রাজনীতির জন্য সৃষ্টি হয়নি এরা সুবিধা গ্রহণ করে নিজেদের সুবিধাবাদিদের দলে নিয়ে গেছেন। বা তারাই সুবিধাবাদিদের দলের শিরোমণি।

তবে এরা তবুও কিছুদিন রাজনীতিতে টিকে থাকবে। যতদিন দেশের অভ্যন্তরে একশ্রেণি মানুষের মনে মনে মিনি পাকিস্তানের স্বপ্ন জাগরিত রাখবে বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধীতা পোষণ করে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করবে। এখানে ব্যক্তিবিশেষ নয় এদের পরিবারসহ সকলেই। তাই যুদ্ধাপরাধীদের আত্মীয়স্বজনরা মদদ দেয় জঙ্গি তৎপরতায়।

নতুন মানুষ দরকার নতুন চেতনাকে সমৃদ্ধ করতে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এই নতুনের সৃষ্টিতে বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নিজেদের অভ্যন্তরেই নানা কোন্দলে। ফলে ভোগান্তি বাড়ছে জনগণের।

প্রশান্ত সাহা : সহকারী সম্পাদক, উত্তরা প্রতিদিন।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

রাজশাহীতে শহীদ মিনারে মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরেই রাজশাহীতে শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে। রাজশাহী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *