Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের ভিডিও কনফারেন্স– বিস্তারিত....
  • তানোরের আলু বিদেশে রপ্তানী, কৃষকের মুখে খুশির ঝিলিক– বিস্তারিত....
  • নাটোরে টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন– বিস্তারিত....
  • কলেজে ছাত্রীকে বখাটে সহপাঠির প্রকাশ্যে চড়– বিস্তারিত....
  • চারঘাটে বিভিন্ন পয়েন্ট নিয়ন্ত্রন করে ৩০ চোরাকারবারী গডফাদার– বিস্তারিত....

ফারুকীর ‘ডুব’ নিয়ে সেন্সরবোর্ডে শাওনের অভিযোগ

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭

সাহেব-বাজার ডেস্ক : সম্প্রতি সেন্সরবোর্ডে জমা পড়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ডুব’। তবে ছবিটিকে ছাড়পত্র না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে ১৩ ফেব্রুয়ারি সেন্সরবোর্ডে একটি চিঠি জমা দিয়েছেন নির্মাতা-অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেন্সরবোর্ডের একাধিক সদস্য। তবে এই চিঠির বিপরীতে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, প্রিভিউ কমিটি ইতোমধ্যে ছবিটি দেখেছেন। এখন যেকোনো দিন সেন্সরবোর্ড সদস্যরা ছবিটি দেখবেন। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চিঠিতে শাওনের অভিযোগ ছিল, কিংবদন্তি নির্মাতা-সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জীবনের কিছু স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ‘ডুব’ ছবির চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে। যার মাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের মানহানি ঘটতে পারে বলেও আশংকা করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আমাদের সময়কে বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে শাওনের চিঠি এখনো দেখিনি। যতটুকু জানি, সেন্সরবোর্ডের দায়িত্ব হচ্ছে বিধি অনুযায়ী চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে কি-না, তা দেখা। আর আমার ‘ডুব’ ছবির চিত্রনাট্য কারো জীবনী অবলম্বনে নয়। একেবারেই মৌলিক একটি চিত্রনাট্য। পুরোটা বানানো একটি গল্প। এমন ছবির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা কতটা আইনানুগ হয়েছে, তা নিশ্চয়ই সেন্সরবোর্ড সদস্যরা ভেবে দেখবেন। পাশাপাশি এই অভিযোগের আইনগত কোনো ভিত্তি আছে কি-না, সেটাও দেখার বিষয়।’

এদিকে চিঠির বিষয়টি স্বীকার করে শাওন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি একটি চিঠি জমা দিয়েছি সেন্সরবোর্ডে। তবে, ছবিটি বন্ধ করার বিষয়ে ওই চিঠিতে আমার কোনও বক্তব্য ছিল না। কারণ, আমি ছবি বন্ধ করার কেউ নই। আমি শুধু আমার আপত্তির বিষয়গুলো তুলে ধরেছি সেন্সরবোর্ডের সদস্যদের সামনে।’

শাওন আরও বলেন, ‘চিঠিতে আমি স্পষ্ট ভাষায় বলেছি, ছবিটিতে যদি হুমায়ূন আহমেদ ও তার পরিবারের কোনও সদস্যদের বাস্তব জীবনের ছায়া কিংবা কোনও ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে যেন আইনানুগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কারণ, ছবিটির পরিচালক-প্রযোজক হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের কোনও সদস্যের অনুমতি ছাড়াই এটি নির্মাণ করেছেন। এই ছবির যে উপজীব্য বিষয়ের কথা শোনা যাচ্ছে, সেটি অত্যন্ত আপত্তিকর এবং বিভ্রান্তিকর বলেই মনে হচ্ছে আমার। ফলে সেন্সরবোর্ডের আইনের ধারা ধরেই ছবিটি ছড়পত্রের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি বোর্ডকে।’

যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘ডুব’ ছবিতে অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেতা ইরফান খান, ভারতের পার্ণো মিত্র, বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, রোকেয়া প্রাচীসহ আরো অনেকে।

উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, হুমায়ূন আহমেদের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ফারুকী নির্মাণ করেছেন ‘ডুব’। তারপরই শুরু হয় আলোড়ন, মাতামাতি ও বিতর্ক। যদিও এসব গুঞ্জন স্বীকার করেননি ফারুকী। সেসময় ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলছি, ছবির ক্রেডিট বা ক্যাম্পেইনে বা কমিউনিকেশন ম্যাটেরিয়েলে কখনও দাবি করিনি বা করার কোনো সম্ভাবনাও নেই যে, হুমায়ূন আহমেদের বায়োপিক বানাচ্ছি। আমরা কোনো বায়োপিক বানাচ্ছি না।’

তখন ওপার বাংলার সংবাদমাধ্যমকে হুমায়ূন আহমেদ কন্যা শীলা বলেছিলেন, “ফারুকীর ছবিতে যদি লেখা থাকে ‘এটা হুমায়ূন আহমেদের জীবন অবলম্বনে’ তাহলে অবশ্যই আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তিনি যদি কয়েকটি ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটা বানান, েেসেত্র আমার কিছু বলার নেই। এখন ছবিটা দেখেই যা বলার বলব।” শাওন বলেছিলেন, ‘একজনের ওপর ছবি করছি তার পরিবারের সঙ্গে কথা না-বলে, এটা আমার কাছে যথেষ্ট বিরক্তিকর।’