সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ ২:০২ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / সামান্য কয়টা টাকার জন্য আমার মেয়েকে কেন খুন করল?

সামান্য কয়টা টাকার জন্য আমার মেয়েকে কেন খুন করল?

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি  : ‘সামান্য কয়টা টাকার জন্য আমার মেয়েকে কেন খুন করল? আমার কাছে চাইত, প্রয়োজনে আমি কিডনি বিক্রি করে টাকা দিতাম।’ মেয়ের জানাজায় কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন সুমাইয়ার বাবা মিলন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী ইয়াসিন আলীর ছেলে প্রবাসী ইব্রাহীমের স্ত্রী লাকী আক্তারের (২৪) খাটের নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় লাশ দুটি স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। এর মধ্যে একটি লাশ মালিহা অপরটি শিশু সুমাইয়া।

এই ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে বাড়ির মালিক ভ্যান চালক ইয়াসিন আলী (৭৪), তার স্ত্রী তানজিলা খাতুন ও পুত্রবধূ লাকী আক্তাকে (২৪) আটক করে।

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার নামোসংকরবাটি ডিহিপাড়া করবস্থানে শিশু সুমাইয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার শুরুতেই সুমাইয়ার বাবা মিলন বলেন, আমার একটি মাত্র মেয়ে। সাত বছরের এই মেয়েটি ছিল আমার সব। এককোটি টাকা দিলেও কি কেউ একটি জান দিতে পারবেন? সামান্য কয়টা টাকার জন্য একজন মেয়ে হয়ে কীভাবে দুটি শিশুকে মেরে ফেলল। আমাকে বললে আমি প্রয়োজনে কিডনি বিক্রি করে তাকে টাকা দিতাম।

তিনি আরো বলেন, আমার মেয়ে এবং তার (লাকী) মেয়ে একই সাথে পড়ত, খেলাধুলা করত। আমাদের চারজনের কোলকে খালি করে দিল।

নামোসংকরবাটি ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে নামোসংকরবাটি ডিহিপাড়া করবস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে সুমাইয়ার বাবা মিলন দুবাইয়ে থাকায় তার ফেরার অপেক্ষায় সুমাইয়ার মরদেহ বুধবার ময়নাতদন্তের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জর সরকারি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সুমাইয়ার বাবা বাড়িতে এলে সুমাইয়ার মরদেহ নেওয়া হয় তাদের বাড়িতে। এই সময় লাশ একনজর দেখতে আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ছুটে আসেন সুমাইয়াদের বাড়িতে।

এদিকে শিশু দুইটির কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া কানের দুল ও গলার চেইন গ্রেফতারকৃত লাকি আক্তার বিক্রি করেছিলেন পৌর এলাকার নামোশংকরবাটী আঙ্গারিয়াপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে পলাশের (৩০) স্মৃতি জুয়েলার্সে। বুধবার রাতে পলাশকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাযহারু ইসলাম জানান, লাকী আক্তারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বুধবার রাতে পলাশকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছে লাকী আক্তার দুই শিশুর কাছ থেকে পাওয়া পৌনে এক ভরি সোনার চেইন ও কানের দুল বিক্রি করে একুশ হাজার টাকা নেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ গয়না কেনার কথা স্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে লাকী আক্তারের শ্বশুর ইয়াসিন আলী ও স্বর্ণের দোকানি পলাশকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্ধার পুরাতাত্তিক জাতীয় যাদুঘরে হস্তান্তর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা হতে শিবগঞ্জ থানা পুলিশের উদ্ধারকৃত পুরাতাত্তিক শিলালিপি বাংলাদেশ জাতীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *