ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

Home / slide / ব্যবসায়ীদের মৌসুমভিত্তিক হালখাতা এখন

ব্যবসায়ীদের মৌসুমভিত্তিক হালখাতা এখন

নুরুজ্জামান, বাঘা : এক সময় পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ব্যবসায়ীরা হালখাতা উৎসব করলেও এখন তার পরিবর্তন এসছে। ব্যবসায়ীরা এখন মৌসুমভিত্তিক হালখাতা উৎসব করে থাকে। আর মৌসুমভিত্তিক হালখাতার কথা বলতে গেলে আসে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সাথে এর একটা সম্পর্কের কথা। যেমন ধান, পাট, হলুদ, আখ, খেজুরের গুড়, আম ইত্যাদি। তবে আগাম আম বিক্রী এবং খেজুরের গুড়কে  কেন্দ্র করে রাজশাহীর বাঘা ও তার পাশ্ববর্তী এলাকায় জমে উঠেছে হালখাতা উৎসব।

হালখাতার প্রচলন সম্পর্কে জানা গেছে, এমন একটি সময় ছিল যখন “পহেলা বৈশাখের অন্যতম আয়োজন হতো হালখাতা উৎসব দিয়ে’’। আগের দিনে গ্রামের কৃষকেরা সাধারণত তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের কেনাকাটা করতেন বাকিতে। ফসল ঘরে উঠলে তাঁরা ফসল দিয়েই ঋণ পরিশোধ করতেন। মুদিদোকানিরা লম্বা খাতায় খাতকদের নাম লিখে রাখতেন। দোকানিরা বছরের শুরুতে পুণ্যাহর অনুসরণে নিজ নিজ দোকানে আমন্ত্রণ জানাতেন খাতকদের। খাতকেরা পুরোনো বকেয়া শোধ করে আগাম হিসেবেও কিছু শস্য দিতেন। ব্যবসায়ীরা ভালোমন্দ পানাহারের ব্যবস্থা রাখতেন। এদিন বেচাকেনা হতো না তেমন। দোকানটি ধুয়ে মুছে তকতকে করে তোলা হতো।

ব্যবসায়ীরা জানান,  হালখাতাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে হƒদয়ের বন্ধন সৃষ্টি হয়। সারা বছরের কেনা বেচার পরে বৎসরের নিদৃষ্ট কোন সময়ে মহাজনের আমন্ত্রণে তার খাতকগণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাদের হিসেব পরিষদ করে। সেই সাথে আগামী বছরের ব্যাবসা বাণিজ্য ও হƒদ্যতা আনন্দের সাথে পরিচালনার যোগ সূত্র সৃষ্টি হয়।

হালখাতা উপলক্ষে মহাজনরা এলাকা ভিত্তিক নানা রকমের উৎসব করে থাকে। কোন কোন এলাকায় ব্যাবসায়ীরা বিভিন্ন রকমের মিষ্টি যেমন- রসগোল্ল¬া, চমচম, জিলাপি, সন্দেশ ও ভাল খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। আবার কোন কোন এলাকায় আত্নীয় স্বজন ও জামাই দেরকে দাওয়াত করে খাওয়ানো হয় বাড়িতে। ফলে ঐ দিন একটি আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এ দিক থেকে রাজশাহীর বাঘা, পুঠিয়া, চারঘাট, আড়ানী, নন্দন গাছি এই সমস্ত অঞ্চলে হালখাতার দিনে অনেক ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা বাড়িতে গরু-খাসি কেটে মাইক বাজিয়ে হালখাতা উৎসব করে থাকেন। বিশেষ করে বাঘা উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে হালখাতা মানেই মাইকের ব্যবহার এবং বড় ধরনের খাওয়া দাওয়ার আয়োজন।

হালখাতা প্রসঙ্গে বাঘা উপজেলার একজন কাপড় ব্যাবসায়ী কামরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যে হালখাতা করে ফেলেছি। আপনার বাঁকি কতো ছিল? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,এবার বাঁকি ছিল প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা। তবে হালখাতা ভাল হয়নি। এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন, এটি আম এবং খেজুরের গুড় কেন্দ্রীক এলাকা। বর্তমানে বাজারে গুড় বেচা-কেনা হরেও এখন পর্যন্ত আম বেচা-কেনা জমে উঠেনি। তাই এবার ভাল হালখাতা হয়নি।

এ বিষয়ে এলাকার বিজ্ঞ জনদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, হালখাতা অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য বকেয়া আদায়। নতুন করে খাতা মহরত ও আগত বছরের জন্য একজন ব্যবসায়ীর সাথে আরেক জন ব্যবসায়ী এবং বাঁকিতে খরিদকৃত ক্রেতাদের সাথে মহাজনদের ভাব বিনিময়। এ দিক থেকে শহরের তুলনায় গ্রামে এর প্রচলন বেশি বলেও তারা মন্তব্য করেন।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

জঙ্গিবাদ ছেড়ে পুরস্কৃত বাঘার সুজন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : জঙ্গিবাদের পথ ছেড়ে সালাউদ্দিন আহমদ ফিরে আসতে চেয়েছিলেন স্বাভাবিক জীবনে। এ কারণেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *