Ad Space

তাৎক্ষণিক

দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতাকে চাকরিতে বহাল করল রাবি প্রশাসন

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত এক বিএনপি নেতাকে চাকরিতে বহাল করল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন। মোস্তাক আহমেদ (৩৫) নামে ওই ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার রাবির অর্থনীতি বিভাগের পিয়ন পদে যোগদান করেছেন।

এর আগে ২০১১ সালের ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৪৩৬তম সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়। ২০০৫ সালে তার বিরুদ্ধে রাজশাহীর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়। তখন মোস্তাক আহমেদ রাবির সংস্থাপন শাখায় প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলা দায়েরের পর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এরপর ২০০৭ সালে ওই মামলায় রাজশাহীর আদালত তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। এরপরই তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে তাকে আবারো চাকরিতে বহাল করা হয়েছে।

মোস্তাক আহমেদ রাজশাহী নগরীর বাজে কাজলা এলাকার মোতালেব মণ্ডলের ছেলে। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তিনি। তাকে চাকরিতে বহাল করার বিরুদ্ধে রাবি প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন মামলার বাদীর বাবা রমজান আলী। তার বাড়িও নগরীর বাজে কাজলা এলাকায়।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় মোস্তাক আহমেদকে রাজশাহী মহানগর জজ আদালতের বিচারক তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। চাকরি বাঁচাতে মোস্তাক এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করেন। উচ্চ আদালত তার সাঁজা কমিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ রায়ের বিরুদ্ধেও সর্বোচ্চ আদালতে আপীল করেন মোস্তাক। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত উচ্চ আদালতের রায় বহাল রাখেন। এরপর মোস্তাক আহমেদ এক বছর কারাভোগ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে। কিন্তু গত সিন্ডিকেট সভায় তাকে পুনরায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনি কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে বিদ্যমান আইনটি ১৯৮৫ সালের। ‘দি পাবলিক সার্ভেন্ট (ডিসমিসাল অন কনভিকশন) অর্ডিনেন্স-১৯৮৫’ তে বলা হয়েছে, ‘কোনো উপযুক্ত আদালত কোনো গণকর্মচারীর বিরুদ্ধে ৬ মাসের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা এক হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করলে তার প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করবেন।’ কিন্তু এমন আইন অমান্য করে মোস্তাককে চাকরিতে পুনরায় নিয়োগ দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রাবির সংস্থাপন শাখার সেকশন অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন কোনো কথা বলতে চাননি। তবে রাবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এন্তাজুল হক বলেন, ‘সিদ্ধান্ত এসেছে সিন্ডিকেট সভা থেকে। নিশ্চয় আমাদের আইন উপদেষ্টারা তাকে পুনরায় নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখেননি। তাদের মতামতের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তাকে নিয়োগ দিয়েছে।’

তিনি জানান, জেল থেকে বেরিয়ে মোস্তাক আহমেদ বরখাস্তকালীন সময়ের বেতন-ভাতা পরিশোধ ছাড়াই যোগদানের আবেদন করেন। পরে তাকে বরখাস্তকালীন সময়ের বেতন-ভাতা পরিশোধ ছাড়াই পুনরায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে রাবির অর্থনীতি বিভাগেই পাওয়া যায় মোস্তাক আহমেদকে। তিনি বলেন, তাকে বরখাস্তের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। কিন্তু আদালতে সে রিটের কোনো সুরাহা হয়নি। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়, উচ্চ আদালত থেকে রিট প্রত্যাহার করলে তাকে পুনরায় নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি রিট প্রত্যাহার করেন। এরপরই তাকে চাকরিতে বহাল করা হয়।

মোস্তাক বলেন, ‘৮ মাস ১২ দিনে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। সে জেল আমি খেটেছি। আগে বিএনপি করতাম, গতবছর থেকে সেটিও ছেড়েছি। চাকরি ফিরে পেতে বাঁধা থাকবে কেন?’