Ad Space

তাৎক্ষণিক

আতশবালিকা ও অন্যান্য কবিতা । জিললুর রহমান

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৭

সিক্ততা

 

আমাকে ভিজিয়ে দিলো

ধানকুটার কালো মেঘ

পরম মমতা ভরে

জড়িয়েছে

নরম তোমার মতো

হা খোলা বুকের গাঢ্

গোপন আরামে

আমাকে ভিজিয়ে দিলো

নমস্তে ঝর্ণার প্রপাতের জল

মা কালীর জিহ্বার মতো

নেমে এসে

পর্বতের চূড়া থেকে

ধারানের চপল বৃষ্টি

ঢুকেছে তো রন্ধ্রে রন্ধ্রে

চুলের আঁধারে

জামার চিপাতে

সকলেই জড়িয়েছে স্নেহে

তবে

আমার সিক্ততা

বুঝে নেবে

তেমন মমতা কোথায়

মেঘ কী বৃষ্টির বুকে

প্রপাতের জলে

ভাবছো, তুমি সেই মা পাখি

 

ভাবছো, তুমি সেই মা পাখি

যত্নে লালন করো ছানা

দানা

তুলে দিচ্ছো ঠোঁটে

মুখে

স্বেদবিন্দু জমে

গন্ডদেশে নাকে

তুমি ওড়ো, উড়ে যাও

উড়ে উড়ে নিয়ে আসো

খাবারের কুটো

পোনাদের নিয়ে মাতো

হাসো

ভালোবাসো

নিংডে নিচ্ছে

হাড় মজ্জা

স্বপ্ন

ভবিষ্যত

নিংড়ে নেয়

কলহাস্য

তবু শূন্য

শূন্যতা তোমাকে ডাকে

হাহাকারে

ছানার ডানার দিকে চেয়ে

বুক হু হু করে

কোন ফাঁকে

উড়ে যাবে ছানা

গৃহকোণ খালি শুধু

পড়ে থাকবে

ধান

ঘামগন্ধ

স্বেদবিন্দু

স্মৃতি

নড়েছে পর্দার বাঘ

 

নড়েছে পর্দার বাঘ হাওয়ায় জানলায় —

বজ্রের আগুন উড়ে আসে ত্রাস;

লণ্ডভণ্ড প্রাণের তৈজস আকাঙ্ক্ষার ভিটে

ঝলকে জ্বলজ্বল করে ডোরাকাটা সুতীক্ষ্ণ বিজুলি

আমরা রাখাল মন ভয়ে ত্রাসে থাকি,

প্রাণভয়ে চেঁচামেচি করি–

পাড়া কেঁপে ওঠে হাওয়াই বাঘের ত্রাসে ।

নড়েছে পর্দার বাঘ মনের জানলায়…

নিদ্রা

 

হায়! ৩০৯ বছর, নাকি ২০টা বছর ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলাম গুহার ভেতরে। পরম বিশ্বাসের ঘোরে আযৌবন কেটেছে গুহায়। ফিরে দেখি বদলে গেছে চেনা পথঘাট, হিজল তমাল আর ডাহুক কী মানুষের ভাষা — তোমার শরীরটুকু হরিতে মিলায়। আমিও হয়েছি হরি; তুমি কোন অন্তরীক্ষে — মেটেনি পিপাসা। সময় পেরিয়ে গেলে বিশ্বাসে মেলে না বস্তু, হায়! কী ভাগ্য লিখন! প্রিয় সারমেয় উধাও কোথায় …

আতশবালিকা

 

মহাশূন্য উজাড় করে উচ্ছসিত অযুত কিরণ ধেয়ে আসে কালে কালান্তরে, নক্ষত্ররাজির ফেরি । সুপার মার্কেটের চাতালেও বিচ্ছুরণ অজস্র ফোয়ারায়। উৎসব লোভী মানুষীরা হুল্লোড়ে মত্ত দোকানে সেসবে নিঃসাড়। তোমার দৃষ্টি কেন বর্ণময় স্বর্ণ নয় তবে! বাহারি ফুলের গায়ে অতীন্দ্রিয় আলোকসজ্জা অমারাতের দ্বিতীয় প্রহর। কে কন্যা আতশবালিকা আসমানী রশ্মিরজ্জু বেয়ে ওঠো অনন্ত ইথারে? আমারও রোশনাই প্রিয় চোখ; ধরবে কি উর্ধমুখী হাত …