Ad Space

তাৎক্ষণিক

দিনভর অবরুদ্ধ রেশম বোর্ডের মহাপরিচালক

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পরও বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের অর্ধশত কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী করা হয়নি। বিভিন্ন সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দিয়ে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে হচ্ছে। কিন্তু গেল চার মাস ধরে তাও বন্ধ।

এদিকে বকেয়া আদায়ের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে দিনভর রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আনিস-উল-হক ভূঁইয়াকে তাঁর দপ্তরে অবরুদ্ধ করে রাখেন কর্মচারীরা।  তবে দাবি মানার বিষয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে মহাপরিচালক বলেন, চাকরি রাজস্বখাতে অন্তর্ভূক্ত করার প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এখনো থোক বরাদ্দ না পাওয়ায় বেতন ভাতা পরিশোধ করা যাচ্ছে না।

জানা গেছে, ‘প্রটেকশন অব সেরিকালচার স্টাবলিশমেন্ট সীড ককোন প্রডাকশন সেন্টার অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি রিসার্চ প্রকল্পের আওতায় ১৯৯০ সালের জুলাইয়ে অস্থায়ীভাবে ৫০ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিল রেশম বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ১৯৯৬ সালে নভেম্বরে ওই প্রকল্প শেষ হয়ে যায়। ফলে চাকরি হারান কর্মচারীরা। কিন্তু চাকরি রাজস্বখাতে অন্তর্ভূক্ত করার দাবিতে হাইকোর্টে রিট করলে কর্মচারীদের পক্ষে রায় দেন আদালত। সবশেষ ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর আপীলের রায়েও হেরে যায় সরকারপক্ষ। রায়ে আদালত তাদের চাকরি রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনো তাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়নি। এরই মধ্যে কয়েকজন মারাও গেছেন। যারা চাকরি করছেন তারাও ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেন না।

কর্মচারী নেতা গোলাম মর্তুজা জানান, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পর তা আমলে নেয়া হচ্ছে না। ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আমাদের চাকরি রাজস্বখাতে স্থানান্তরের সম্মতি জানিয়ে চিঠিও দিয়েছে। আইনী কোনো বাধাও নেই। কিন্তু আদালতের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা সংসার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। তাই বাধ্য হয়ে অবরোধ কর্মসুচি শুরু করেছি।

এদিকে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আনিস-উল-হক ভূঁইয়া জানান, কর্মচারীদের বেতন ভাতা রাজস্বখাতে অন্তর্ভূক্ত করতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে রেশম  বোর্ডের ভিন্ন প্রকল্প থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতন হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অর্থ মন্ত্রণালয় থোক বরাদ্দ না দেয়ায় বকেয়া পরিশোধ করা যাচ্ছে না। বরাদ্দ পেলে পরিশোধ করা হবে।