নভেম্বর ২৪, ২০১৭ ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত

ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত

রিমন রহমান: ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত’- কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অমীয় বাণীটি ঋতুরাজ বসন্তকে আলিঙ্গনের আহ্বান জানায়। তবে ফুল ফোটা নিয়ে কবির শঙ্কা থাকলেও আজ ফুল ফুটেছে। দখিন হাওয়ার গুঞ্জরণও লেগেছে। ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে উঠছে প্রকৃতি। মাঘের শেষ দিক থেকেই রাজশাহী অঞ্চলে গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। শীতের খোলসে থাকা কৃষ্ণচূড়া আর শিমুল অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে। বাতাসে সে ফুলের গন্ধ ভেসে এসে বলছে- বসন্ত এসেছে।

আজ পহেলা ফালগুন। ঋতুর রাজা বসন্তের প্রথম দিন। ‘বসন্ত’ মানেই ফুলের স্ফুরণ, চোখ-ধাঁধানো ফুলের সমাহার। রাজশাহীর বাজারগুলোও এখন বসন্তের ফুলে ভরপুর। গোলাপ, গাঁদা, ডালিয়াসহ বাহারি নামের বর্ণালী ফুলগুলো বাজারে এসেছে অনেক আগেই। তবে গতকাল থেকে দামটা একটু চড়া। আজ বসন্তের প্রথম দিনে তরুণীরা মাথায় পরছে ফুলের মুকুট। তাই গতকাল থেকেই ফুলের দাম বেড়েছে কিছুটা।

যান্ত্রিকতার এ শহরে প্রকৃতি দেখার তেমন একটা সুযোগ পান না নগরবাসী। কিন্তু আজ কোকিলের ডাক, লাল টুকটুকে কৃষ্ণচূড়া আর আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে তরুণ-তরুণীরা ঘরে বসে থাকতে রাজি নন। তাই তো গায়ে হলুদ আর বাসন্তি রঙের শাড়ি পরে হাতে হাত রেখে তারা বেরিয়ে পড়েন। পাঞ্জাবি পরে তরুণরাও আজ নিজেদের সাজায় রঙিন সাজে। বসন্তকে ঊষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো আজ রাজশাহীতেও আছে নানা কর্মসূচি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণিল সাজে সজ্জিত হবে শিক্ষার্থী।

রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদও বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করবে। পরে রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে ঢাকবাদন, আবৃত্তি, নিবেদিত কবিতাপাঠ, গান ও নৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের জেলা শাখা, কবিকুঞ্জ, ধ্র্বপদালোক ও রাজশাহী আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র এতে অংশগ্রহণ করবে।

এদিকে, নগরীর নিক্কণ নৃত্য শিল্পী গোষ্ঠীও বসন্তকে বরণ করতে নিক্কণ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন, নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দীন আহমেদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন সোনালী সংবাদের সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী, শিক্ষাবিদ ড. ফরিদা সুলতানা প্রমূখ। নগরীর বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজও বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় এর উদ্বোধন করবেন সোনালী সংবাদ সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী।

বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। ওই বছর থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে। ১৯৬২ সাল থেকে ঢাকায় বসন্ত উৎসবের আয়োজন করছে ছায়ানট। দিনে দিনে তা ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। এখন ফুল ফুটুক, না ফুটুক, মঙ্গল শোভাযাত্রা হোক আর নাই সভা হোক- ফালগুনের প্রথম দিন বসন্তের শুরু। সে ফাগুনের হাওয়া লেগেছে প্রকৃতিতে। তাই আজ উৎসবের দিন। আজ দখিনা হাওয়া, মৌমাছিদের গুঞ্জরণ আর কোকিলের কুহুতানে জেগে ওঠার দিন।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

বাস ডাকাতিতে বাধা দিতে গিয়ে রাবি শিক্ষক আহত

রাবি প্রতিবেদক : নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী গ্রামীণ ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী (এসি) বাসে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *