Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • বিভিন্ন দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ইয়্যাস নেতৃবৃন্দ– বিস্তারিত....
  • কর্মচারীদের নির্বাচনে দুই কর্মকর্তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ– বিস্তারিত....
  • রাজশাহী বিভাগে এক হচ্ছে রবি-এয়ারটেল নেটওয়ার্ক– বিস্তারিত....
  • রমজানে চাহিদা পুরণ করছে বাঘার মুড়ি– বিস্তারিত....
  • গুজবে বরখাস্ত দুই স্কুল শিক্ষক!– বিস্তারিত....

লালপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৭

নাজমুল হাসান, নাটোর : নাটোরের লালপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদ ও কনস্টেবল সালামের বিরুদ্ধে এক নারীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের হাতে আটক ভাইকে ছাড়ানোর বিনিময়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন ওসি। অপরদিকে, ওই নারীকে সহায়তার বিনিময়ে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর প্রস্তাব দেন কনস্টেবল। ইতিমধ্যে ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চেয়ে গত ৭ ফেব্র“য়ারি পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিপক্ষের দেওয়া হয়রানিমূলক মামলায় জামিনে থাকা লালপুর বিশ্বম্ভরপুর গ্রামের বাসিন্দা ইশ্বরদী সরকারী কলেজের ছাত্র রমজান আলীকে গত ২৭ জানুয়ারি ডেকে নিয়ে যায় লালপুর থানা পুলিশ। পরদিন তার বোন সাথী আরা খাতুন থানায় গেলে রমজানকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন থানার ওসি আবু ওবায়েদ। দাবীকৃত টাকা না পেয়ে অন্য একটি চুরির মামলায় জড়িয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয় রমজানকে।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়, সাথী খাতুনকে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে নিজের ভিন্ন নাম বলে সাথী আরা খাতুনের মোবাইল নম্বর রেখে দেয় কনস্টেবল সালাম। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে সহায়তার বিনিময়ে সাথীকে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয় কনস্টেবল সালাম। যার অডিও রেকডিং চলে আসে গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে। পুলিশের এমন আচরণে রীতিমতো আতংকিত সাথী আরার পরিবার ও এলাকাবাসি। তারা দ্রুত পুলিশী হয়রানি থেকে প্রতিকার পেতে চান।

এসব বিষয়ে জানতে লালপুর থানায় হাজির হলে সাথী খাতুনের সাথে কথোপকথনের বিষয়টি স্বীকার করলেও অনৈতিক প্রস্তাবের কথা অস্বীকার করেন অভিযুক্ত কনস্টেবল। পরবর্তীতে অডিও রেকডিংয়ের কথা বললে সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয় কনস্টেবল সালাম। থানায় কার অনুমতি নিয়ে ঢুকেছে বলে প্রশ্ন তোলে কনস্টেবল সালাম। ওসির সাথে দেখা করার কথা বললেও আটকে দেয় সালামসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা। থানার বাইরে থেকে মোবাইলে ওসির সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ওসির কোন প্রকার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী সাথী আরা খাতুন জানান, অনেক আশা নিয়ে পুলিশ সুপারের দারস্থ হয়েছি। তিনি অবশ্যই ন্যায় বিচার করবেন।

রমজান আলী ও সাথীর বাবা আলাউদ্দিন মন্ডল ও মা মরিয়ম বেগম জানান, পুলিশ টাকা না পেয়ে আমার জামিনে থাকা ছেলেকে চুরির মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠিয়েছে। রমজান ইশ্বরদী কলেজে বাংলা অনার্সে পড়ে। এখন তার লেখাপাড়ার কি হবে?

মোহরকয়া গ্রামের বাসিন্দা রুবেল হোসেন জানান, পুলিশ যদি অন্যায় করে, তবে তারও বিচার হওয়া দরকার।

দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক জানান, পুলিশ সুপার বরাবর যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন। নইলে জনগণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

পুলিশি হয়রানির প্রতিকার চেয়ে গত ৭ ফেব্র“য়ারি পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগি সাথী আরা খাতুন। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার।