Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • রাবিতে দুর্বৃত্তদের হাতে ছিনতাইয়ের শিকার জবি শিক্ষার্থী– বিস্তারিত....
  • তানোরে তালন্দ কলেজ হোস্টেলে স্থানীয় বখাটেদের হামলা, আহত ৩– বিস্তারিত....
  • দুর্গাপুরে বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু– বিস্তারিত....
  • তানোরে এক গাঁজা ব্যবসায়ীসহ মাদক সেবী গ্রেফতার– বিস্তারিত....
  • এবার নিষিদ্ধ হলেন পরিচালক রনি– বিস্তারিত....

মুসলিম নিষেধাজ্ঞা, গন্তব্য এবার সুপ্রিম কোর্ট

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭

সাহেব-বাজর ডেস্ক : সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র সফরে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার ওপর ৩ জানুয়ারি স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জেমস রবার্ট। সিয়াটলের আদালতে দেওয়া তার ওই স্থগিতাদেশের পর সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক নাইনথ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস-এর শরণাপন্ন হয় ট্রাম্প প্রশাসন। সেখানেও ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ বহাল থাকল। এখন কী হবে?

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেখানেও রায়কে  নিষেধাজ্ঞার পক্ষে নেওয়া কঠিন হবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে। নিষেধাজ্ঞার যুক্তির পক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ না থাকা, বিচারপতিদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা, নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সাংবিধানিক অবমাননার প্রশ্নগুলো ট্রাম্পের জয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এখন ফেডারেল আদালত সুপ্রিম কোর্টকে রায় পর্যালোচনার (রিভিউ) আহ্বান জানাতে পারে। তবে সেখানেও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে বিজয়ী হওয়া কঠিনই হবে। কেননা নিষেধাজ্ঞার সপক্ষে যথেষ্ট যুক্তি উপস্থাপন করতে পারবেন না তারা।

ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রথম রায় এসেছিল ৩ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে। আদালতের স্থগিতাদেশে থমকে গিয়েছিল ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। তা পুনর্বহালের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে আপিল আবেদন করা হয় বৃহস্পতিবার । সেই আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশটি আপিল কোর্টও বহাল রেখেছে।

সান ফ্রান্সিসকোতে,  আপিল সংক্রান্ত ৯ম সার্কিট আদালতের দেওয়া এই রায়-এর পর টুইটার বার্তায় ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়ে লিখেন, ‘আদালতেই দেখা হবে’। এখন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে ৮ বিচারপতি। ৯ম বিচারপতির নিয়োগ নিয়ে ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকান দ্বন্দ্ব চলছে। বেঞ্চে থাকা আট বিচারপতির মধ্যে ৪ জন ডেমোক্র্যাটপন্থী। আর বাকী চারজন রিপাবলিকান। এখন প্রথমত, আদালতের রায়কে মুসলিম নিষেধাজ্ঞার পক্ষে নিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে ডেমাক্র্যাটপন্থী অন্তত একজন আইনজীবীর সর্মথন নিশ্চিত করতে হবে।

বিকল্প একটি পথও নিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট। তারা বিতর্ক এড়িয়ে খোদ মুসলিম নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে করা ট্রাম্পের আপিল আবেদন খারিজ করে দিতে পারে। তারা বলতে পারে, অন্যান্য আদালতে যেভাবে এই মামলা চলছে সেভাবেই তা চলতে থাকবে। সেক্ষেত্রে ডিট্রিক্ট কোর্টেই মামলার নিস্পত্তি হতে পারে। তবে ট্রাম্প ‘আদালতে দেখা হবে’ বলেছেন। তাই ধারণা করা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট এ ব্যাপারে ভূমিকা নেবে।

নবম সার্কিট আপিল আদালত শুধু একটি ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত নেবে। ওই কোর্ট রুলিংয়ে কেবল একটি প্রশ্ন নিস্পত্তি করার আবেদন রয়েছে। সেটি হলো, নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দেওয়া বিচারপতি জেমস রবার্টস-এর স্থগিতাদেশ যথাযথ কিনা। এ সংক্রান্ত অন্যান্য আইনি প্রশ্ন আলাদা আলাদা বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিস্পত্তি করতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক কিনা, সেটাও নিস্পত্তি করতে হবে ভিন্ন বিচারিক প্রক্রিয়ায়।

কিন্তু ওই সাময়িক আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে যে লড়াই চলছে তা থেকে আভাস পাওয়া যায়, এই আপিল সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিতে পারে। ফেডারেল সরকার এ মামলায় জয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারবে কিনা কিংবা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হলে তাৎক্ষণিক এবং অপূরণীয় ক্ষতি কতটুকু হবে; তা নির্ধারণের সুযোগ ছিল আপিল আদালতের। নবম সার্কিট আদালতের রুলে বলা হয়, সরকার কোনও কিছুই দেখাতে পারেনি।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সংশ্লিষ্টতা থাকার ব্যাপারে সরকার প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি উল্লেখ করে এ রায় দেওয়া হয়। আর এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাত মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিক ও শরণার্থীদের প্রবেশে বাধা থাকছে না। তিন বিচারপতি তাদের বৃহস্পতিবারের রায়ে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক কিনা, তা নিস্পত্তির আগে কোনওভাবেই এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধের স্থগিতাদেশ স্থগিত করা যায় না।