Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • রাবিতে দুর্বৃত্তদের হাতে ছিনতাইয়ের শিকার জবি শিক্ষার্থী– বিস্তারিত....
  • তানোরে তালন্দ কলেজ হোস্টেলে স্থানীয় বখাটেদের হামলা, আহত ৩– বিস্তারিত....
  • দুর্গাপুরে বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু– বিস্তারিত....
  • তানোরে এক গাঁজা ব্যবসায়ীসহ মাদক সেবী গ্রেফতার– বিস্তারিত....
  • এবার নিষিদ্ধ হলেন পরিচালক রনি– বিস্তারিত....

ধুমধাম করেই ছেলের নাম রাখলেন মুক্তি

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭

রিমন রহমান : ‘সবকিছুই স্বপ্নের মতো লাগছে। বাড়িতে এমন আয়োজন হবে ভাবিনি। বুকের ধনকে ফিরে পাব কী না তাই তো ভাবতে পারিনি। আর এমন আয়োজন সে তো স্বপ্ন!’

চুরি হয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পেয়ে তার নাম রাখার অনুষ্ঠান দেখে এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা বলছিলেন মুক্তি খাতুন (১৮)। রাজশাহীর পবা উপজেলার চর শ্যামপুরে মুক্তিদের বাড়িতে শুক্রবার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দাওয়াত করা হয় আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, পুলিশ, সাংবাদিকসহ ২০০ মানুষকে।

মুক্তি বলেন, ‘পুলিশ ও আপনাদের (সাংবাদিক) সহায়তায় আমি আমার বুকের মানিককে ফিরে পেয়েছি। আমাদের কাছে এই অনুষ্ঠানটাই অনেক ধুমধামের। আপনারা এসেছেন, খুব খুশি হয়েছি। আমার ছেলেকে দোয়া করবেন। ছেলেকে আমার কোরআনের হাফেজ বানাবো।’

মুক্তির মামা শহিদুল ইসলাম (৩০) জানালেন, বাচ্চাটির আকিকা দিতে ক’দিন আগে সাড়ে সাত হাজার টাকায় হাট থেকে একটি ছাগল কিনে আনা হয়। শুক্রবার সকালে সেটি আকিকা দেয়া হয়। তখন বাচ্চাটির নাম রাখা হয় ‘ফাহিম আজমল’। এর অর্থ অতিসুন্দর ও বুদ্ধিমান। আকিকা দেয়ার আগ মুহুর্তে শহিদুল ইসলাম নামটি প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ ও সাংবাদিকসহ সবাই তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

জন্মের ২১ দিন পর নাম রাখা হলো শিশুটির। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারী রাজশাহী মহানগরীর একটি নগর মাতৃসদনে জন্মের মাত্র ৬ ঘন্টা পর বাচ্চাটি চুরি হয়ে যায়। এর ৮ দিন পর নগরীর বাসার রোড এলাকার শাহিন আক্তার ওরফে সুভ্রা (৩২) নামে এক নারীর ভাড়া বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। সুভ্রা নগরীর একটি বেরসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ছিলেন। বাচ্চা চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। সুভ্রার স্বামী আক্তারুজ্জামান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক।

মুক্তির বাবা মুক্তার আলী দিনমজুর। স্বামী করেন কুলির কাজ। সুভ্রা নিজেকে একজন এনজিওকর্মী পরিচয় দিয়ে মুক্তিদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন সন্তান প্রসবের সময় তিনি মুক্তিকে আর্থিক সহায়তা করবেন। এরপর তিনিই মুক্তিকে নগর মাতৃসদনে ভর্তি করেছিলেন। তারপর মুক্তি সন্তান প্রসব করলে নবজাতকটিকে নিয়ে তিনি পালিয়ে যান। এরপর পুলিশ সিসি ক্যামেরা থেকে সুভ্রার একটি ছবি উদ্ধার করে। গণমাধ্যমে সেই ছবি প্রকাশ হওয়ার পর পুলিশ সুভ্রার পরিচয় জানতে পারে। এরপরই বাচ্চাটি উদ্ধার হয়।

মুক্তিদের বাড়িতে টিন দিয়ে ঘেরা দুটি ঘর। ঘর দুটো দেখিয়ে মুক্তির মা রোজিনা বেগম (৪০) বলেন, ‘এই আমাদের ঘর। এমন ঘর দেখে সুভ্রা ভেবেছিল বাচ্চা চুরি করে নিয়ে পালিয়ে গেলেও আমরা কিছু করতে পারবো না। কিন্তু আমরা ওই মাতৃসদন ছেড়ে আসিনি। বলেছি- বাচ্চা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে যাব না। আমরা হাসপাতালেই ছিলাম। ৮ দিন পর বাচ্চা উদ্ধারের কথা শুনে ইচ্ছে করছিল সেখানে পাখির মতো উড়ে যাই। পরে আমরা মা-মেয়ে অটোরিকশায় করে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি- পুলিশ সুভ্রাকেই বাচ্চাসহ ধরেছে।’

ফাহিম আজমলকে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার দিনই নানি রোজিনা থানায় মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় সুভ্রা এখন কারাগারে। রিমান্ডে সুভ্রা পুলিশকে জানিয়েছেন, তার পাঁচ বছরের একটি মেয়ে আছে। কিন্তু ছেলে সন্তানের জন্য স্বামীর পক্ষ থেকে প্রচণ্ড চাপ ছিল। তাই তিনি বাচ্চাটি চুরি করেছিলেন। বাচ্চা চুরির সঙ্গে এ মামলায় গ্রেফতার মাতৃসদনের মাঠকর্মী তহুরা খাতুনের (৩০) কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর শাহমখদুম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিয়ার রহমান জানান, বাচ্চাটি নিয়ে যেন কোনো বিতর্ক না থাকে এবং আদালতে বিচারকাজ যেন স্বচ্ছভাবে শেষ হয়- সে জন্য বাচ্চাটির ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত ১ ফেব্রুয়ারী বাচ্চাটিসহ তার মা ও বাবার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে সেখান থেকে প্রতিবেদন এখনও আসেনি। যত দ্রুত সম্ভব মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।