Ad Space

তাৎক্ষণিক

কপিলাবস্তু ও অন্যান্য কবিতা । মোস্তাফা তারিকুল আহসান

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৭

শৈশব

কোথাও বৃষ্টি হয়েছে এখনো তার সৌরভ মিশে আছে জানালার গরাদে পুরাতন  শৈশবের মতো।

যেমন ফিরে আসে কাকাতুয়া শুকনো জারুলের ডালে আর আমাদের

লোনাধরা দিনের ছবি আমরা তীর্যক গেথে ফেলি বিকেলের এক ফালি আকাশে

ভীরুতার গান কিংবা যৌবনের ভ্রুকুঞ্চন আর বান্ধবীর নরোম চোখ আমাদের কল্পনার রাজ্যে

ঘুরপাক খায়। ধানের খেতের মতো রুপালি উঠোনে আমরা আর সমবেত হব না জানি

কপালের ঘাম মুছে, নাকের শুকনি ফেলে আমি ছুটে যাবো  না নরহরি কাকার গল্পের আসরে

অথবা মৃত সায়রে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে কতিপয় বন্ধুর সাথে মেতে উঠবো না পুরাতন তর্কে।

ফেলে আসা দিন স্বভাবতই উজ্জ্বল মনে হয় আর আমরা খুঁজে ফিরি শৈশবের সাদা কালো

পাণ্ডুলিপি, বাঁশবাগানের ধারে,  নয়নজুলির কিনারে আমাদের অবিমিশ্র আনন্দযোগ আমাকে

ডাকে ঈশারায়– চেনা তক্ষক  বলে সব ঠিকঠাক ছিল। সব আকাঙ্ক্ষার ডালপালা বিস্তৃত ছিলো

সন্ধ্যার প্রগাঢ় রঙে– দারুণ শৈশবে সে তো আজো দিগন্তে উঁকি দিয়ে ডাকে  পুরনো সোদা গন্ধের মতো।

কপিলাবস্তু

কপিলাবস্তু যাবার পথে আমাকে শুধায় কাকাতুয়া, আর কত পথ বাকি? আর

কত ধুলো রুখুমুখ কর্কটক্রান্তির ঘোর? আমি নিরুত্তাপ থাকি। আমাদের

কালখণ্ডে পথই তো একমাত্র উপায় সামান্য প্রলোভনের; চোখের তারার রঙ

মুছে যাবার আগে যতটা পারা যায় অঞ্জন মেখে নিতে হবে; পুরাতন

গ্রীস্মের লালরঙের জলের পুকুরে উবু হয়ে  কাঁদায় আমরাও হাঁসের

মতো বসে থাকবো অজস্র দিন। আমরাও অতল গভীরে নামার আগে ভেঙে

ফেলতে চাই আলস্যের নির্বেদ; ভ্রুকুটি সন্ধ্যের রাগে আমরা সারগাম ঠিক

করে নিতে চাই ভাতখণ্ডে। নালন্দার বারন্দায় বসে গোটাকতক ভিক্ষু

আমাদের নতুন পৃথিবীর জাদুবাস্তবতা থেকে মুখ সরিয়ে নিতে বলে। বলে,

কাছে পিঠের আমসত্বে মজে যেও না বাছা , বরং চোখ রাখো ওপরে– সমুদ্র

নদের ধারে বসে প্রাণ ভরে বাতাস নাও– বুঝে নাও জীবনের মর্মাথ।

কাকতাড়ুয়া রাজা হবার আগে তুমি শেষ  চেষ্টা করে দেখ, পার কিনা–

মানুষ আর মানবতা নিয়ে চাঁদ সওদাগর তো বাণিজ্যে যায় নি কোনদিন।

তাহলে তোমরা থাম একটু বাপু। আমি হাঁটতে থাকি মন্দ্র বাতাসের সাথে।

আরো কিছু নর-নারী মৃদুমন্দ তালে আমাদের পিছু নিতে চায়।

স্কুলের খাতা

তোমার স্কুলের খাতা বাতাসে উড়ে গেলে তুমি কী খুব কষ্ট পেতে?

কবিতা নাকি দুটো ছড়া লেখা ছিল সে খাতায়? কাকেরা  নিয়ে

খেলত, তার নিচে ঘেউ ঘেউ করতো কয়েকটি কুকুর। তোমার

উদ্বিগ্ন মুখ দেখে আমি বেশ বিষণ্ন হয়েছি; না তোমার কবিতা

না তোমার ছড়া, তোমার রৌদ্রবর্ণ মুখে হারিয়ে যাওয়া কবিতার

অক্ষর বর্ণ যতি চিহ্ন খেলা করে– হালকা দুপুরে  জামরুলের

মতো তোমার নাক উত্তেজিত হয়– মুখ ফুলে যায়।  তুমি কীভাবে কবি

হয়ে উঠলে কবে আমি জানতে পারিনি, তবে তোমার

রৌদ্র কবিতার সুবাস পেতাম; তোমার লাল ফ্রকে কবিতার রঙ

আর লালিমা লেগে  ছিল ঘণ আস্তরণে। একে কোন নাম দিই নি

আমি। তুমি যখন উবু হয়ে মাটিতে বসে নিচু বেঞ্চে পঙক্তি লিখে যেতে

আমি আনমনে বানান দেখার অজুহাতে উঁকি দিতাম; নীল রঙের

তোমার স্কুল খাতার কাভার-পেজ আকাশের  সাথে একাকার

হয়ে যেত। তোমার সেই খাতা কী তুমি ফিরে পেয়েছিলে?

আমার মনে নেই। তুমি কী শেষ পর্যন্ত পরিপূর্ণ কবি হয়ে

উঠেছিলে? আমি জানি না। তবু সেই নীল স্কুল খাতা অথবা

তার কয়েকটি লাইন আমাকে নীল অবগাহনে ভাসিয়ে নিয়েছিল সেদিন।