আগস্ট ১৭, ২০১৭ ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
Home / slide / হলুদ চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

হলুদ চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

নুরুজ্জামান, বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় হলুদ চাষ করে কৃষকদের ভাগ্য বদলে গেছে। বিশেষ করে উপজেলার সমতল ও চরাঞ্চল এলাকায় এ বছর  ব্যাপক  পরিমান হলুদের  চাষাবাদ হয়েছে। সম্প্রতি এই হলুদকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে চাতাল। এর মধ্যে আড়ানী এলাকায় রয়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লক্ষ্য করা গেছে, পতিত ও বাড়ির পার্শ্ববর্তী আবাদি জমিতে অন্যান্য ফসলের ন্যায় এবার অনেক কৃষক হলুদ চাষাবাদ করছেন। কৃষকদের মতে, বিগত বছর গুলোয় হলুদ আবাদ করে ব্যাপক ভাবে লাভবান হওয়ায় পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে এবার কৃষকরা  বেশি জমিতে হলুদ আবাদ করেছেন। সম্প্রতি এ সব হলুদ উত্তোলন শুরু হয়েছে। এই হলুদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে হলুদ শিদ্ধ ও শোকানোর জন্য বড় বড় চাতাল। এর মধ্যে আড়ানী এলাকায় গড়ে উঠেছে অর্ধ শতাধিক চাতাল।

অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, অল্প সময় ও কম পরিশ্রমে বেশি লাভ এবং কীটনাশকের  তেমন একটা প্রয়োজন হয় না হলুদ আবাদে। এ কারনে অনেকেই আম বাগানসহ প্রতিতি জমিতে হলুদ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়ছেন। হলুদ চাষিরা জানান, এক শতক জমিতে ৬ থেকে ৭ শত টাকা খরচ  করে হলুদ চাষ করে ৩ থেকে ৪ মণ হলুদ পাওয়া যায়। ওই হলুদ ভাল দাম পাওয়া গেলে বিক্রি হয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায়। আর শ্রমিকরা সকাল ৮ টা হতে বেলা ১ টা পর্যন্ত হলুদ তুলে মজুরি পান ২০০ টাকা। এতে করে তারাও আর্থিক ভাবে লাভবান হন।

উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলের কৃষক হাফিজুর রহমান জানান, তিনি বিগত সময়ে চরের মাটিতে কখনোই হলুদের চাষবাদ করেননি। কিন্তু গত বছর হলুদ আবাদিরা বাম্পার দাম পাওয়ায় তিনি এবার প্রায় দুই বিঘা জমিতে হলুদ আবাদ করেছেন।  তিনি ইতোমধ্যে ওই হলুদ তুলে গরম পানিতে সিদ্ধ করার পর রোদে শুকাচ্ছেন বলে জানান।

এদিকে নিজ উদ্যোগে উপজেলার বাউসা এলাকার একটি আম বাগানে হলুদ চাষ করেছেন উদ্যমী যুবক  আবদুল ওহাব।  তিনি একাধারে একজন কৃষক ও শিক্ষক। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি এ বছর প্রায় তিন বিঘা জমিতে হলুদের চাষ করেছেন। এর মধ্যে এক বিঘা রয়েছে আম বাগান। তার মতে, শ্রম ও সাধনা দিয়ে ফসল আবাদ করলে যে কোন আবাদে সাবলম্বী হওয়া সম্ভব।

আবদুল ওহাব জানান, হলুদ চাষের সময় তিনি ১১ হাজার টাকার বীজ ক্রয় করে হলুদ রোপণ করেন। রোপিত হলুদের গাছ গজানোর সময় দুই একটি সেচ ও পরিমান মত রাসায়নিক সার ছাড়া তেমন কিছুই দেননি। বর্তমানে তার যে পরিমান হলুদ উৎপাদন হয়েছে তাতে খরচের তুলনায় দশ গুন বেশি টাকা আয় হবে ।

অপর দিকে আড়ানী এলাকার বাসিন্দা ও পৌর কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক রাজ, নওটিকার আমজাদ হোসেন, তেথুলিয়ার সাইফুল ইসলাম, বলিহার গ্রামের আবদুল জলিল, আমোদ পুর গ্রামের আলী আকবর ও শাজাহান আলীসহ আরো অনেকে জানান, সরকার হলুদের ন্যায্য বাজার উপহার দিতে পারলে এ দেশে কখনোই হলুদ সংকোট হবে না। বর্তমানে রাজশাহী অঞ্চলে যে পরিমান আম বাগান রয়েছে তার মধ্যে সবাই যদি কমবেশি হলুদ চাষাবাদ করে তাহলে দেশের চাহিদা পুরনের পর বিদেশেও রপ্তানী করা সম্ভব।

আড়ানী এলাকার হলুদ ব্যবসায়ী সিদ্দিক শেখ, শাহাদত হোসেন, বাবুল মিঞা, উজির প্রাং, ইদ্রিশ  আলী ও সাত্তার  জানান,  বর্তমানে আড়ানী পৌর এলাকার মধ্যে কাঁচা হলুদ কেনা ও সিদ্ধকরে শুকানোর পর বিক্রী’র নিমিত্তে প্রায় ৫০ টির অধিক চাতাল তৈরী হয়েছে। এ সমস্ত চাতালে ভাল হলুদ (কাঁচা) ৬ শ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বেচাকেনা হচ্ছে। অপর দিকে সুখানোর পর ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রী করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান , হলুদ উৎপাদনের ক্ষেত্রে জেলা অফিস থেকে লক্ষ্য মাত্রার কোন তালিকা দেয়নি। তাই কত বিঘা জমিতে হলুদ উৎপাদন হচ্ছে তা সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ধারনা করা হচ্ছে ,এ উপজেলায় প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ হচ্ছে। তার মতে, অত্র উপজেলার মাটি হলুদ উৎপাদনের জন্য অত্যান্ত উপযোগী। তিনি হলুদ চাষের জন্য কৃষকদের সু-পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

সোনাইমুড়ীতে মাজারের খাদেমকে গলাকেটে হত্যা

সাহেব-বাজার ডেস্ক :  নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় এক মাজারের খাদেমকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *