Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • চার মাসেও শনাক্ত হয়নি লিপুর ঘাতকরা– বিস্তারিত....
  • মশার প্রকোপে অতিষ্ঠ রাবি শিক্ষার্থীরা– বিস্তারিত....
  • শিশু মেঘলা ও মালিহার হত্যাকান্ডের বিচারের দাবীতে মানবন্ধন– বিস্তারিত....
  • উপজেলা চেয়ারম্যানদের মূল্যায়নের অঙ্গীকার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের– বিস্তারিত....
  • নাটোরে হয়রানীমূলক মামলা থেকে কলেজ ছাত্র জামিনে মুক্ত– বিস্তারিত....

শহীদ স্বামীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত জাহানারা

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তার স্ত্রী জাহানারা জামান। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর কাদিরগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর কবরের পাশে দাফন করা হয়। তার দাফনকার্যে হাজারো মানুষের ঢল নামে।

এর আগে দুপুর ২টায় রাজশাহীর হযরত শাহমখদুম (র.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জাহানারা জামানের দ্বিতীয় জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী-১ আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-২ আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৫ আসনের এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারসহ জাহানারা জামানের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনেরা অংশ নেন।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অনেক নেতাসহ জেলা ও মহানগরের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঢল নামে জাহানারা জামানের জানাযায়। অংশ নেন রাজশাহী জেলার স্থানীয় সরকারের সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং সর্বস্তরের মানুষও। জানাযা পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জাহানারা জামানের বড় ছেলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তার মায়ের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান।

৮৪ বছর বয়সে রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার গুলশানে নিজ বাসায় মারা যান জাহানারা জামান। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, চার মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। সোমবার বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে তার প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর জাহানারা জামানের মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছিল।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশে বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে জাহানারা জামানের লাশ রাজশাহীর হযরত শাহমখদুম (র.) বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টারটিতে ছেলে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, তার সহধর্মিনী ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহিন আক্তার রেনী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপিসহ জাহানারা জামানের নিকটাত্বীয়রা ছিলেন।

বিমানবন্দর থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকায় ছেলে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের বাড়িতে। সেখান থেকে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নগরীর কাদিরগঞ্জে তাদের আদি বাড়িতে। সেখানে স্বামী এএইচএম কামারুজ্জামানের কবর প্রাঙ্গণে জাহানারা জামানের মরদেহ কিছুক্ষণের জন্য রাখা হয়। এ সময় গোরস্থান প্রাঙ্গনে নির্মিত একটি অস্থায়ী শ্রদ্ধা বেদিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ নানা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে জাহানারা জামানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর তার মরদেহ জানাযার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। সেখান থেকে মরদেহ এনে কাদিরগঞ্জের এই পারিবারিক কবরস্থানে স্বামী শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ।

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এএইচএম কামারুজ্জামান হেনা ১৯৫১ সালে জাহানারা জামানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন জাহানারা জামানের বয়স ছিল ১৮ বছর। জাহানারা জামান বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চামরুল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৃত জোদ্দার আশরাফ উদ্দীন তালুকদার। বিবাহিত জীবনে জাহানারা জামান ছয় সন্তানের মা হন। তার সন্তনেরা হলেন- ফেরদৌস মমতাজ পলি, দিলারা জুম্মা রিয়া, রওশন আক্তার পপি, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, এএইচএম এহশানুজ্জামান স্বপন ও কবিতা সুলতানা চুমকি।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অপর জাতীয় তিন নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ ও ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সঙ্গে রাজশাহীর এএইচএম কামারুজ্জামানকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময় পঁচাত্তরের ২৩ আগস্ট ধানমন্ডির সরকারি বাসভবন থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

এএইচএম কামারুজ্জামান বাংলাদেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গঠিত অস্থায়ী সরকারের স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। একজন নির্লোভ, সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে জাতি তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।