Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • বিভিন্ন দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ইয়্যাস নেতৃবৃন্দ– বিস্তারিত....
  • কর্মচারীদের নির্বাচনে দুই কর্মকর্তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ– বিস্তারিত....
  • রাজশাহী বিভাগে এক হচ্ছে রবি-এয়ারটেল নেটওয়ার্ক– বিস্তারিত....
  • রমজানে চাহিদা পুরণ করছে বাঘার মুড়ি– বিস্তারিত....
  • গুজবে বরখাস্ত দুই স্কুল শিক্ষক!– বিস্তারিত....

গাছে গাছে আমের মুকুল, প্রকৃতিতে বসন্তের আমেজ

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : এখন মাঘ মাস। কিন্তু হাড়কাপানো শীত নেই। সময়ের পালাবদলে দুয়ারে এখন কড়া নাড়ছে ঋতুরাজ বসন্ত। ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে তাপমাত্রা। আর তাপমাত্রা বৃৃদ্ধি পাওয়ায় রাজশাহী অঞ্চলের আম গাছগুলোতে এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে মুকুল। তাই প্রকৃতিতে এখন বইছে বসন্তের আমেজ। নানা ফুলের সঙ্গে সুবাস ছড়াচ্ছে আমের মুকুলও।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ প্রকৃতিকে মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা করে তুলেছে। মুকুলের সেই সুমিষ্ট সুবাস নাড়া দিচ্ছে মানুষের হৃদয়েও। বনফুল থেকে মৌমাছির দল গুনগুন করে ভিড়তে শুরু করেছে এসব আমের মুকুলে। গাছের শাখার পর শাখায় মুকুলগুলো চারদিকে যেন বসন্তের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। জেলার সব এলাকাতেই এখন কম-বেশি দেখা দিয়েছে আমের মুকুল।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলায় ১৬ হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে রয়েছে আম বাগান। এবার একটু আগেই শীত কমে আসায় প্রতিটি বাগানেই কিছু কিছু গাছে আগাম মুকুল এসেছে। আর ১৫ দিনের মধ্যে ২০-৩০ ভাগ গাছে মুকুল আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগামি এক মাসের মধ্যেই অন-ইয়ার গাছগুলোতে মুকুল চলে আসবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে গাছে গাছে আগাম মুকুল আসায় বেজায় খুশি রাজশাহীর আম চাষিরা। তারা আম গাছের প্রাথমিক পর্যায়ের পরিচর্যাও শুরু করে দিয়েছেন। মুকুলের মাথাগুলোকে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। এ অঞ্চলে নিয়মিত জাত ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাত ও আশ্বিনা জাতের আম গাছ বেশি। সেই সঙ্গে গবেষণাকৃত বারি-৩, বারি-৪ জাতের বাগানও রয়েছে। চাষিরা আশা করছেন, এবার আমের ফলন ভালো হবে।

জেলার বাঘা উপজেলার মিলিকবাঘা গ্রামের আম চাষি কায়সার রহমান (৪০) বলেন, ‘এ বছরের আবহাওয়া আমের মুকুলের জন্য বেশ অনুকূলে। তাই একটু আগেভাগেই মুকুল এসেছে গাছে। গতবারের মতো এ মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়ার তেমন বিপর্যয়ও ঘটেনি। আশা করছি- ফাগুন আসার সাথে সাথে সব গাছ মুকুলে মুকুলে ভরে উঠবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আম গাছে খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না। তবে ছত্রাকজনিত রোগে আমের মুকুল ও গুটি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাগানে দুই দফা ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। এতে ছত্রাক জাতীয় রোগ থেকে আমের মুকুলগুলো রক্ষা পাবে। সেই সাথে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তিনি জানান, আম উৎপাদনের কোনো লক্ষমাত্রা ধরা হয় না। তবে উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ভালো করতে কৃষি বিভাগ সব সময় চেষ্টা করে থাকে। এবারও আমের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এখান থেকে প্রায় আড়াই লাখ টন আম উৎপাদন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।