অক্টোবর ১৯, ২০১৭ ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / ৩৫টি কুমিরের বাচ্চা মিসিং : বনবিভাগ

৩৫টি কুমিরের বাচ্চা মিসিং : বনবিভাগ

সাহেব-বাজার ডেস্ক : করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রে থাকা কুমিরের বাচ্চা শেয়ালে খেয়েছে, প্রথমে এমন দাবি করলেও কয়েকদিন পর সেই দাবি থেকে সরে এসেছে বনবিভাগ। শুধু তাই নয় কুমিরের ছানাগুলো শেয়ালে খেয়েছে প্রমাণের জন্য সেখানে কুমিরের রক্তও ছিটিয়ে রাখা হয়। তবে করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ তহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘৩৫টি কুমিরের বাচ্চা মিসিং হয়েছে, ৬টির মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এছাড়া দুটির খণ্ডাংশ পাওয়া গেছে।’

কুমিরের ছানাগুলো শেয়ালে খেয়েছে প্রথমদিকে তো এমন দাবি ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে এমনটিই ধারণা ছিল। যেহেতু ওই সময় তদন্ত হয়নি তাই ধারণা করা হয়েছিল কুমিরের বাচ্চাগুলো শেয়ালে নিয়েছে।’ ‘তবে ৩৫টি বাচ্চা মিসিং হয়েছে’ বলেন তিনি।

তিনি পরিবর্তন ডটকমকে জানান, কুমিরের বাচ্চা উধাও হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রজনন কেন্দ্রে ৫টি কুয়ায় (প্যান) ২৭৭টি কুমিরের বাচ্চা ছিল। বর্তমানে ২৩৪টি বাচ্চা রয়েছে। হিসাবমতে ৪৩টি কুমিরের বাচ্চা ঘটনার পর থেকে নেই। তবে ৮টি মৃত বাচ্চা বাদ দিলে ৩৫টি বাচ্চা মিসিং হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘করমজলের কুমির প্রজনন কেন্দ্রের ৫টি কুয়োর ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে। ২৯ জানুয়ারি সকাল থেকে ‘বিওয়ান’ নামক কুয়া থেকে ৬টি কুমিরের বাচ্চার মৃতদেহ, ১টির পাকস্তলি ও ১টির মাথা পাওয়া যায়। এরপর বন বিভাগ ভিমড়ি খেয়ে যায়।’

পরে গননা করে ‘বিওয়ান’ ও ‘বিফোর’ কুয়া থেকে ৩৫টি কুমিরের বাচ্চা মিসিং পাওয়া যায়।

বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির নোনা পানির কুমিরের প্রজনন বৃদ্ধি ও তা সংরক্ষণে ২০০২ সালে পূর্ব সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রে বন বিভাগের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় দেশের একমাত্র সরকারি এ কুমির প্রজননকেন্দ্র। বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন প্রকল্পের আওতায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয় কেন্দ্রটি।

শুরুতেই জেলেদের জালে ধরা পড়া ছোট-বড় পাঁচটি কুমির দিয়ে কেন্দ্রের প্রজনন কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে কেন্দ্রে মিঠা পানির দুটি নারী কুমির এবং নোনা পানির দুটি কুমির ও একটি পুরুষ কুমির রয়েছে।

কেন্দ্রের সাবেক কর্মকর্তা ও কুমির বিশেষজ্ঞ আবদুর রব জানান, বাংলাদেশে তিন প্রজাতির কুমিরের অস্তিত্ব ছিল। লবণ পানির কুমির, মিঠা পানির কুমির ও গঙ্গোত্রীয় কুমির বা ঘড়িয়াল। এর মধ্যে মিঠা পানির কুমির ও ঘড়িয়ালের বিলুপ্তি ঘটেছে। এখন শুধু লবণ পানির কুমিরের অস্তিত্বই আছে। এরা সাধারণত ৬০-৬৫ বছর পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। আর ৮০-১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

এই কেন্দ্র থেকে ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, পটুয়াখালী বন বিভাগ ও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে শতাধিক কুমির অবমুক্ত করা হয় বলেও জানান রব।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

পদ্মাসেতুর ৪৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : মেগা প্রকল্প পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শতকরা ৪৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এ বছরের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *