Ad Space

তাৎক্ষণিক

সিআইডির এসআইসহ চারজনের নামে মামলা

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : সোর্স নিয়ে মূর্তি উদ্ধারের কথিত ‘অভিযান’ করতে গিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আটক পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) চারজনের নামে মামলা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোদাগাড়ী থানায় মামলাটি দায়ের হয়। পরে রাতেই আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি।

তিনি জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে সিআইডির এসআইসহ চারজনকেই উপজেলার মাণ্ডইল গ্রাম থেকে আটক করে থানায় নেয়া হয়। পরে রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগি জয়েন হাসদা। মামলা এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাড়িতে অনুপ্রবেশ, হাঙ্গামা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, মারপিট ও প্রতারণা করে সরকারি পোশাক পরার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার মান্ডইল গ্রামের এক আদিবাসী পল্লীতে অভিযান চালাতে যান সিআইডির টিএইচবি শাখার রাজশাহী জোনের এসআই এমএস মাহবুব আলী (৩২)। তার সঙ্গে রাজশাহী মহানগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার মৃত সিরাজ উদ্দীনের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৮), বালিয়াপুকুর এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম (৫৫) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে আতিকুর রহমানও (২৮) ছিলেন।

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থা ও আদিবাসী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাণ্ডইল গ্রামের জয়েন হাসদা (৫০) নামে এক ব্যক্তি মনসা পূজা করেন। তার বাড়িতেই পূজার মণ্ডপ আছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সিআইডির ওই এসআইসহ গ্রেফতার চারজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে জয়েন হাসদার বাড়িতে ঢোকেন। ওই সময় জয়েন হাসদা বাড়িতে ছিলেন না। তবে তারা বাড়ির সদস্যদের বলেন, এই বাড়িতে একটি মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছে। তারা সেটি উদ্ধার করতে এসেছেন।

এ সময় এসআই মাহবুবের নির্দেশে জয়েন হাসদার মামা শশুর সরকার কিস্কু ও তার ছেলে রুবেল হাসদাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এরপর বাড়ির তিন জায়গা কোঁদাল দিয়ে খোড়াখুড়ি করা হয়। এ সময় হৈ চৈ শুনে স্থানীয়রা ওই বাড়িতে গেলে এসআই মাহবুব তাদের বলেন-এই বাড়িতে একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি আছে। তারা সেটি উদ্ধার করতে এসেছেন।

এসআই মাহবুবের এমন অসংলগ্ন কথা শুনে পরিবারের সদস্যরা ডাকাত বলে চিৎকার দেন। এ সময় মাইকে ঘোষণা দিয়ে ওই আদিবাসী পল্লীর প্রায় দেড় হাজার মানুষ জড়ো হয়ে তাদের ঘিরে ফেলেন। এরপর তাদেরকে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় স্থানীয়রা তাদের মারধরও করেন। পরে খবর পেয়ে গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট তদন্ত কেন্দ্র ও পবা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর সকাল ১০টার দিকে পুলিশ তাদের গোদাগাড়ী থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল গোদাগাড়ী থানার ভেতরে হলেও খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ।

তিনি জানিয়েছেন, ক্ষিপ্ত আদিবাসীরা গ্রেফতার ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়া একটি ধূসর রঙের মাইক্রোবাস ও একটি সাদা রঙের অ্যাপাচি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছেন। মাইক্রোবাসের জানালায় একটি কাঁচও ছিল না। আর মোটরসাইকেলের হেডলাইটসহ বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর করা হয়েছে। সেগুলোর জব্দ তালিকা করে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ নিয়ে যায়।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজেয়াড় জানান, জয়েন হাসদা আদিবাসী হলেও তিনি হিন্দু ধর্মের অনুসারি। এ জন্য তার বাড়িতে পূজা মণ্ডপ আছে। তাই ওই বাড়িদে কষ্টি পাথরের মূর্তি আছে- এমন সন্দেহে সিআইডির এসআই মাহবুব তিনজন সোর্সকে নিয়ে বাড়িতে অভিযান চালায়। কিন্তু ওই তিন সোর্সও নিজেদের সিআইডির সদস্য পরিচয় দেন। তবে তাদের অসংলগ্ন কথাবার্তায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এ সময় ডাকাত ভেবে স্থানীয়রা তাদের বেঁধে রাখেন। কেউ কেউ মারধরও করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিআইডির রাজশাহী বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম বলেন, ‘এসআই মাহবুব ডিপার্টমেন্টের কাউকে জানিয়েই অভিযানে যাননি। স্থানীয় থানা পুলিশকেও তিনি অবহিত করেননি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি গুরুতর। তার অপকর্মের দায় পুরো ডিপার্টমেন্ট নিবে না। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থায় নেয়া হবে।’