Ad Space

তাৎক্ষণিক

সাংবাদিক হত্যা : মেয়রের বাসায় মিলেছে গুলির খোসা

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৭

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভা মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাসা থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য  যে শর্টগান দিয়ে সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুলকে গুলি করা হয়েছে এটি তারই খোসা। শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মেয়র হালিমুল হক মিরুর শর্টগান থেকেই গুলি করা হয়েছে। তার বাড়ি থেকে গুলির খোসা পাওয়া গেছে। ৪৩ রাউন্ড গুলিসহ ওই শর্টগান জব্দ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। মেয়রকে বারবার বারণ করার পরও তিনি গুলি ছোড়েন। একাধিক গুলি করেন মেয়র।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছোট ভাই পিন্টু শাহজাদপুর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিজয়কে মারপিট করেন। পরে মেয়রের বাসা থেকে পুলিশ তার ভাই পিন্টুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এদিকে বিজয়কে মারপিটের ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মেয়রের বাসায় হামলা চালায়। এক পর্যায়ে মেয়রের বাসা থেকে গুলিবর্ষণ করা হলে দু’গ্রপের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুলসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায়  উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

আহত অবস্থায় সাংবাদিক শিমুলকে বৃহস্পতিবার বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে দিকে বগুড়া থেকে ওই রোগীকে ঢাকার উদ্দেশে নেয়ার পথে রোগীর অবস্থা খারাপ হলে সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরু গোলচত্বর সাখাওয়াত মোমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাংবাদিক নিহতের ঘটনায় শাহজাদপুর উপজেলায় শনিবার অর্ধদিবস হরতাল আহ্বান করলে তা সফল হয়। শনিবার সকাল-দুপুর পর্যন্ত সব ধরনের দোকানপাট ও যানবাহন বন্ধ ছিল।

শিমুল হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে মেয়রসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরো ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক দেবনাথ বলেন, ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করেছে। বকি আসামিদের আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।