অক্টোবর ২৪, ২০১৭ ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / মোহনপুরে এসএসসি পাশ সার্টিফিকেট এর বদলে ষ্ট্যাম্প দিলেন প্রধান শিক্ষক

মোহনপুরে এসএসসি পাশ সার্টিফিকেট এর বদলে ষ্ট্যাম্প দিলেন প্রধান শিক্ষক

মোহনপুর প্রতিনিধি :  রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের অর্ন্তগত গোছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুদরতুল্লাহ কবিরাজ এর অভিনব কৌশলে প্রতারনার শিকার এক হতদরিদ্র ভ্যান-চালকের মেয়ে ফাহিমার শিক্ষার প্রদীপ নিভে গেল।

অনুসন্ধান তথ্যে ও ছাত্রী অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ২ নং ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের অর্ন্তগত আতানারায়ন পুর গ্রামের হত-দরিদ্র ভ্যান  চালক আব্দুল মতিনের মেয়ে  ফাহিমা খাতুন ৫ম শ্রেণী(পিএসসি) পাশ করে মনে অনেক স্বপ্ন নিয়ে গোছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হয়। সে  তিনবছর বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় ৮ম শ্রেনীতে ২০১৩ সালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড এর অধিনে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ন হয়। শিক্ষা বর্ষ ২০১৪-১৫ সেশনে রেজিষ্ট্রেশন করে নিয়মিত ছাত্রী হিসাবে লেখা পড়া চালিয়ে যায়।

2556

গত ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য গোছা বালিকা  উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার ৮শত টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করে। এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য প্রবেশ পত্র  ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিদ্যালয় হতে পরীক্ষার আগের দিনে উত্তোলনের জন্য প্রধান শিক্ষক কুদরতুল্লাহ কবিরাজের নিকট হতে ২শত ৫০ টাকা দিয়ে  রেজিশেস্ট্রশন কার্ড ও প্রবেশপত্র উত্তোলনের সময় শিক্ষার্থীর নামের স্বাক্ষরের জায়গায় ফাহিমা খাতুন স্বাক্ষর থাকলেও  প্রধান শিক্ষক কৌশলে মোসাঃ তানজিমা খাতুন এর স্বাক্ষর করে নেয়। ফাহিমা খাতুন স্বাক্ষর করতে না চাইলে প্রধান শিক্ষক বলে যদি তুমি স্বাক্ষর না করো তাহলে তোমার পরীক্ষা দেওয়া হবেনা এবং পরর্বতীতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে তোমার নাম সংশোধন করে দেওয়া হবে। বাধ্য হয়ে অসহায় ফাহিমা রেজিষ্ট্রেশন কার্ডে তানজিমা খাতুন নামেও স্বাক্ষর করে।

২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ৩.৬১ গ্রেডে পাশ করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রেরিত নম্বর পত্র ও গোছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রশংসা পত্র যার ক্রমিক নং-১০/১৬ তারিখ-২১/০৬/২০১৬ইং উত্তোলন করে। মোসাঃ তানজিলা খাতুন পিতাঃ মুক্তারুল, মাতা-শাহানারা বেগম, সাং-আতানারায়ন পুর, ডাকঘর-গোছ এই নামে উপজেলার আত্রাই অগ্রণী ডিগ্রী ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে মানবিক বিভাগে ভর্তি রোল -২৫। ভর্তি পর নিয়মিত ক্লাস করে। সরকারী ভাবে প্রতিষ্ঠানে উপবৃত্তির তালিকা তৈরীর কাজ শুরু হলে তার নাম অর্ন্তভূক্ত করার জন্য তার  গ্রামের একজন শিক্ষকের কাছে দাবী জানান তার পরিবার ।

উক্ত শিক্ষক পরের দিন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তার নাম ফাহিমা পিতা আব্দুল মতিন নামে শিক্ষার্থী ভর্তি আছে কিনা ভর্তি ফরম খোঁজ করলে তার কলেজে এই নামের কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি বলে অভিভাবকদের জানানো হয়। ছাত্রীর অভিভাবক আঃ মতিন কলেজে গিয়ে বিষয়টির  ব্যাপারে নিশ্চিত হন। এদিকে কলেজ ছাত্রী ফাহিমা ভয় পেয়ে কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।  ছাত্রী ফাহিমা চিন্তায় খাওয়া দাওয়া ছেড়ে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে।

সঠিক নামের সার্টিফিকেট এর বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কুদরতুল্লাহ কবিরাজের কাছে গিয়ে জানালে তিনি এই বিষয়ে কাউকে জানাতে নিষেধ করে বলেন আমি তোমার মেয়ের  সাটির্ফিকেট ঠিক করে দেব  কিছুদিন সময় লাগবে বলে এইভাবে আজকাল করে কালক্ষেপন করতে থাকে। ফাহিমার কলেজ যাওয়া বন্ধ হওয়া পাড়া প্রতিবেশীদের চোখে পড়ে । কিছুদিন পর প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে মতিনের মেয়ের নামে সাটিফিকেট এর জন্য চাপ দিলে প্রধান শিক্ষক কুদরতুল্লাহ কবিরাজ ফাহিমা খাতুনকে প্রথম পক্ষ করে প্রধান শিক্ষক দ্বিতীয় পক্ষ হয়ে ৩ শত টাকার নন জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে ১০/১২/১৬ইং  অঙ্গিকার নামা লিখিত করে যে, তিন মাসের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় তার বিদ্যালয় থেকে ফাহিমা খাতুনের রেজিষ্ট্রেশন এবং প্রবেশ পত্র সার্টিফিকেট জটিলতা ও ভুল আছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিজ দায়িত্বে তাহা সংশোধন করে দিবেন । ব্যর্থ হইলে আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন বলে অঙ্গিকার নামায় উল্লেখ করেন।

উক্ত  অঙ্গিকার নামায় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এমরান আলী, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, রাফিউল ইসলাম স্বাক্ষী হন। উক্ত সময়ের ৩ (তিন) মাস অতিবিাহিত হইলে ফাহিমার পিতা  প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে সার্টিফিকেট চাইলে প্রধান শিক্ষক পুনরায় আবারো ১৫ দিনের সময় নেন। ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ছাত্রীর অভিভাবকদের বিভিন্ন ভয়ভীতি হুমকি প্রর্দশন করে।

অবশেষে এলাকার কিছু পাতী নেতাদের দিয়ে দেন দরবার করে ফাহিমার পরিবারকে কিছু অর্থ দিয়ে মিমাংশা করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশে একাধিক ব্যাক্তি জানান, প্রধান শিক্ষক ইতিপূর্বে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যর, নামে বেনামে বিদ্যালয়ে প্রকল্প নিয়ে লোপাটসহ ঋণ খেলাপী দায়ে একাধিক বার জেল হাজত খেটেছে তারপরও অপকর্ম ছাড়েনি তিনি। শেষ পর্যন্ত  রেজিশেস্ট্রশন কার্ডে ছাত্রীদের ছবি পরিবর্তন করেন বলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। আর সামান্য টাকার জন্য ছাত্রীদের সাথে প্রতারনা করেছে।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে প্রতিবেদক দল ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলে তাদের দেখে তার মা ফিরোজা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন আমার মেয়ে লেখাপড়া করে অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন ছিল। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরনের জন্য দাদন ব্যবসায়ীর কাছে থেকে  টাকা নিয়ে  ফরম পুরন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের প্রতারনার কারণে শিক্ষা জীবন শেষ হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী ফাহিমা খাতুন বলেন  শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষকের কারণে আমার জীবনের স্বপ্নগুলো শেষ হয়ে গেছে । সে প্রধান শিক্ষক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উক্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। সার্টিফিকেট এর ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি সব বলতে পারবেন।

প্রধান শিক্ষক  কুদরতুল্লাহ কবিরাজ সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহী সচিব আনারুল হক প্রাং সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

পরীক্ষা বন্ধ করে এসপি’র সংবর্ধনা !

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের সত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি’র টেস্ট পরীক্ষা বন্ধ করে একজন পুলিশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *