Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • রাবিতে দুর্বৃত্তদের হাতে ছিনতাইয়ের শিকার জবি শিক্ষার্থী– বিস্তারিত....
  • তানোরে তালন্দ কলেজ হোস্টেলে স্থানীয় বখাটেদের হামলা, আহত ৩– বিস্তারিত....
  • দুর্গাপুরে বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু– বিস্তারিত....
  • তানোরে এক গাঁজা ব্যবসায়ীসহ মাদক সেবী গ্রেফতার– বিস্তারিত....
  • এবার নিষিদ্ধ হলেন পরিচালক রনি– বিস্তারিত....

বাঘায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে গম ও মশুর আবাদে

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৭

নুরুজ্জামান,বাঘা  : রাজশাহীর বাঘায় এ বছর ব্যাপকহারে উৎপাদন হয়েছে গম ও মশুর। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে উপজেলার পলি গঠিত পদ্মার চরাঞ্চলে। এ ছাড়াও সমতল এলাকার অধিকাংশ কৃষকরা এবার গম এবং মশুর চাষাবাদ করেছেন। কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, এবার গম ও মশুরের আবাদ লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। যদি শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুল থাকে তবে ফলনের দিক থেকে কৃষকরা আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন।

স্থানীয়রা জানান, গতবছর এ অঞ্চলের কৃষকরা আমন ধান আবাদ করে লোকসান হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলো। পরের মৌসুমে সরিষা আবাদ করে কিছুটা ঘাটতি পূরণ হয়। কিন্তু এবার গম এবং মশুরের আবাদ করে সব ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখার স্বপ্ন দেখছেন তারা । অনেকেই বলছেন, এবার সীমান্তবর্তী পদ্মার চরাঞ্চলসহ সমতল এলাকার প্রতিটা মাঠে যে হারে গম এবং মশুর চাষাবাদ হয়েছে যদি শেষ পর্যন্ত আবহাওয়ার বিপর্যয় না ঘটে তবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে,  গত বছরের চেয়ে এবার ১ হাজার হেক্টর বেশি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অত্র উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের গম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হেক্টর প্রতি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ মেট্রিক টন। এ সকল উৎপাদিত গমের মধ্যে সোনালী, প্রদীপ, বিজয়, শতাব্দী,সৌরভ, গৌরব ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তবে এ বছর প্রদীপ ও বিজয় জাতের গম সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন কৃষকরা। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে , প্রদীপ গমের শীষ বড় এবং দানা মোটা হওয়ায় কৃষকরা এই গম চাষে বেশি উদ্বুদ্ধ হয়েছে। এরপর রয়েছে বিজয় এবং শতাব্দী। তবে সোনালী গম বিগত সময়ে ব্যাপকহারে আবাদ হলেও বর্তমান এর উৎপাদন অনেকটা কমে গেছে বলে  দাবি করেছে কৃষি বিভাগ।

অন্যদিকে উপজেলায় এবছর মশুর চাষাবাদ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষকরা বলছেন, আর অল্প কিছুদিনের মধ্যে মশুরের ফুল বের হবে। এ সময় যদি আবহাওয়া অনুকুল থাকে তাহলে ফুলে পঁচন আসবে না। এ থেকে ফলন হবে আশানরুপ।

সরেজমিন উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে,  এবছর যারা আগাম গম চাষ করেছেন তাদের জমিতে গমের শীষ দোল খেলছে। আর যারা পরে (নামলা) গম বুনেছেন তারা জমিতে সার ও পানি সেচ দেওয়া কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

চরাঞ্চলের কৃষক সেকেন্দার আলী জানান, তিনি গতবছর ৫ বিঘা জমির গম মাড়ায় করেছেন। এ থেকে তার প্রতি বিঘায় উৎপাদন হয়েছে গড়ে ২২ মন। তিনি উৎপাদন প্রসঙ্গে বলেন, এবছর এখন  পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুল আছে। সার ও সেচের কোন সমস্যা হয়নি। যদি শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া খারাপ না হয় তবে এবারও উৎপাদন ভালো হবে।

এদিকে সমতল এলাকার বারখাদিয়া গ্রামের কৃষক আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, তিনি এ বছর গমের পাশাপাশি দুই বিঘা জমিতে মশুর চাষাবাদ করেছেন। গাছের অবস্থা খুবই ভাল। যদি ফুল বের হওয়ার সময় প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয় না ঘটে তাহলে উৎপাদন ভাল পাবেন।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান, গত বছর গমের বাজার মুল্য ভাল হওয়ায়  কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। একারণে এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। একইভাবে মশুরের বাজার ভাল হওয়ায় অধিকাংশ কৃষক এবার মশুর চাষ করেছেন। তারমতে, বাঘার মাটি যে কোন ফসলের জন্য উপযোগী। তিনিসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ফসল ভাল হওয়ার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের নানা রকম পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানান।