সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭ ১২:০১ অপরাহ্ণ

Home / slide / চীনা ব্যবসায়ী হত্যা: চাচা-ভাইপোর বিরুদ্ধে চার্জশিট

চীনা ব্যবসায়ী হত্যা: চাচা-ভাইপোর বিরুদ্ধে চার্জশিট

সাহেব-বাজার ডেস্ক : যশোরে চীনা ব্যবসায়ী চ্যাং হিং সং হত্যা মামলায় দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তরা হলেন- নিহত চীনা নাগরিকের ব্যক্তিগত সহকারী ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার চকপাড়া গ্রামের মুজিবর রহমানের ছেলে নাজমুল হাসান পারভেজ (২৬) এবং তার ভাইপো একই এলাকার রফিকুল আলম বাবুলের ছেলে মুক্তাদির রহমান রাজু (২০)। বৃহস্পতিবার যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চাচা-ভাতিজাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হলেও শুক্রবার তা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর যশোর উপশহর মহিলা কলেজের সামনে ২নং সেক্টরের ৩৪ নম্বর ফরিদা ভিলা নামক বাড়ি থেকে চীনা ব্যবসায়ী চ্যাং হিং সং মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়। পরে তাদেরকে আসামি করে মামলা করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে উদঘাটন হওয়ায় খুব কম সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আটক দুই আসামি তাদের অপরাধের কথা আদালতে স্বীকার করেছে, যা জবানবন্দি হিসাবে বিচারক রেকর্ড করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, নিহত চীনা নাগরিক যশোরের ঘোপ জেল রোডে লিয়াকত হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি ইজিবাইকের ব্যাটারি সে দেশ থেকে নিয়ে এসে যশোরসহ আশেপাশের এলাকায় সরবরাহ করতেন। তার গুদাম ছিল উপ-শহরের মহিলা কলেজের সামনে ২ নম্বর সেক্টরের ৩৪ নম্বর ফরিদা ভিলা নামক বাড়িতে। নাজমুল হাসান পারভেজ নিহতের ব্যক্তিগত সহকারী হওয়ার সুবাদে তার টাকা কোথায় আছে তা সে ভালভাবে জানত। তার ধারণা ছিল দুই লাখ টাকার একটি চেক হাতিয়ে নেবে ও বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পাওনা ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভারতে চলে যাবে।

ওসি আরো জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী পারভেজ ঘটনার মাস দুয়েক আগে তার ভাইপো রাজুকে যশোরে নিয়ে আসে। ১৪ ডিসেম্বর বেলা ১২টার দিকে তিনতলা বাড়িটির নিচতলার গোডাউনে চীনা নাগরিক চ্যাং হিং সংকে টাকার জন্যে তার সহকারী পারভেজ ও তার ভাইপো রাজু হাত পা বাঁধে। এরপর রড বা লোহার পাইপ জাতীয় কোনো বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত ও জখম করে। পরে গলাই ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। এরপর তার মোবাইল ফোন সেট নিজেদের কাছে বন্ধ করে রেখে দেয়। তাকে হত্যা করে দুইজনই নিহতের ঘোপ বেলতলার ভাড়া বাড়িতে যায় এবং নকল চাবি ব্যবহার করে ঘরে ঢুকে দুই লাখ টাকার চেকটি হাতিয়ে নেয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, নিহতের স্ত্রী ঢাকায় থাকতেন। তিনি রাতে কয়েক দফা স্বামীকে ফোন করে তাকে না পেয়ে নাজমুলকে ফোন দেন। তখন নাজমুল জানায়, ‘স্যারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’। স্ত্রী বিষয়টি থানায় অবহিত করতে বলেন। রাতে পারভেজ কোতোয়ালি থানায় এ বিষয়ে জানাতে গেলে পুলিশ তাকেই সন্দেহ করে আটকে রাখে। পরে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকারোক্তি দেয়। সকালে তাদের সাথে নিয়ে ওই গোডাউনে যায় পুলিশ এবং মরদেহ উদ্ধার করে। সেই সাথে উদ্ধার হয় দুই লাখ টাকার চেক ও মোবাইল ফোনসেট।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

চারঘাটে শুরু হয়নি ওএমএস এর মাধ্যমে চাল বিক্রয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চারঘাট : চাল নিয়ে সারা দেশেই চলছে অস্থিরতা। আর অস্থিরতা দুর করতে বর্তমান সরকারের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *