Ad Space

তাৎক্ষণিক

বাঘায় আলুর দাম কমে যাওয়ায় হতাশ কৃষক

ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৭

নুরুজ্জামান, বাঘা : গত বছর দাম কমে যাওয়ায় মাইকিং করে আলু বিক্রী হয়েছে। অনেকেই গোখাদ্য হিসেবে আলু কিনেছেন। ভেবে ছিলাম এ বছর আলুর চাষ করবো না। কিন্তু উপযুক্ত আবহাওয়া দেখার পর গত বারের কথা ভুলে আবারও আগাম আলুর চাষ করলাম। কিন্তু এবারও একই অবস্থা। ফলে হতাশায় দিন পার করছি। কথা গুলো বলছিলেন বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষক হাফিজুর রহমান।

শুধু হাফিজুর নয়, তার মতো অনেক কৃষকই এবার আলু নিয়ে বিড়ম্বনায় আছেন। তারা বলছেন, গত বছর আলুর মূল্য না পাওয়ায় আতঙ্কে ছিলাম। ভেবে ছিলাম এবার ন্যায্য মুল্য পাবো। এ কারণে অসংখ্য কৃষক অনুকুল আবহাওয়া লক্ষ্যকরে এবার আলুর চাষাবাদ করেছেন। বিশেষ করে উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলসহ সমতল এলাকার হরিনা, বাউসা, তেঁথুরিয়া, মনিগ্রাম, সরেরহাট, খায়ের হাট, আড়ানী, পাকুড়িয়া ও মশিদপুর এলাকার কৃষকরা এ বছর ব্যাপক পরিমান আলুর চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু এবার বাজার মূল্য এখন পর্যন্ত বিশেষ ভালো না। কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে আলুর যে বাজার চলমান রয়েছে অচিরে যদি তার পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে এবার ও আর্থিক ভাবে কৃষকদের চরম ক্ষতিগ্রস্থ হতে হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বাঘা উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় দেড় হাজার হেক্টর। যা অতিক্রম করে চাষাবাদ হয়েছে দুই হাজার হেক্টর। এরমধ্যে অর্ধেক এর বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে। সে মোতাবেক চরবাসীদের অনেকেই আগাম আলু চাষ করে বিক্রী শুরু করেছেন। তাঁদের দেয়া তথ্য মতে, বাঘার চরাঞ্চলের আলুর গুনগত মান ভালো। এ কারণে এখান থেকে প্রতি বছর আলুর মৌসুমে বাস এবং ট্রাক যোগে আলু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানী করা হয়।

বাঘার চরাঞ্চলের কৃষক গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি এ বছর ৪বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষা করে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন। কিন্তু আশানুরুপ দাম পাননি। অনুরুপ কথা বলেন, চরাঞ্চলের কৃষক খোয়াজ শিকদার ও জগলু শিকদারসহ সমতল এলাকার বাজুবাঘা নতুন পাড়া গ্রামের কৃষক খাইরুল ইসলাম ও  আলী আকবর।

এ দিকে উপজেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার বাঘা হাটের আলু ব্যবসায়ী মানিক মিঞা জানান, বর্তমানে এই হাটে প্রতি কেজি আলু ৮ টাকা হিসাবে ৩২০ টাকা  মন দরে বিক্রী হচ্ছে। যা খুচরা বিক্রী হচ্ছে ১০ টাকা কেজি। তবে এ অবস্থার পরিবর্তণ ঘটবে বলে তিনি মনে করছেন। তার মতে, এখন কার আলু নামলা। এই আলু পুষ্ট হলে ব্যবসায়ীরা কোল্ডস্টরে স্টক শুরু করবে। তখন আলুর দাম বেড়ে যাবে।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান, বাঘার মাটি কৃষি আবাদের জন্য অত্যান্ত উপযোগী। বিশেষ করে এ উপজেলার চরাঞ্চলে সব ধরনের সবজির উৎপাদন ভালো হয়। এ দিক থেকে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আলু চাষাবাদ হয়েছে চরাঞ্চলে। তিনি আলুসহ সকল প্রকার সবজি চাষে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানান।