ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭ ২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / মুদি দোকানে মিলছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ

মুদি দোকানে মিলছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ

মিজান মাহী, দুর্গাপুর : ওষুধ মানুষের জীবন বাঁচায় আবার ওষুধই মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। যদি না থাকে সঠিক চিকিৎসা পত্র। তেমনি একজন ভুক্তভোগী বদরউদ্দিন। বাড়ি দুর্গাপুর উপজেলা হতে ১৪ মাইল দুরে দাউকান্দির পারিলা গ্রামে। স্থানীয় মুদি দোকান থেকে নিজের ইচ্ছা মাফিক পেটের ব্যাথার ওষুধ কিনে খেয়েছিলেন। পরে না জেনেই ওই ওষুধ খাওয়ায় তার শারিরিক অবস্থার ভীষণ অবনতি হয়। পরে তাকে দুর্গাপুর হাসপাতাল থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত যেতে হয়েছে। এরকম ঘটনা হরহামসাই ঘটছে দুর্গাপুরে।

দুর্গাপুর সদর বাজারসহ প্রত্যান্ত গ্রামঞ্চলে মুদি দোকানে জ্বর, সর্দি, কাশি, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, এন্টিবায়েটিক, এমনকি যৌন উত্তেজক হালুয়া, মেয়াদত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হয়। বিভিন্ন হাটবাজার এবং প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলের মোড়ে মুদির দোকানেগুলোতেই হাত বাড়ালে পাওয়া যাচ্ছে এসব জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। প্রশাসনের গাফিলতির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

বাংলাদেশ কেমিস্ট্র অ্যান্ড ড্রাগিস্ট’র দুর্গাপুর শাখার সভাপতি আবু সাইদ দৌলা জানান, দুর্গাপুরে প্রায় ৫৫-৬০টি লাইসেন্সধারী ওষুধের দোকান আছে। এছাড়াও উপজেলায় প্রায় লাইসেন্সবিহীণ ৩ শতাধিক ওষুধের দোকান রয়েছে। তিনি বলেন, দুর্গাপুর বাজারসহ প্রত্যান্ত গ্রামঞ্চলে প্রায় মুদি দোকানে হাত বাড়ালেই ওষুধ পাওয়া যায়। এর বড় কারণ হচ্ছে সচেতনতার অভাব। রোগীরা অল্পতেই সুস্থ হয়ে উঠবেন ভেবে তারা নিজেরা ওইসব দোকান থেকে ওষুধ ক্রয় করেন। তিনি দ্রুত এসবের বিরুদ্ধে প্রসাশনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. দেয়ান নাজমুল ইসলাম গ্রামের মুদি দোকানগুলোতে বিভিন্ন প্রকার ওষুধ বিক্রির কথা স্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে আমাদের হাতে কোন ক্ষমতা নেই বলে জেলা ড্রাগ সুপারিনটেনডেন্টের ওপর চাপিয়ে দেন। তিনি বলেন, শুনেছি  এই উপজেলার হাটকানপাড়া বাজারে বিভিন্ন দোকানে যৌন উত্তেজক হালুয়া বিক্রি হয়। যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিষিদ্ধ স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দিয়ে যৌন উত্তেজক হালুয়া তৈরি করে রোগীকে খাওয়ানো হচ্ছে। এতে মানুষের রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা কমে যায়। মানবদেহের  হৃদপিন্ড, কিডনী, যকৃত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক ডাক্তার জানান, উপজেলা প্রায় অর্ধশতাধিক কোম্পানির প্রতিনিধি তাদের ওষুধ বিক্রির জন্য কাজ করে থাকে। এদের মধ্যে অধিকাংশ কোম্পানি ওষুধ বিক্রি করতে ছুটে প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলের মোড়ে মুদির দোকান ও গ্রাম্য ডাক্তারদের কাছে। জীবন রক্ষাকারী এসব ওষুধ ওষুধ ফামের্সীতে গুছিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ডাক্তারদের নানা প্রকার প্রলোভন দিয়ে দেদারসে এসব ওষুধ বিক্রি করে সাধারণ মানুষের কছে।

দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের পাশে কোন ফামের্সী না থাকায় আমরা সাধারণত সর্দি, জ্বর, কাশি, আমাশয়, গ্যাস ও পেট ব্যথা হলে পাশের মুদি দোকান হতেই ক্রয় করি । এমনকি ওই সব দোকানে এন্টিবায়োটিক ও যৌন উত্তেজক ওষুধও পাওয়া যায়। কিন্তু ওই ওষুধ মানসম্মত কিনা তিনি তা জানেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার নামোদুর খালি গ্রামের মুদি দোকানদার জানান, চাহিদা অনুযায়ী আমরা গ্যাস, জ্বর, আমাশয়, সর্দি কাশির ওষুধ বিক্রি করে থাকেন তারা।

এবিষয়ে নবাগত দুর্গাপুর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, সবে মাত্র এসেছি। অনুমতি এছাড়া এসব দোকানে ওষুধ বিক্রি আইনতদণ্ডনীয় অপরাধ। পর্যায়ক্রমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

নাটোরে মহান বিজয় দিবস পালিত

নাটোর প্রতিনিধি : দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে নাটোরে মহান বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। শনিবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *