Ad Space

তাৎক্ষণিক

মংলায় জাহাজডুবি : উদ্ধার বিষয়ে ‘কিছু বলা যাচ্ছে না’

জানুয়ারি ১৪, ২০১৭

সাহেব-বাজার ডেস্ক : মংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজ কখন উদ্ধার হবে তা বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন মংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার ওয়ালিউল্লাহ। শনিবার বিকেলে ওয়ালিউল্লাহ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, কয়লাবাহী নৌযানটি বন্দরের চ্যানেলের অনেক বাইরে বঙ্গোপসাগর এলাকায় ডুবেছে। তাই বন্দরে পণ্যবাহী নৌযান চলাচলে কোনো প্রকার অসুবিধা হচ্ছে না। শুক্রবার সকালে ‘এমভি আইজগাতি’ নামে একটি কার্গো জাহাজ প্রায় এক হাজার টন কয়লা নিয়ে সাগরে ডুবে যায়। এ সময় জাহাজে থাকা ১৬ জন নাবিক ও ক্রু কে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

কমান্ডার ওয়ালিউল্লাহ জানান, ডুবে যাওয়া নৌযানের এলাকাটি শনাক্ত করা হয়েছে। ভাটির সময় জাহাটির মাস্তুল দেখা যায়। তবে এর পাশ দিয়ে যেকোনো ধরণের জাহাজ চলাচলে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। দুর্ঘটনার পর থেকে শনিবার দুপুর ৪টা পর্যন্ত ওই পথ দিয়ে ১৫টির মতো জাহাজ চলাচল করেছে।

ডুবে যাওয়া জাহাজটি উদ্ধারের দায়িত্ব মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নয় জানিয়ে হারবার মাস্টার বলেন, কার্গোটি উদ্ধারের জন্য কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান যশোরের নওয়াপাড়া ট্রেডার্সকে বলা হয়েছে। যেহেতু উদ্ধারকারী নৌযান মংলা বা খুলনায় নেই চট্টগ্রাম থেকে আনতে হবে তাই কয়লার জাহাজটি কখন উদ্ধার হবে সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে জাহাজটি উদ্ধারে একমাস সময় বেধে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওয়ালিউল্লাহ।

এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় জলজ প্রাণী ও পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির আশঙ্কা করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ও সুন্দরবন গবেষক আবদুল্লাহ হারুন বলেন, কয়লায় নানা ধরণের বিষাক্ত পদার্থ থাকে। যে কয়লা ডুবেছে, তা নিম্নমানের পিট কয়লা। ইটের ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। এতে উচ্চ মাত্রায় সালফার থাকে। তেলের দূষণ ভাসমান ও দৃশ্যমান। কিন্তু কয়লার দূষণ দেখা যায় না। এটি তেলের চেয়েও অনেক বেশি বিষাক্ত। যত দূর এই পানি যাবে, সেই পর্যন্ত জলজ প্রাণী ও মাছের ক্ষতি হবে।

তবে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সাইদুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবির ঘটনায় সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজটি যে স্থানটিতে ডুবেছে তা সুন্দরবনের শেষ প্রান্ত থেকে ২০-৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে।

অতীতে কয়লাবাহী কার্গো জাহাজ ডুবির উদাহরণ টেনে সাইদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের নিকটে পশুর নদীতে অতীতে কয়লাবাহী কার্গো জাহাজ ডুবলেও কোনো ক্ষতি হয়নি। তাই এক্ষেত্রেও ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

এর আগে গত বছরের মার্চে ১ হাজার ২৩৫ টন কয়লা নিয়ে সি হর্স-১ নামে একটি কোস্টার তলা ফেটে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ডুবে যায়। ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ওই শ্যালা নদীতেই ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামের একটি অয়েল ট্যাঙ্কার ডুবে বিস্তীর্ণ এলাকায় তেল ছড়িয়ে ব‌্যাপক দূষণের শঙ্কা তৈরি হয়।