নভেম্বর ২৩, ২০১৭ ১:২৪ অপরাহ্ণ

Home / slide / বাঘায় সরিষার ফুলে ভরে গেছে মাঠ

বাঘায় সরিষার ফুলে ভরে গেছে মাঠ

নুরুজ্জামান, বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে মাঠ। এ বছর অনেকেই আগাম সরিষা চাষ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন আশা করছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। উপজেলার সমতল এলাকার বাইরেও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এ বছর সবচেয়ে বেশী সরিষার চাষ করা হয়েছে। প্রমত্তা পদ্মার বুকে জেগে উঠা বিশাল এ চরে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সরিষার চাষ করে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছে কৃষকরা। তাদের মনে এখন নতুন করে আশা সঞ্চার করেছে সরিষা।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, গতবারের চেয়ে এবার মসুর, গম ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজির চাষ বেশী হওয়ায়, আনুপাতিক হারে সরিষার আবাদ কিছুটা কম হয়েছে। এদিক থেকে সমতল এলাকার চেয়ে বেশি সরিষার চাষ হয়েছে দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে। তাদের দেয়া তথ্য মতে, এ বছর উপজেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। গত বছর আবাদ করা হয়েছিল ১০৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল প্রতি হেক্টরে ০.৯ মেঃ টন। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা গতবারের চেয়ে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ।

বাঘার চরাঞ্চলের কৃষক ফজলু দেওয়ান জানান, এবার ৩ বিঘা জমিতে তিনি সরিষা আবাদ করেছেন। এ আবাদে সেচ,সার ও কীটনাশক কম লাগে। তার মতে, প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার লাভ হবে। তিনি বলেন, সরিষা চাষ করে মানুষ শুধু তেল-ই তৈরী করে না। এই সরিষা ভাঙ্গিয়ে খৈল ও গাছ থেকে ভূষি তৈরী হয় যা গরুর ভালো খাদ্য এবং ভালো জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

অনুরুপ কথা বলেন, সমতল এলাকার আমোদপুর গ্রামের কৃষক মহাসিন আলী। তিনি জানান, গত বছর সরিষার চাষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নামায় অনেকেই লাভ করতে পারেননি। তাই এবার সরিষার চাষের পাশাপাশি সব এলাকাতেই কৃষকরা পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ও গম আবাদের দিকে বেশি ঝুকেছেন। তার মতে, এবার যে হারে সরিষার ফুল ও ফল দেখা যাচ্ছে যদি ঠিকমত দানা হয় তাহলে গতবারের ঘাটতি এবার পুরণ হয়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান, উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে পলি জমে মাটির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে এ বছর ব্যাপক হারে সরিষার চাষ করা হয়েছে। বারি-১৪ জাতের সরিষা কৃষকের স্বপ্ন পূরনের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরনেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন। তার মতে, এ বছর উপযোগী সময়ে  বৃষ্টি হওয়ার ফলে একদিকে ক্ষেতের ফসলের উপকার হয়েছে অন্যদিকে কোটি টাকার সেচ খরচ বেচে গেছে কৃষকরা।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

রাজশাহী-কলকাতা ট্রেনের দাবিতে এমপি বাদশার স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী-কলকাতা রুটে দ্রুত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করার দাবিতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *