অক্টোবর ১৮, ২০১৭ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ

Home / slide / দালালের প্রতারণা, তুরস্কের কারাগারে গোদাগাড়ীর যুবক

দালালের প্রতারণা, তুরস্কের কারাগারে গোদাগাড়ীর যুবক

সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী : দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার এক যুবক বিপদে পড়েছেন। গৌউর চন্দ্র শীল (২৮) নামে ওই যুবক বর্তমানে তুরস্কের একটি কারাগারে বন্দী আছেন। গৌউর উপজেলার পাকড়ি ইউনিয়নের জাওইপাড়া গ্রামের নরেন্দ্রনাথ শীলের ছেলে।

গৌউরের ব্যাপারে সম্প্রতি তুরস্ক থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি এসেছে। এর প্রেক্ষিতে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা তার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে। গত বুধবার সংস্থাটির সদস্যরা গৌউরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে যান। এরপরই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। গৌউরের এমন বিপদের কথা শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

গোয়েন্দা সংস্থাটি বলছে, দালালের প্রতারণার কারণে গৌউরের এমন বিপদ ঘটেছে। সরেজিমন তদন্ত প্রতিবেদন তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন। এরপর গৌউরকে দেশে ফেরত আনতে সরকার উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে দালালের বিরুদ্ধেও।

গৌউরের বাবা নরেন্দ্রনাথ শীল (২৬) জানান, তার ছেলে পেশায় একজন নাপিত ছিলেন। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে গৌউর দালালের মাধ্যমে ইরাক যান। নানা প্রলোভন দেখিয়ে দালাল হযরত আলী (৫০) চার লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে বিদেশে পাঠান। ছেলের বিদেশ যাওয়াতে তিনি দুই লাখ টাকায় নিজেরএক বিঘা জমি বিক্রি করেন। বাকি টাকা একটি বেসরকারি সংস্থা ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ নেন।

তিনি আরও জানান, মাসে ৩৫ হাজার টাকা বেতনে ইরাকে গৌউরকে অফিস পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তাকে সড়ক পরিস্কারের কাজ দেওয়া হয়। প্রচণ্ড গরমে কষ্ট করে গৌউর এ কাজ করছিলেন। কিন্তু বেতনও তেমন একটা দেওয়া হতো না। এরই মধ্যে

মাত্র এক বছরের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে মাত্র এক লাখ টাকা দেশে পাঠাতে পারেন গৌউর।

গৌউরের স্ত্রী রুমা রানী (২৬) জানান, ইরাকে বেতন দেওয়া হতো খুবই সামান্য। বেতন মিলতো দুই-তিন মাস পরপর। কাজ করতে হতো প্রচণ্ড রোদের ভেতর। খাওয়ার কষ্টও ছিল মারাত্মক। দালাল তাকে মাত্র এক বছরের ভিসায় ইরাক পাঠিয়েছেন, এ বিষয়টি তারা আগে জানতেনও না। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তার স্বামী বিনা ভিসায় তুরস্কে প্রবেশ করেন। প্রায় এক মাস আগে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে।

রুমা রানী জানান, গৌউর বিদেশ যাওয়ার পর থেকে দারুণ আর্থিক অনটনে পড়েছেন তিনি। এক ছেলে ও এক মেয়েসহ নিজের খাবার জোগাড়ই তার কাছে খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এর উপরে আছে আত্মীয়-স্বজনদের ঋণ। দালাল হযরত আলী পূর্ব পরিচিত হওয়ায় একবার তার কাছে তিন হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। কিন্তু তাও তিনি দেননি। তার স্বামীর ভালো কাজেরও ব্যবস্থা করেননি। এখন তাদের কোনো খোঁজও নেন না ওই দালাল।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুমা রানী তার স্বামীকে দেশে ফেরত আনার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান। পাশাপাশি তিনি দালাল হযরত আলীর শাস্তি দাবি করেন। হযরত আলীর বাড়ি উপজেলার মাটিকাটা গ্রামে। মাটিকাটা দাখিল মাদ্রাসার সুপারও তিনি। বাহরাইন ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশে তিনি লোক পাঠান বলে নিজেই স্বীকার করেছেন।

গৌউর চন্দ্র শীলের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাকে এক বছরের ভিসায় ইরাক পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বিদেশ যাওয়ার চার লাখ টাকা তুলতে না পেরে ভিসা শেষে তিনি তুরস্ক প্রবেশ করেন। কিন্তু এটা অবৈধ। তাই তাকে গ্রেপ্তার করেছে তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এক্ষেত্রে আমার নিজের কোনো দোষ নেই।’

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

নাটোর সুগার মিল শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নাটোর প্রতিনিধি : জাতীয় মজুরী স্কেল ২০১৫ ঘোষনা ও বাস্তবায়নের দাবীতে নাটোরে দুটি সুগার মিলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *