অক্টোবর ১৯, ২০১৭ ৮:১৬ অপরাহ্ণ

Home / slide / ছিনতাইকারীর টার্গেট মোটরসাইকেল!

ছিনতাইকারীর টার্গেট মোটরসাইকেল!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা : রাজশাহীর বাঘাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এ চক্রটি এতটাই বেপরোয়া যে রাস্তায় অস্ত্র হাতে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই করছে। সর্বশেষ বাঘা ও লালপুর থানার সীমান্ত এলাকায় কলেজ শিক্ষককে গুলি করে হত্যার পর মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা। এতে করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।  অনেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় বের হতেও ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর গাফিলতির জন্য এই ধরণের ঘটনা ঘটছে।

জানা যায় , রাজশাহীর সীমান্তবর্তী উপজেলা হিসেবে পরিচিত বাঘা। জেলার দক্ষিণ-পূর্ব শেষ সীমানায় এ উপজেলার অবস্থান। একদিকে ভারতের সীমানা অন্যদিকে নাটোরের লালপুর এবং ঈশ্বরদী ঘেঁষা এ উপজেলার রাস্তা ঘাট অনেকটায় ফাঁকা। রাস্তা ফাঁকার সুযোগ নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত মাঠে নেমেছে। প্রকাশ্য অস্ত্র হাতে দুর্বৃত্তরা যখনই কোন মোটরসাইকেল আরোহীকে পাচ্ছে তখনই সুযোগ মত তাকে অস্ত্রের ভয় অথবা মারপিট করে মোটরসাইকেল ছিনতাই করছে।

সর্বশেষ ১২ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুর এই দুই উপজেলার দুই পুলিশ ফাঁড়ির মাঝখানে লালপুরের মহরকয়া কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মোশারফ হোসেনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারী চক্র।

এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোজাম্মেল হোসেন জানিয়েছেন, দুই মোটরসাইকেলে তিনজন লোক এসে ঘটনাস্থল বেরিলাবাড়ির ফাঁকা রাস্তায় অবস্থা নিয়েছিল। তারা মোশারফ হোসেনকে থামিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করার পর তিন মোটরসাইকেলে তিনজন দ্রুতগতিতে বাঘা থানা এলাকায় প্রবেশ করে। মোশারফ হোসেনের বাড়ি বাঘার পীরগাছা গ্রামে। তার পিতার নাম মুহাম্মদ আলী।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারী শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে আড়ানী-বাঘা সড়কের আড়ানী পৌরসভার সীমান্তের পিলার সংলগ্নে একই মোটরসাইকেলে সোনাহদ গ্রামের উৎসব আহম্মেদ জীবন, কুদরত  মেহেদী হাসান ও পাঁন্নাপাড়া গ্রামের তোহা আলী একটি মোটরসাইকেল নিয়ে আড়ানী বাজারে আসছিল। তারা আড়ানী পৌরসভার সীমান্তের পিলার সংলগ্ন স্থানে পৌছালে ৫/৬ জনের একটি ছিনতাইকারীর দল তাদের পথরোধ করে। এ সময় উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাদের আত্মচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। তবে ছিনতাইকারীর মারপিট ও ছুরির আঘাতে তারা আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন।

অপরদিকে গত ২ জানুয়ারী বেলা ১টার সময় উপজেলার দিঘা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক সাইদুর রহমান ডিসকভার ১২৫ সিসি কালো রঙের মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দিঘা-চিথলিয়া সড়কের মিল মাঠের ফাঁকা স্থানে তার পথরোথ করে কতিপয় ছিনতাইকারী। এরপর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তার মোটরসাইকেলটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার আগে একই দিন বেলা ১২টার সময় উপজেলার বাউসা হেদাতিপাড়া গ্রামের আবদুল আজিজ ব্যাটারি চালিত ভ্যানে করে তার নববিবাহিত মেয়েকে নিয়ে আড়ানী বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় ছিনতাইকারীরা পথরোধ করে তাদের কাছে থাকা নগদ ৪০ হাজার টাকা, হাতের বালা, কানের দুল, ও গলার হার ছিনতাই করে পালিয়ে যায় ।

৯ জানুয়ারী দুপুরে বাঘায় অনুষ্ঠিত উন্নয়ন মেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে বাঘা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী কেয়ার কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনতাই করে ছিনতাইকারীরা । এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন কেয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসা দেন।

এ ছাড়াও গত বছরের ৭ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় বাঘা-আড়ানী সড়কের চকসিংগা গ্রামে মোটরসাইকেলে বাঘায় আসার সময় প্রকাশ্যে মারপিট করে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই এর ঘটনা ঘটে। এ মামলার বাদি শাহাদৎ হোসেন জানান, ঘটনার পরদিন বাঘা থানা পুলিশ তার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

ডিসেম্বরেই বাঘা সীমান্ত এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই এরপর পুলিশ মোটরসাইকেল চালকের মোবাইল উদ্ধার করলেও উদ্ধার করতে পারেনি ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল।

স্থানীয়রা বলছেন, থানা পুলিশ তাদের কর্তব্য পালনে চরম অবহেলা করছে। যার কারণে দুর্বৃত্তরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে কি করে এমন ধারাবাহিক ঘটনা ঘটতে পারে সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। লোকজন বলছেন, পুলিশ যদি ঠিকমত কর্তব্যপালন করে তবে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটতে পারে না।

বাঘা উপজেলার ব্যবসায়ি ও বনিক সমিতির নেতা কামাল হোসেন বলেন, মানুষ এখন রাস্তায় চলাচল করতে ভয় পাচ্ছে। যেভাবে দুর্বৃত্তরা একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে তাতে করে জীবনের নিরাপত্তার নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত। বিশেষ করে কলেজ শিক্ষককে যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তাতে করে এ আতঙ্ক আরো ঘনিভূত হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন তারা কি করছে এ আমাদের বোধগম্য নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাক্তার বলেন, সাধারণ মানুষ পুলিশের নিকট নিরাপত্তা চায়। আর পুলিশ নিরাপত্তা দিতে যদি ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা কোথায় যাবো। যে ভাবে প্রকাশ্য ঘটনাগুলো ঘটছে তাতে করে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কত নাজুক সেটি অনুমেয়। তিনি বলেন, দিনের বেলায় যেভাবে তারা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে তাতে করে রাতে কেউ মোটরসাইকেল কিংবা এমনিতেই বাসা বাড়ি থেকে বের হবেন কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

তবে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মাহামুদের দাবি, বাঘা থানায় আইনশৃঙ্খলার অবস্থা ভাল। ছোটখাট বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও সব বিষয়ে থানায় অভিযোগ আসেনা। যে অভিযোগগুলো এসেছে তার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি উপজেলার ছিনতাই এর সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন,  আমাদের থানায়  রিজার্ব ফোর্স টহল পুলিশ হিসেবে ৪ টি গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে।  এখন থেকে তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবে।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটররা

সাহেব-বাজার ডেস্ক : মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *