Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে ইউপি ফোরাম নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়– বিস্তারিত....
  • জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অভয়াশ্রমের গুরুত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ– বিস্তারিত....
  • প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে তিন অস্ত্র কারবারি আটক– বিস্তারিত....
  • মোহনপুরে মাদক, সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার– বিস্তারিত....
  • মোহনপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধুর আত্মহত্যা– বিস্তারিত....

শীতের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে রোগ-বালাই

জানুয়ারি ১০, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়ছেই। আর শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রায় সব বয়সী মানুষের রোগ-বালাই। বিশেষ করে শিশুদের রোগ-বালাই বছরের অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। এতে হাসপাতালে বেড়ে গেছে রোগির চাপ। তবে আগের মতোই আছে চিকিৎসক ও সেবিকাদের সংখ্যা। ফলে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের প্রধান ডা. ছানাউল হক মিয়া জানান, হাসপাতালের ১০, ২৪, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে শিশু রোগিদের ভর্তি করা হয়। এই চার ওয়ার্ডে ১২০টির মতো শয্যা আছে। তবে এখন শিশু রোগি ভর্তি আছে চারশোরও বেশি। যদিও অন্য সময় বড়জোর দুইশোর মতো শিশু রোগি হয়ে থাকে। বাড়তি রোগিদের ওয়ার্ডের মেঝেতে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সগুলোতেও শিশু রোগির চাপ বেড়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় সেখানে রোগ সারানোর চেষ্টা চলছে। সম্ভব না হলে রোগিদের রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। বাইরের অন্য কয়েকটি জেলা থেকেও রামেক হাসপাতালে রোগি আসছে। বহু সংখ্যক শিশু রোগি ভর্তি আছে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে।

মঙ্গলবার দুপুরে রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ড শিশু রোগিতে ঠাসা। সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও সেবিকারা। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শয্যা না পাওয়ায় বেশ কিছু শিশু রোগিকে মেঝেতে শুইয়ে রাখা হয়েছে। আর রোগির স্বজনদের চাপে সেখানে হাঁটাচলার মতো জায়গাও তেমন একটা নেই।

কুষ্টিয়া সদরের কুমারগাড়া থেকে দুই মাস বয়সী শিশু আলিফ হোসেনের চিকিৎসা করাতে হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে এসেছেন বাবা মনির খান শিমু। তিনি জানান, ১০ দিন হলো নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে আলিফ। চিকিৎসা করেও রোগ সারছে না। এখন দেখা দিয়েছে খিঁচুনি।

গোদাগাড়ী উপজেলার মাণ্ডইল গ্রাম থেকে দুই বছরের মাহমুদা খাতুনকে নিয়ে এসেছেন তার মা রাবেয়া বেগম। তিনি জানান, ১০ দিনের জ্বর নিয়ে ১৬ দিন আগে তিনি মাহমুদাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসা করেও এখন পর্যন্ত জ্বর সারানো যাচ্ছে না। এরই মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে মাহমুদা।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতে ঠাণ্ডা লেগে শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিউলাইটিস রোগ। নিউমোনিয়ার প্রকোপ শিশুদের মাঝে সারা বছর কমবেশি দেখা গেলেও ব্রঙ্কিউলাইটিসের প্রকোপ তেমন থাকেনা। কিন্তু শীতে রেসপিরেটরী সিনসেটিয়াল ভাইরাস (আরএসবি) ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে সংক্রমণজনিত এই রোগটির প্রকোপ হঠাৎ করে বেড়ে গেছে।

রামেক হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের প্রধান ডা. ছানাউল হক মিয়া জানান, গত কয়েক দিন থেকে হাসপাতালে গড়ে ৪০ জন করে শিশু রোগি ভর্তি হচ্ছে। এ সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি। স্যাঁতসেতে পরিবেশ ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে শিশুরা এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব রোগ থেকে শিশুদের বাঁচাতে তাদের কোনোভাবেই যেন ঠাণ্ডা না লাগে, সে দিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী অঞ্চলে এখন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। এতে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত রোববার মৌসুমের সর্বনিম্ব তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।