অক্টোবর ১৯, ২০১৭ ৮:১৬ অপরাহ্ণ

Home / slide / দুর্গাপুরে ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খননের প্রতিযোগিতা

দুর্গাপুরে ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খননের প্রতিযোগিতা

মিজান মাহী , দুর্গাপুর : দুর্গাপুরে ঢাকঢোল পিটিয়ে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের রেড এলাডের পরেও উচ্চ আদালত থেকে ডিগ্রী নিয়ে আসার কথা বলে প্রসাশনকে ম্যানেজ করে পাল্লা দিয়ে পুকুর খননের প্রতিযোগিতা চলছে। ফসলি জমি শ্রেণি বদল না করে প্রায় ৩৫টি ড্রেজার ও ভেকু মেশিন দিয়ে চলছে এই খননের কারবার। যেন দেখার কেউ নেই। তবে পুকুর খননকারীরা দাবি করেন তারা প্রসাশনকে ম্যানেজ করেই পুকুর খনন করছেন। উপজেলায় এভাবে পুুকুর খনন চলতে থাকলে আগামীতে আশংকাজনক হারে ফসলি জমি শূন্যের কোটায় নেমে যাবে বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।

দুর্গাপুর উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০থেকে ২৫টি স্থানে পাল্লা দিয়ে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা চাষিদের বেশি টাকার প্রলোভন দিয়ে ফসলি জমি নষ্ট করে বড় বড় আয়তনের পুকুর ও দিঘি খনন করে চলেছেন। এরমধ্যে বেলঘরিয়া মৌজার প্রায় ৫০বিঘা জমিতে ড্রেজার মেশিন চালিয়ে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এছাড়াও কয়ামাজমপুর মৌজায় দেখা যায় ব্রিজের মুখে দুটি ড্রেজার মেশিন দ্বারা প্রায় ৬০বিঘা আয়তনের পুুকুর ড্রেজার ও ভেকু মেশিন দিয়ে চলছে এই খননের কারবার। এছাড়াও উপজেলার মাড়িয়া, জয়নগর, দেবীপুর, সূর্যভাগ, শালঘরিয়া, নান্দ্রিগ্রাম, ভবানীপুর, উজালখলসী, নওপাড়া, আলীপুরে পুরোদমে ফসলি জমি নষ্ট করে বড় বড় আয়তনের পুকুর খননের কাজ চলছে।

স্থানীয়রা জানান, এমনিতেই পুরো বাংলাদেশের মধ্যে পুকুরের সংখ্যা প্রথম স্থানে রয়েছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা। বর্তমানে যে হারে পুকুর খননের কাজ চলছে তাতে করে আগামী ২-১বছরের মধ্যে অচীরেই এই উপজেলায় খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকিতে পড়বে বলে মনে করেন। তারা আরো জানান, এক শ্রেণি অসাধু ব্যবসায়ীরা চাষিদের ভুলভাল বুঝিয়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ থেকে ১০বছরের জন্য পুকুর খনননের জন্য লিজ গ্রহণ করছেন। ফলে চাষিরা আগামী দিনের কথা না ভেবেই তাদের জমি লিজ দিচ্ছেন। চাষীদের সচেতন ও পুকুর খনন বন্ধ না করা গেলে এই উপজেলার মানুষ এক সময় বড় বিপদগামী হবেন। এদিকে, পুকুর খননকারী মালিকরা হাইকোট থেকে প্রায় ২থেকে ৩লক্ষ টাকা খরচের বিনিময়ে অনুমোদন নিয়েই তারা পুকুর খনন করছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর/১৬ রাজশাহী জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি অফিস পরিদর্শন করেন। ওই সময় জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খননের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসলে তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এছাড়া তিনি পরিদর্শন বহিতে এ ব্যাপারে একটি নোট লিখেন।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর থেকে এ উপজেলায় পুকুর খনন বেড়ে গেছে। গত বছর পর্যন্ত এ উপজেলায় পুকুরের সংখ্যা প্রায় ৬হাজার ১২৯টি। ২০১০ সালের পর থেকে এ উপজেলার ১০টি বিলে প্রতি বছর প্রায় ৫০-৬০টি পুকুর খনন করা হয়েছে অপরিকল্পিত ভাবে।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, উপজেলা বর্তমানে অবৈধভাবে পুকুর খননের কোন সুযোগ নেই। হাই কোটরে আদেশে কিছু জায়গা পুকুর খনন হচ্ছে। তাছাড়া এমনিতে কোথাও পুকুর খনন করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটররা

সাহেব-বাজার ডেস্ক : মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *