Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • প্রশাসনিক দায়িত্ব হারাচ্ছেন বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান– বিস্তারিত....
  • দায়িত্ব অবহেলায় বরিশাল ও বরগুনার ডিসি প্রত্যাহার– বিস্তারিত....
  • নাটোরে অস্ত্রসহ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ– বিস্তারিত....
  • তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা সরকারের নেই : নজরুল ইসলাম খান– বিস্তারিত....
  • উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম কিস্তির চেক বিতরণ করল জেলা পরিষদ– বিস্তারিত....

একযুগেও আলোর মুখ দেখেনি রংপুর বিসিকের দ্বিতীয় শিল্পনগরী

জানুয়ারি ১০, ২০১৭

সাহেব-বাজার ডেস্ক : রংপুরে ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) অধীনে দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল প্রায় ১২ বছর আগে। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে নতুন এ শিল্পনগরী স্থাপনে জমি অধিগ্রহণের আবেদন করা হলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি। এ-সংক্রান্ত প্লট বরাদ্দের আবেদন শিল্প মন্ত্রণালয়ে পৌঁছলেও তা একনেকে উত্থাপন করা যায়নি। ফলে বিভাগীয় এ নগরীতে পরিকল্পিতভাবে শিল্পের বিকাশ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প নির্মাণে ইচ্ছুক একাধিক উদ্যোক্তা।

জানা গেছে, নগরীর সিও বাজার কেল্লাবন এলাকায় ১৯৬৭ সালে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের জন্য ২০ দশমিক ৬৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এখানে শিল্প-কারখানার জন্য ৮২টি প্লটও নির্মাণ করা হয়। প্লটগুলোর আয়তন ৯ হাজার বর্গফুট থেকে ১৮ হাজার বর্গফুট। বর্তমানে এখানে ২৭টি কারখানা চালু আছে। এর মধ্যে আরএফএলের আছে পাঁচটি ইউনিট। এছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিএডিসি কোল্ড স্টোর, চৌধুরী কোল্ড স্টোর, রংপুর ফ্লাওয়ার মিলস, সাঈদ বেকারি ও মিল্কভিটা অন্যতম।

কিন্তু স্বাধীনতার আগে প্রতিষ্ঠিত শিল্পনগরীটি বর্তমানে এ অঞ্চলের বর্ধিত জনসংখ্যার চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। তাছাড়া স্বাধীনতার পর এ অঞ্চলে শিল্পোদ্যোক্তার সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে জেলার দোকান মালিক সমিতি, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজসহ শিল্পোদ্যোক্তাদের একাধিক সংগঠন। এ অবস্থায় রংপুর অঞ্চলে নতুন আরো একটি শিল্পনগরী স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সার্বিক বিষয় উপলব্ধি করে জেলা বিসিক কর্তৃপক্ষ ২০০৪-০৫ অর্থবছরে নগরীর অদূরে দমদমা ও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন তালুক ধর্মদাস এলাকায় দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনে ৫০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ আবেদনের কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

রংপুর নগরীর বাসিন্দা গোল্ডেন হ্যান্ডিক্রাফটের (বিডি) ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও রফতানিকারক শাহজাহান কবীর বাবু জানান, বর্তমানে তার পাটের তৈরি ফ্লোরমেট ও অন্যান্য পাটজাত পণ্য জার্মানিসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। কিন্তু দ্বিতীয় শিল্পনগরীর অভাবে বাধ্য হয়ে তাকে আবাসিক এলাকায় কারখানা স্থাপন করতে হয়েছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি জাপানি বায়াররা রংপুরে এসেছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তার ইস্যুতে নগরীর অদূরে তামপাটে অবস্থিত তার পাটজাত পণ্য তৈরির কারখানা পরিদর্শনে আসতে রাজি হননি। কিন্তু কারখানাটির অবস্থান বিসিকের মতো নির্দিষ্ট জোনে হলে এ সমস্যা হতো না। তিনি আরো জানান, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানটি সুইস এশিয়া জুট ভেল্যু চেন প্রজেক্টের অধীনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক নম্বরে আছে।

নগরীর কামাল কাচনার বাসিন্দা ও সাগর এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক জাভেদ হাসান জানান, বিসিকের দ্বিতীয় শিল্পনগরী গড়ে না ওঠায় তিনি আবাসিক এলাকায় ক্ষুদ্র শিল্প-কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ছাড়পত্র না পাওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে নগরীর সিও বাজার কেল্লাবন এলাকায় অবস্থিত বিসিক অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন উদ্যোক্তা কারখানা স্থাপনে জমির জন্য যোগাযোগ করছেন। জেলা বিসিকের ডিজিএম খায়রুল আলম আল মাজী বলেন, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে রংপুরে দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে এখনো চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশার কথা হলো, গত ৬ ডিসেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আজিজুল ইসলাম শিল্পনগরীর জন্য আবেদনকৃত জায়গাটি সরেজমিনে দেখে গেছেন।

কিন্তু বিসিকের একটি সূত্রে জানা গেছে, এ পরিদর্শনের পর জমি অধিগ্রহণ করে এখন থেকে কাজ শুরু হলেও শিল্প-কারখানার জন্য তা উপযোগী হতে আরো পাঁচ-সাত বছর সময় লাগবে।

জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, রংপুর দেশের সপ্তম বিভাগে উন্নীত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এ অঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে; যারা বিসিকের জমি না পেয়ে আবাসিক ও কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলেছেন। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত কৃষিজমির ওপর চাপ বাড়ছে। তিনি দ্রুত দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।