Ad Space

তাৎক্ষণিক

চিনি হয়ে যাচ্ছে খেঁজুর গুড়!

জানুয়ারি ৯, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর : দুর্গাপুর উপজেলা চলতি শীত মৌসুমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চিনি খেঁজুর গুড়ে মিশ্রণ করে খুরি-পাটালি তৈরি করে বাজারে বিক্রয় করছেন অসাধু গাছি ও ব্যবসায়ীরা। চিনির দামের চেয়ে খেঁজুরের গুড়ের দাম বেশি হওয়ায় খেঁজুর গাছ মালিকসহ কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা এমন প্রতারণামূলক কাজ করেই চলেছেন বলে অভিযোগ করছেন বাজারে গুড় ক্রয় করতে আসা ক্রেতারা।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, একেকজন গাছ মালিক ও ব্যবসায়ীরা প্রতি ৫ কেজি খেঁজুর গুড়ের মধ্যে কমপক্ষে ২০-২৫কেজি চিনি মিশ্রণ করে খুরি-পাটালি তৈরি করে। তৈরিকৃত ওইসব পাটালি এইতই চকচকে দেখে বোঝা মুশকিল যে কোনটা আসল আর কোনটা ভেজাল।

বর্তমান বাজারে চিনির মুল্যে ৬০-৬২টাকা আর খেঁজুর গুড় বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকায়। তাই কিছু অতিশয় লোভী ব্যক্তিরা অতি মুনাফার আশায় এমন প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। ফলে প্রতারিত হচ্ছেন কিনে খাওয়া সাধারণ মানুষজন। এই ভেজাল গুড় যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এবিষয়ে দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেওয়ান নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতি থেকে আসা রস থেকে তৈরিকৃত গুড় উত্তম। এতে আবার চিনি মিশ্রণ করে গুড় তৈরি করলে বিষক্রীয়া তৈরি হতে পারে। যা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন প্রকার জটিল রোগ দেখা দিতে পারে বলে।

অভিযোগ কারী কয়েকজন ক্রেতা জানান, উপজেলার দুর্গাপুর বাজার, দাওকান্দি, হাটকানপাড়া, কালিগঞ্জ, আলীপুর বাজারে এমন ভেঁজাল গুড় বেশি বিক্রয় হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলার সচেতন মহল ও সুশীল সমাজ প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করে আইনী সহায়তা চেয়েছেন। যাতে করে এমন ভয়ংকর প্রতারণা মূলক কর্মকান্ড বন্ধের সু-ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।