Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • ১২০০ শিক্ষার্থীকে আম্রপালির চারা দিলো আলোঘর– বিস্তারিত....
  • দেশ ও আমাদের এতিম দুই বোনের জন্য দোয়া করবেন: প্রধানমন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • নাটোরে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্পের উদ্বোধন– বিস্তারিত....
  • রোববার রাজশাহী আসছেন এলজিইডি মন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • মেহেরপুরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়ি ঘেরাও– বিস্তারিত....

দুর্গাপুরে মাকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা, মেয়ে ও জামাই গ্রেফতার

জানুয়ারি ৭, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর : রাজশাহীর দুর্গাপুরে মৃত শ্বশুরের ব্যাংকে রেখে যাওয়া  টাকার হিসাব না পেয়ে শাশুড়ি শাহিদা বেওয়াকে (৫৫) পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে পাষন্ড মেয়ে সুমি ও জামাই রনি। মেয়ে ও জামাই মিলে টানা ১০ ঘন্টা ঘরে বন্দি করে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্যাতন চালান শাহিদা বেওয়ার ওপর।

শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামের লোকজন শাহিদা বেওয়ার বাড়ির গেট ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয় এবং মেয়ে সুমি ও জামাই রনিকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহিদা বেওয়াকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শাহিদা বেওয়া নিজেই বাদী হয়ে মেয়ে শারমিন আক্তার সুমি ও জামাই ফয়সাল সিদ্দিকী রনির নামে থানায় মামলা দায়ের করেছে। দুর্গাপুর থানার পুলিশ সুমি ও রনিকে গ্রেফতার করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর পৌর এলাকার শ্রীপুর গ্রামের আবদুস সাত্তার মারা গেছেন গত দেড় বছর আগে। মারা যাওয়ার কিছু দিন আগে বড় মেয়ে সুমির নামে বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় কোটি টাকা শর্ত সাপেক্ষে রেখে যান। মৃত আবদুস সাত্তারের স্ত্রী শাহিদা বেওয়া মারা গেলে ওই টাকার মালিক হবেন বড় মেয়ে সুমি। এর প্রেক্ষিতে গত কয়েক মাস ধরেই সুমি ও রনি মিলে শাহিদা বেওয়াকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু কোন চাপেই কাজ হচ্ছিল না। ঘটনার রাত গত শুক্রবারে মেয়ে সুমি ও জামাই রনি বেড়াতে আসে শাহিদা বেওয়ার বাড়িতে। রাতে টাকার হিসেব নিয়ে শুরু হয় ঝগড়া। এই ফাঁকে শাহিদা বেওয়ার মেঝো ও ছোট মেয়ে যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন রাত ৮ টার দিকে শাহিদা বেওয়াকে ঘরে আটকিয়ে রাখে মেয়ে সুমি ও জামাই রনি। এভাবে পরের দিন শনিবার সকাল ১০ টা পর্যন্ত আটকে রেখে চলে দফায় দফায় পাশবিক নির্যাতন। সকালে দুই মেয়ের ঘুম ভেঙ্গে তারা মায়ের খোজ করলে তাদেরকেও ভয় দেখায় সুমি ও রনি। ঘটনাটি কাউকে জানালে তাদের অবস্থাও এমন হবে বলে তাদেরকেও ভয়ভীতি দেখায়।

এক পর্যায়ে তারা কাঁদা শুরু করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে ঘটনা জানাজনি হয়ে পড়ে। তাৎক্ষনিক গ্রামের লোকজন বাড়িটি ঘেরাও করে বাড়ির গেট ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে শাহিদা বেওয়ার উপরে চালানো নির্যাতন দেখে থানায় খবর দেয় এবং সুমি ও রনিকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে শাহিদা বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় বৃদ্ধা শাহিদা বেওয়া নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করে।

স্থানীয়দেও ধারণা, ব্যাংকে রাখা কোটি টাকা বাগাতেই শাহিদা বেওয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তিনি মারা গেলে ওই টাকার মালিক হতেন বড় মেয়ে সুমি। তাদের ধারণা সুমি ও রনি দ্জুনেই মাদকাসক্ত। তারা প্রায় প্রায় শাহিদা বেওয়ার উপর নির্যাতন চালাতেন। কিন্তু গ্রামের লোকজন সেটা দেখেও দেখতেন না।

দুর্গাপুর থানার এস আই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর শাহিদা বেওয়ার মেয়ে সুমি ও জামাই রনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে।