সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

Home / slide / টার্গেট জঙ্গি জিয়া-মুসা

টার্গেট জঙ্গি জিয়া-মুসা

সাহেব-বাজার ডেস্ক : পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ জঙ্গি নেতা তামিম আহমেদ চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম মারজান পুলিশি অভিযানে নিহত হওয়ায় ভেঙে পড়েছে নিউ জেএমবির জঙ্গি নেটওয়ার্ক। গোয়েন্দাদের ধারণা, নিউ জেএমবির নেতৃত্ব পর্যায়ে এখন কাজ করছে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আসা আরেক জঙ্গি মুসা। এছাড়া আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের নেটওয়ার্ক অনেক আগেই ভেঙে পড়েছে সংগঠনটির প্রধান মুফতি জসিমউদ্দিন রাহমানি গ্রেফতারের পর।

এরপর সংগঠনটির হাল ধরেন সেনাবহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর জিয়া। তার নির্দেশনায় স্লিপার সেলের সদস্যরা ব্লগার, প্রকাশক ও সাহিত্যিকদের হত্যার মিশনে মাঠে নামে। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর মেজর জিয়াকে গ্রেফতারে ২০ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়। যদিও তাকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে পুলিশের বর্তমান প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছেন মেজর জিয়া ও মুসা।

জানতে চাইলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ছানোয়ার হোসেন জানান, নিউ জেএমবিসহ অন্য জঙ্গি সংগঠনের নেটওয়ার্ক তছনছ হয়ে গেছে। তাদের নেতৃত্ব পর্যায়ের অনেকেই গ্রেফতার ও পুলিশি অভিযানে নিহত হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার ভোরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন নিউ জেএমবির শীর্ষ নেতা নুরুল ইসলাম মারজান। ধারণা করা হচ্ছে বর্তমান এই সংগঠনের হাল ধরেছেন মুসা। যদিও মুসা তার প্রকৃত নাম কি তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটা হয়তো তার সাংগঠনিক নামও হতে পারে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, একইভাবে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান মুফতি জসিমউদ্দিন রাহমানি গ্রেফতারের পর চাকরিচ্যুত মেজর জিয়া সংগঠনের হাল ধরেন। এই সংগঠনের মধ্যম ও নিচের সারির অনেকেই গ্রেফতার ও পুলিশি অভিযানে নিহত হয়েছে। বর্তমান জিয়াকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে জঙ্গিবাদ বিষয়ে স্বস্তি নেমে আসবে। যদিও এই দুই সংগঠনের মেরুদণ্ড অনেক আগেই ভেঙে গেছে। ছিন্নভিন্ন সাংগঠনিক অবস্থায় কিছু সদস্য রয়েছে। যারা গোয়েন্দা জালে রয়েছে। যেকোন সময় তাদেরকেও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, গত বছরের ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে পুলিশের ‘অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭’-এ নিহত হন নিউ জেএমবির শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরি। সর্বশেষ শুক্রবার ভোরে নিহত কাউন্টার টোরোরিজম ইউনিটের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন নুরুল ইসলাম মারজান। পুলিশের জঙ্গি দমন ইউনিটের সদস্যরা এর মাধ্যমে সফলতার আরো একটি ধাপ পেরিয়ে গেলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে পুরস্কার ঘোষিত আরেক শীর্ষ জঙ্গিনেতা চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক। এ ছাড়া জঙ্গি ডেরায় এখনও আত্মগোপনে জঙ্গি মুসাসহ আরও কয়েকজন। এবার গোয়েন্দাদের টার্গেটে সেই জিয়া, মুসা ও তাদের সহযোগীরা। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য চলছে একের পর এক অভিযান। মোহাম্মদপুর, আশকোনা অভিযানের মতো জঙ্গিবাদ দমনে হয়তো শিগগিরই আরও কিছু সফলতা আসতে পারে বলে আশাবাদী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জঙ্গিবিরোধী অভিযান পুলিশের চলমান প্রক্রিয়া। মারজান-তামিম অধ্যায় শেষ হওয়ার পর এবার তারা জিয়া ও মুসাকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন। তাদের এখন বড় লক্ষ্য এ দু’জনকে গ্রেফতার করা। তাহলে আপাতত দেশে জঙ্গি কার্যক্রমের লাগাম টানা সম্ভব হবে।

সূত্রমতে, রিমান্ডে থাকা দুই নারী জঙ্গি শীলা ও তৃষা নিউ জেএমবির বিষয়ে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। এছাড়া সম্ভাব্য কিছু আস্তানার বিষয়েও মুখ খুলছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। হয়তো ওই সূত্র থেকে মুসা ও জিয়াকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, গত বছরের গত ২ আগস্ট তামিম চৌধুরী এবং চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ সদর দপ্তর। এর ২৪ দিনের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিহত হয় নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা তামিম। তার সঙ্গে আরও দু’জন নিহত হলেও মারজান ছিলো অধরা। শুক্রবার মারজান চ্যাপ্টার শেষ হওয়ায় অন্যদের গ্রেফতারের ‍বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দায়িত্বশিল কর্মকর্তারা।

জঙ্গি দমন ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত তামিম চৌধুরী ও মারজান গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁ ও শোলাকিয়ায় হামলার মাস্টারমাইন্ড। গুলশান হামলার আগে হামলাকারীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছে দিয়েছিল মারজান। সে ছিলো নব্য জেএমবির ‘ন্যাশনাল অপারেশন কমান্ডার’। এছাড়া দেশে মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার হত্যাকাণ্ডের হোতা মেজর জিয়া। তার নেতৃত্বে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে গড়ে তোলা হয় স্লিপার সেল। এই সেলের সদস্যরা অন্তত ৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ২০১৬ সালের শুরুতে এই সেলের এক সদস্য গ্রেফতারের পর জিয়ার আদ্যোপান্ত বেরিয়ে আসে। এরপর গোয়েন্দাদের হাতে থাকা অনেক মামলার জট খুলতে থাকে।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

রাজশাহীর ৫৪ হাজার কৃষক পাচ্ছেন প্রণোদনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাজশাহী অঞ্চলের ৫৪ হাজার ৬৯৬ জন কৃষক সরকারের প্রণোদনা পাচ্ছেন। বন্যার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *