আগস্ট ২০, ২০১৭ ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Home / slide / গেরিলাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বহাল

গেরিলাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বহাল

সাহেব-বাজার ডেস্ক : মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকার গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আদেন খারিজ করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় দেন। আদালতে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন ও সুব্রত চৌধুরী। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গত ৮ অক্টোবর গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকার গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতির আদালত। ওই দিন বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন আদালত।

এরপর গত ৩০ অক্টোবর স্থগিতাদেশ ২ সপ্তাহ বাড়িয়ে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা-সংবলিত গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দেন। এ রায় স্থগিত চেয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২৪ সেপ্টেম্বর আবেদন করে।

২০১৩ সালের ২২ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গেরিলা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কমরেড মণি সিংহ ও অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নাম ছিল এতে।

এক পর্যায়ের কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওই তালিকা-সংবলিত প্রকাশিত গেজেট বাতিল করা হয়। এ প্রেক্ষাপটে ওই তালিকা বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তালিকা বাতিলের ওই প্রজ্ঞাপনটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

সেইসঙ্গে তালিকা বাতিলের ২৯ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। আবেদনকারী হিসেবে এতে পক্ষভুক্ত হন আরো ৩৩ জন মুক্তিযোদ্ধা। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মন্ত্রণালয় চেয়েছে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তি সব সময় হয়েছে ব্যক্তিগত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। যেহেতু একটি সংস্থার তরফ থেকে কতগুলো নাম দিয়ে তালিকা দেওয়া হয়েছে, এটি ঠিক হয়নি। তালিকাভুক্তির নিয়ম হলো, প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করতে হবে, সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রগুলো দিতে হবে-এসব যুক্তিতে আবেদনটি করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা একটি গেরিলা বাহিনী গঠন করে মুক্তি সংগ্রামে অংশ নেয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্রসমর্পণ করেন ওই গেরিলা বাহিনীর সদস্যরা।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

আজ জহির রায়হানের ৮২তম জন্মদিন

সাহেব-বাজার ডেস্ক : দেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, বুদ্ধিজীবী ও লেখক জহির রায়হানের ৮৪তম জন্মদিন আজ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *