Ad Space

তাৎক্ষণিক

‘ধর্মের নামে ভারতে আর ভোট চাওয়া যাবে না’

জানুয়ারি ২, ২০১৭

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ধর্ম, জাতি ও ভাষার ভিত্তিতে আর ভোট চাওয়া যাবে না বলে রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার দেশটির শীর্ষ আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে একথা জানায়। আদালত তার রায়ে বলেছে, নির্বাচন একটা ধর্মনিরপেক্ষ বিষয়। আদালতের নির্দেশকে অমান্য করে কোন রাজনৈতিক নেতা যদি জাতি, ধর্মের নামে ভোট চায় তা বেআইনি এবং দেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী তা দুর্নীতি হিসাবে গণ্য করা হবে।

সাত বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত শীর্ষ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চ বিভিন্ন আবেদনকারীর মামলার ভিত্তিতে এদিন এই রায় দেয়। ১৯৯৫ সালে হিন্দুত্ব নিয়ে আদালতে দায়ের করা এ সম্পর্কিত একাধিক মামলায় জানতে চাওয়া হয়েছিল কোন ধর্মীয় নেতা যদি তার ভক্ত ও অনুরাগীদের কোন একটি রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়ার জন্য আর্জি জানান, তবে সেটা কি জনপ্রতিধিত্ব আইনের ১২৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী অন্যায় বলে গণ্য হবে কি না। আবেদনকারীদের সেই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত জানায় সাধারণ মানুষ এবং কোন ধর্মীয় নেতার মধ্যে যে সম্পর্ক বিরাজ করে তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয়। তাই এ বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না। কিন্তু ধর্মকে টেনে এনে তা ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না।

সাংবিধানিক বেঞ্চের সাত বিচারপতির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস ঠাকুর, বিচারপতি এম বি লোকুর, এস এ বোড়ে এবং এল এন রাও নির্বাচন থেকে ধর্মকে দূরে সরিয়ে রাখার পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে বিচারপতি এ কে গোয়েল, ইউ ইউ ললিত এবং ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এই তিন বিচারপতি এই মতের বিপক্ষে মত দেন।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাবসহ ভারতের পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে শীর্ষ আদালতের এই রায় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াল। কারণ উত্তরপ্রদেশে বরাবরই জাতপাতের ভিত্তিতে ভোট হয়ে থাকে। রাম মন্দির এবং বাবড়ি মসজিদকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি তাদের দিকে ভোট টানার চেষ্টা করে থাকে বলে শোনা যায়।

শীর্ষ আদালতের এই রায়ের ফলে ফের সক্রিয় হবে নির্বাচন কমিশন। কারণ কমিশনের আইনেই রয়েছে ধর্মের নামে ভোট চাইলে কোন প্রার্থীর প্রার্থীপদ বাতিল হতে পারে।