নভেম্বর ১৮, ২০১৭ ৩:০১ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / চরাঞ্চলের পেঁয়াজ নিয়ে হতাশায় কৃষক

চরাঞ্চলের পেঁয়াজ নিয়ে হতাশায় কৃষক

নুরুজ্জামান, বাঘা : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলের কৃষকরা এ বছর পেঁয়াজের বাজার মুল্য নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন। তারা বলছেন, গত বছর বন্যার পানি নামতে দেরি হওয়ায় পিঁয়াজ চাষাবাদ নিয়ে অনেকেই আতঙ্কে ছিলো । ইচ্ছে থাকার পরেও খুব বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে পারেনি কৃষকেরা। কিন্তু এবার ব্যাপক হারে পেঁয়াজ চাষাবাদহলেও বাজার মুল্যে ধস নামায় চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন পেঁয়াজ চাষীরা।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে , এ বছর বাঘা উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষমাত্রা ছিল প্রায় দুই হাজার হেক্টর। যা অতিক্রম করে চাষাবাদ হয়েছে আড়াই হাজার হেক্টর। এর মধ্যে অর্ধেক এর বেশি লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিল উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে। সে মোতাবেক চরবাসীদের অনেকেই আগাম পেঁয়াজের চাষ করেছেন। তাঁদের দেয়া তথ্য মতে, বাঘার চরাঞ্চলের পেঁয়াজ এর গুনগতমান ভাল। এ কারণে এখান থেকে প্রতি মৌসুমে বাস এবং ট্রাক যোগে পেঁয়াজ পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

চরাঞ্চলের কৃষক বাবলু দেওয়ান ও আকছেন শিকদার জানান, তারা গত বছর ইচ্ছে থাকার পরেও বন্যার পানি নামতে দেরি হওয়ায় উপযুক্ত জমি না পাওয়ায় খুব বেশি পেঁয়াজ চাষ করতে পারেননি। এ দিক থেকে এবার চরাঞ্চলের অসংখ্য কৃষক অনুকুল আবহাওয়া ও উপযুক্ত মাটি পেয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে দাম কমে যাওয়ায় তারা চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ ভারত থেকে (এলসি) পিঁয়াজ আসায় এবার দেশী পেঁয়াজের দাম পড়ে গেছে।

চরাঞ্চলের চকরাজাপুর ইউনিয়নের পেঁয়াজ চাষী গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি গত বছর অত্র মৌসুমে ১০ বিঘা পেঁয়াজ চাষ করে বাজার মুল্য পেয়েছিলেন ২২ টাকা। কিন্তু এবার জমি থেকে ১৩-১৪ টাকার উপরে এখন পর্যন্ত পেঁয়াজ বিক্রী করতে পারেননি। এর ফলে তিনি উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে আর্থিক ভাবে ক্ষতির মুখ দেখবেন বলে জানান।

এদিকে সমতল এলাকার বাউসা গ্রামের কৃষক মালেক মিয়া জানান, তিনি গত বছর পেঁয়াজের বাজার মুল্য ভাল দেখে এ বছর ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। কিন্ত আকষ্মিক ভাবে পেঁয়াজের বাজার মুল্য কমে যাওয়ায় তিনি চরম দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার মতে, সরকার যদি এখন থেকে পেঁয়াজের বাজার ধরে রাখতে পারে তাহলে সামনের মৌসুমে উৎপাদন কমে যাবে। আর উৎপাদন কমে গেলে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান, এ বছর দেশের সর্বত্রই কম-বেশি পেঁয়াজ এর আবাদ হওয়ায় উৎপাদন বেড়ে গেছে। এর ফলে বাজার মুল্য স্থিতিশীল রয়েছে। তার মতে, বাঘার সমতল এলাকায় যে পরিমান পেঁয়াজ উৎপন্ন হয় তার চেয়ে অনেক বেশি উৎপন্ন হয় উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে। তিনি পেঁয়াজ চাষাবাদের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

একযুগ পর বাঘা পৌর নির্বাচন, ক্লিন ইমেজের প্রার্থী চায় আ’লীগ

নুরুজ্জামান, বাঘা : বাঘা পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *