ডিসেম্বর ১১, ২০১৭ ৭:২৭ অপরাহ্ণ

Home / slide / বছর জুড়েই আত্মহননের মিছিল ছিলো দুর্গাপুরে

বছর জুড়েই আত্মহননের মিছিল ছিলো দুর্গাপুরে

মিজান মাহী : গত এক বছরে দুর্গাপুর উপজেলায় পারিবারিক কলহ, যৌতুক, নির্যাতন, অভিমান ও প্রেম সংঘটিত কারণে ২৬টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আলোচিত ছিল উপজেলার আমগ্রামের প্রেমিক যুগলের এক সাথে আত্মহত্যার ঘটনা। তবে বিগত বছর গুলোর চাইতে ১৬সালে দুর্গাপুরে হত্যা ধষর্ণসহ অন্যান্য ঘটনাও তুলনা মুলক ভাবে কম ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুমিকাও ছিল সন্তোষজনক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ২৬টি’র বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে উপজেলার আমগ্রামে প্রেমি-যুগল খাদেমুল হাসান খোকন (১৯) ও তিনা খানম (২৩) কাঁঠাল গাছে একসাথে রশি বেধে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকায়।

অপরদিকে, গলায় ফাঁস দিয়ে তন্ময় হাসান ইমন (২৩) নামের এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উপজেলার আলিয়াবাদ গ্রামের শামসুল ইসলামের ছেলে। ইমন ঢাকার বেসরকারি স্ট্রেট ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। চৌপুকুরিয়া গ্রামে পুত্রবুধুর উপর অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাশুড়ি কুলসুম বিবি (৪৫) আত্মহত্যা করে। সে ওই গ্রামের আকবর আলীর স্ত্রী।

আড়বাব গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরধরে রুপা খাতুন (১৪) নামের এক মাদরাসা ছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করে। সে ওই গ্রামের কাবিল উদ্দিনের মেয়ে ও গোপিনাথ পুর দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। বেলঘরিয়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরধরে বিষপান করে মর্জিনা খাতুন (২৮) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করে। সে ওই গ্রামের আলতাফ হোসেনের স্ত্রী।

হোজা অনন্তকান্দি মায়ের উপর অভিমান করে হালিমা খাতুন (১৪) নামের এক জেএসসি পরীক্ষার্থী বিষপানে আত্মহত্যা করে। সে ওই গ্রামের আলাউদ্দিনের মেয়ে। দেবীপুর গ্রামে গলায় ফাঁস দিয়ে আজিজুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করে। সে ওই গ্রামের দছিমউদ্দিনের পুত্র।

নান্দি গ্রামের পারিবারিক কলহের জেরধরে দুই সন্তানের জননী শ্রীমতি রাণী (৪০) নামের এক হিন্দু নারী আত্মহত্যা করে। সে ওই হারাণ সরকারের স্ত্রী। পানানগর গ্রামে অসুস্থ্যতার জ্বালা সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে চায়না বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধু আত্মহত্যা করে। সে ওই গ্রামের মেহের আলীর স্ত্রী।

চৌপুকুরিয়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরধরে হাজেরা বিবি (৭০) নামের এক বৃদ্ধা নারী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সে ওই গ্রামের জান মোহাম্মাদের স্ত্রী। চৌপুকুরিয়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে কুলসুম বেগম (৪৬) নামের তিন সন্তানের জননী গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। সে ওই গ্রামের আকবর আলীর স্ত্রী।

বহ্মপুর গ্রামের সোনিয়া খাতুন (১৯) নামের এক নববধূ আত্মহত্যা করে। সে ওই তাহাবুরের স্ত্রী। নান্দি গ্রামে মায়ের উপর অভিমান করে হালিমা খাতুন (১৪) নামের এক জেএসসি পরীক্ষার্থী বিষপানে আত্মহত্যা করে। সে ওই গ্রামের আলাউদ্দিনের মেয়ে। এসব ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে ১৫ টি ও আর বাকি গুলো হয়েছে রাজপাড়া থানায়।

দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আলম জানান, বেশির ভাগই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে পারিবারিক কলহ, নির্যাতন, যৌতুক, অভিমান, প্রেম সংঘটিত বিষয় নিয়ে। আত্মহত্যার প্রবনতা কমাতে সামাজিক জন সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া উপজেলায় হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, ডাকাতি ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেকাংশ কম।

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনার বিষয়ে (ওসি) আরো বলেন, নতুন বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বিভিন্ন স্কুল কলেজে গিয়ে ছাত্র ছাত্রীদেরকে এ বিষয়ে সচেতন করা হবে। এছাড়াও উপজেলার আইন শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ অব্যাহত আছে বলেও জানান ওসি।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

রাজশাহীতে ১৫টি সোনার বারসহ পাচারকারী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে ১৫টি সোনার বারসহ এক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *