Ad Space

তাৎক্ষণিক

২০১৬ সাল অস্ত্র উদ্ধারে চারঘাট ছিল জেলায় ৯ টি থানার মধ্যে শীর্ষে

ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬

মিজানুর রহমান, চারঘাট : দেখতে দেখতে জীবনের পাতা থেকে পেছনে চলে গেল একটি বছর। শত চেষ্টা করেও ফেরানো যাবে না ২০১৬। ২০১৬ সাল জুড়ে রাজশাহীর চারঘাট ছিল অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আলোচিত থানা। অস্ত্র উদ্ধারসহ আসামী গ্রেফতারে চারঘাট ছিল জেলার ৯ টি থানার মধ্যে সব চেয়ে আলোচিত থানা। অন্য থানা এলাকার চেয়ে অস্ত্রসহ আসামী গ্রেফতারে ছিল চারঘাট সবার শীর্ষে।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, ২০১৬ সালে জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ১৯৮ টি মামলার বিপরীতে বিদেশী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে ১০ টি ৪১ রাউন্ড গুলি এবং ১৭ টি ম্যাগজিন। অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে ১০ জন দুধর্ষ সন্ত্রাসীকে। এছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৭২ বোতল ফেন্সিডিল, ৫০০ কেজি গাজা গাজা, ৩০০ বোতল বিদেশী মদ, ৫ হাজার লিটার চোলাই মদ, ৭ হাজার ৩০০ পিচ ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে ২ হাজার ৩৬৫ জন ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী। অপর দিকে আদালতের সাজা প্রাপ্ত ওয়ারেন্ট ভুক্ত ৭৮ জন আসামীকে আটক করে পুলিশ।

এর মধ্যে ২০১৬ সাল অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ছিল চারঘাটবাসীর জন্য আতংকের একটি বছর। সীমান্তবর্তী উপজেলা হওযায় মাদকের একটি প্রভাব বরাবরই একটু বেশী হলেও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অনেকটা বিস্মীত ছিল চারঘাট। বছরের প্রতি মাসেই অস্ত্র ও গুলিসহ আসামী গ্রেফতারের ঘটনায় চারঘাট ছিল জেলার মধ্যে শীর্ষে। পুলিশের হাতে বছরে ১০ টি অস্ত্র উদ্ধার হলেও পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে কি পরিমাণ অস্ত্র দেশের ভিতরে পাচার হয়েছে তার কোন হিসেবে না থাকলেও অস্ত্র পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে চারঘাটকে যে ব্যবহার করছে সন্ত্রাসীরা তা অনেকটা নিশ্চিত চারঘাটবাসী। তবে পুলিশের চৌকশের নিকট সন্ত্রাসীরা অনেকটা হার মানতে বাধ্য হয়েছে। এনিয়ে চারঘাটের সচেতন মহর পুলিশের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলার মোক্তারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, চারঘাট বরাবরই মাদকের জন্য ব্যাপক পরিচিতি ছিল। তবে ২০১৬ সালে চারঘাট অনেকটা মাদকের সহনীয়তা দেয়া গেছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারী আর সততার নিকট মাদক আগের বছরের তুলনায় অনেকটা হৃাস পেয়েছিল। তবে আতংকের খবর অস্ত্র। হঠাৎ করেও ২০১৬ সালে একের পর এক অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটকের ঘটনায় আলোচিত হয়ে উঠে চারঘাট। জেলার অন্য ৯ টি থানায় এমন সফলতা না থাকলেও চারঘাট মডেল থানা পুলিশ দেখিয়েছিলেন এমন সফলতা।

তিনি বলেন, পুলিশের চৌকশের নিকট হার মানতে বাধ্য হয়েছিল সন্ত্রাসীরা। তবে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চারঘাটাবাসীও ছিল অনেকটা আতংকের মধ্যে।

মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত্ ানিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, ২০১৬ সালে অস্ত্র উদ্ধার ছাড়াও আসামী গ্রেফতারে জেলার অন্য থানা থেকে চারঘাট ছিল বার শীর্ষে। ধারাবাহিক ভাবে পুলিশের রাত দিনের পরিশ্রমের ফসল। অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে তাদের অপরাধ কর্মকান্ড করার চেষ্টা করবে। এটাই সাভাবিক। তবে পুলিশের চৌকশের নিকট চারঘাটের র্শীষ সন্ত্রাসী ইমান আলীসহ যাদের আটক করা হয়েছে। তারা মুলত দীর্ঘ দিন ধরে অস্ত্র ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। গোপনে একাধিক স্থানে একাধিক সোর্স নিয়োগ করে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। আর এ জন্য পুলিশ সদস্যদের রাত দিন সমান তালে করতে হয়েছে পরিশ্রম। সব মিলিয়ে ২০১৬ সাল ছিল চারঘাটে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আলোচিত বছর।