Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • রাজশাহীতে বিস্ফোরকসহ আটকদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা খুঁজছে পুলিশ– বিস্তারিত....
  • বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বৃষ্টি বাঁধা– বিস্তারিত....
  • ৩১১ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কা, তাসকিনের হ্যাটট্রিক– বিস্তারিত....
  • দেড় কোটি টাকা নিয়ে উধাও জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি– বিস্তারিত....
  • মোহনপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির মানববন্ধন– বিস্তারিত....

‘চলন নাটুয়া’র আয়োজনে শেষ হলো নাট্যৎসব

ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬

নাজমুল হাসান, নাটোর : ‘জীবন বিকশিত হোক, বিনয়ে-অভিনয়ে’ এই স্লোগানে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে নাটোরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দুই দিনব্যাপী নাট্যৎসব। নাটোরের ‘চলন নাটুয়া’ থিয়েটারের আয়োজনে ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর বাগাতিপাড়া উপজেলার ধুপইল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই নাট্যৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বিনোদন বঞ্চিত গ্রামবাংলার দর্শক-শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে এই নাট্যেৎসব উপভোগ করেন। নাটোৎসবের প্রথম দিনে স্থানীয় বকুল স্মৃতি থিয়েটারের পরিবেশনায় বনকাব্য ও ‘চলন নাটুয়া’ পরিবেশিত ‘বিজয়বসন্ত’ এবং দ্বিতীয় দিনে টাঙ্গাইলের ধুমকেতু থিয়েটারের খেকশিয়াল, নাটোরের ইঙ্গিত থিয়েটারের ‘দাবি’ এবং ‘চলন নাটুয়া’ পরিবেশনায় সিরাজ-উদ দৌলা নাটক মঞ্চস্থ হয়।

‘চলন নাটুয়া’ থিয়েটারের পরিচালক আবদুল মোমিন জানান, আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসনে খোলা মঞ্চে নাটক বা যাত্রাপালা প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে। তবে এ সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তার কথা উপলদ্ধি করে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখার লক্ষ্যে নাটোরের ‘চলন নাটুয়া’ নামে থিয়েটার গ্রাম বাংলার বিভিন্ন এলাকায় নাট্যায়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। সকল প্রকার অশ্লীলতা বর্জন করে, মানুষকে নির্মল বিনোদন ও সেই সাথে ইতিহাস তুলে ধরতে খোলা মঞ্চে তারা এসব নাটক মঞ্চস্থ করছে।

কোন প্রকার পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই তারা নিজেদের অর্থ খরচ করে বাংলার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন ‘চলন নাটুয়া’ নামের সংগঠন। সমাজের অতি সাধারণ মানুষদের অভিনেতা হিসেবে তৈরী করে তারা এ নাট্যদল চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রাম-বাংলার দর্শকরাও তাদের এ প্রয়াসে সাড়া দিয়ে তাদের মঞ্চস্থ নাটক দেখে তৃপ্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কাজী শাহিদ হোসেন দুলাল জানান, ‘চলন নাটুয়া’র আয়োজনে দুদিনব্যাপী যে নাট্যৎসব অনুষ্ঠিত হলো এর মধ্য দিয়ে আমরা একটি তথ্য দিতে চাই, আমরা প্রায় সাড়ে চারশ’ সংগঠন গ্রাম থিয়েটার এবং শিশু সংগঠন ভোর হলোর মাধ্যমে আমরা যে নাট্যচর্চা করছি, তার মাধ্যমে আমাদের গ্রামীণ চিত্র, লড়াই সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরছি। এর মধ্য দিয়ে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ রুখে দেওয়া সম্ভব হবে।

নাট্যাৎসবের আয়োজক ফারুক হোসেন জানান, নাট্য মেলার দুই দিনে পৌষের শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে দর্শকদের ঔৎসুকতা লক্ষ্য করার মত। নিজের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারার সাথে দর্শক শ্রেতাদের পরিচয় ঘটানোর প্রয়াস থেকে এমন আয়োজন। আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিস্তার ঘটাতে এমন আয়োজন মূখ্য ভূমিকা পালন করবে বলে জানান তিনি। সঠিক পৃষ্টপোষকতা পেলে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় নাট্যেৎসব প্রাণ ফিরে পাবে।

দু’দিনের নাট্যাৎসবে উপস্থিত ছিলেন লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনের সাংসদ অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ, নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন, বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার ফরহাদ আহমেদ প্রমুখ।