Ad Space

তাৎক্ষণিক

জেলা পরিষদ হবে দুর্নীতিমুক্ত : মোহাম্মদ আলী সরকার

ডিসেম্বর ২৮, ২০১৬

রিমন রহমান : নির্বাচনে জয়লাভের পর রাজশাহী জেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার বলেছেন, জেলা পরিষদ দুর্নীতিমুক্ত করবেন তিনি। আর জেলা পরিষদ চালাবেন স্থানীয় সরকারের সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই জেলা পরিষদের সব কাজ করা হবে।

নির্বাচিত হওয়ার পর বুধবার রাতে সাহেব-বাজার২৪.কমকে এ কথা বলেছেন মোহাম্মদ আলী সরকার। তিনি বলেন, ‘ভোট করতে মাঠে নেমে জেনেছি, স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি এতোদিন জেলা পরিষদ চিনতে পারেননি। কেন পারেননি! জেলা পরিষদ তো তাদের জন্যই। কেন তাদের এতোদিন জেলা পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়নি! এ অবস্থা থাকবে না। নির্বাচিত হয়েছি, আমি জনপ্রতিনিধিদের জেলা পরিষদ চেনাবো।’

তিনি বলেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে এতোদিন কোনো বরাদ্দ নিতে হলে তার একটা অংশ সেখানেই রেখে আসতে হতো। সেখানে অঘোষিত একটি ‘পার্সেন্টেজ প্রথা’ চালু ছিল। আজ থেকেই আমি এই ‘পার্সেন্টেজ প্রথার’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ নিতে কোনো ঘুষ লাগবে না। কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আমি সব বরাদ্দের সুষম বন্টন করবো।’

আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা জানিয়েছেন, জেলা পরিষদে যে ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও ৫ জন সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হলেন, তাদের মাধ্যমেই সব কাজ সম্পন্ন করা হবে। সরকারি কোনো বরাদ্দের ব্যাপারে তিনি নাক গলাতে চান না। নির্বাচিত সদস্য ও নারী সদস্যদের মাধ্যমে তিনি বরাদ্দের বন্টন করতে চান। তবে সে কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কী না তা সেদিকে তিনি কঠোর দৃষ্টি রাখবেন।

মোহাম্মদ আলী সরকার মনে করেন, জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে। আর এ কারণেই দলীয় সমর্থন না পেয়েও তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

তারা তাকে জানিয়েছেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি নির্বাচন করলেও কোনো সমস্যা নেই। নির্বাচনে জয়লাভ করায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বলেছিলেন, নির্বাচনে যেই নির্বাচিত হবেন, তাকেই বরণ করে নেওয়া হবে।

রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৭৪২ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ আলী সরকার। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত মাহবুব জামান ভুলু পেয়েছেন ৪১৫ ভোট। ভুলু জেলা পরিষদের প্রশাসক ছিলেন। নির্বাচনের ১৫টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিতেই মোহাম্মদ আলী সরকারের কাছে হেরেছেন তিনি।