Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • ভোটের ‘ধর্মীয় সেন্টিমেন্টে’ ভাস্কর্য সরানোর ‘পক্ষে’ আ’লীগ-বিএনপি– বিস্তারিত....
  • আমরা আজ হেরে গেলাম : ভাস্কর মৃণাল হক– বিস্তারিত....
  • নতুনদের জন্য ভিডিও এডিটিং কোর্স নিয়ে এলো বিআইটিএম– বিস্তারিত....
  • সৌদিতে রোজা শুরু শনিবার, বাংলাদেশে রবিবার– বিস্তারিত....
  • পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে ইংল্যান্ডে বাংলাদেশ দল– বিস্তারিত....

শেষ মূহুর্তেও আচরণবিধি ভাঙলেন এমপি আয়েন

ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণায় একেবারে শেষ সময়ে এসেও আচরণবিধি ভাঙলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সোমবার রাতে তিনি নির্বাচনের ভোটারদের নিয়ে মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভায় নির্বাচনি সভা করেছেন।

ওই সভায় এমপি আয়েন উদ্দিন জেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলুকে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের নির্দেশ দিয়েছেন। মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তারা জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যায় মোহনপুরের জনপ্রতিনিধিদের কেশরহাট পৌরসভায় হাজির হওয়ার জন্য এমপির পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সন্ধ্যার পর তারা সেখানে যান। এরপর রাত সাড়ে ৭টার দিকে এমপি আয়েন উদ্দিন সেখানে যান।

পরে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিয়ে পৌর ভবনের দোতলায় মিলনায়তনে সভা করেন এমপি আয়েন। ওই সভার ছবি বাইরে প্রকাশ হওয়ার ভয়ে সেখানে ভোটারদের মোবাইল ফোন না নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। সভা শুরু হলে পৌরসভার প্রধান ফটকে ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ভোটার ছাড়া বাইরের কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলে ওই নির্বাচনি সভা। সেখানে এমপি আয়েন মাহবুব জামান ভুলুকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের নির্দেশ দেন। ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের নানাভাবে হুমকি-ধামকিও দেন তিনি।

এ ব্যাপারে কথা বলতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এমপি আয়েন উদ্দিনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে ফোন করা হয়। এ সময় তার ব্যক্তিগত সহকারী ইকবাল হোসেন ফোন ধরে বলেন, ‘স্যার এখন ব্যস্ত আছেন, কথা বলতে পারবেন না।’

এমপি আয়েনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার শহিদুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। তাই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্যও করবেন না। তিনি এ বিষয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রিটার্নিং অফিসার রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীনকেও ফোন করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর মোহনপুরে পিকনিকের নামে ভোটারদের জড়ো করে ভুলুকে ভোট দেয়ার নির্দেশ দেন এমপি আয়েন উদ্দিন। তবে বিভিন্ন ইউপি থেকে আসা জনপ্রতিনিধিরা এর প্রতিবাদ করেন। তারা এমপির সামনেই ওই দিন ভুলুর ওপর ক্ষোভ ঝাড়তে থাকেন। তারা এমপিকে বলেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে কোনো কাজ নিতে গেলে আগাম ঘুষ দিতে হয়েছে। তারপরেও বহু কাজ পাওয়া যায়নি, টাকাও ফেরত পাওয়া যায়নি। এখন তিনি (ভুলু) আমাদের কাছে এসে ভোট চাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। আমরা তাকে কীভাবে ভোট দিব!’

ওই দিন বক্তব্য দিতে গিয়ে এমপি আয়েন বলেছিলেন, ‘ভুল-ত্রুটি মানুষের হতেই পারে। তাও তালগাছ মার্কায় আপনারা ভোট দিবেন। আমি মনে করি, ঠিক আছে! পাঁচ বছরে উনি কাজকর্ম তেমন করতে পারেননি। অনেক বিতর্ক ছিল। আমি অনেক জায়গায় বলেছি-ঠিক আছে, আমার ভুলু ভাই খারাপ। তাকে ভোট দেওয়া যাবে না। আপনারা হয়তো কষ্ট পেয়ে অনেকেই ভুলু ভাইকে ভোট দিবেন না বলছেন। ঠিক আছে, ভাই (ভুলু) ভুল-ত্রুটি করেছে, কিন্তু তোমরা যদি তাকে ভোট না দাও তাহলে তো তোমার জিনিসটা (টাকা) ফেরত পাচ্ছ না। তোমরা ভোট দাও। দিয়ে ওনাকে পাস করাও। আমি ইনশাল্লাহ চেষ্টা করবো, তোমাদের যে ‘খরচপাতি’ হয়েছে, সেটি যাতে করে কোনো প্রকল্প দিয়ে, কিছু করে সেই ক্ষতি পূরণ করা যায়, তা আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো।’

নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এমপি আয়েনের এমন প্রচারণায় জেলা পরিষদ নির্বাচনের আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার তার বিরুদ্ধে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। পরে সহকারী রিটার্নিং অফিসার তাকে শোকজ করেন। এরপরও আচরণবিধি মানলেন না এমপি আয়েন।

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক সুব্রত পাল বলেন, এমপিরা হলেন আইন প্রণেতা। আর তারাই যদি আইন না মানেন, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। নির্বাচন উপলক্ষে এমপিদের এলাকা ছাড়ার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরেও এমপি আয়েনের এমন কর্মকাণ্ড হতাশাজনক।