সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / তানোর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উত্তোলন হয় না জাতীয় পতাকা
তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

তানোর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উত্তোলন হয় না জাতীয় পতাকা

তানোর প্রতিনিধি : লাল-সবুজের পতাকা, পরাধীনতার শৃংখল ভেঙে বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন। যার ভেতরে লুকিয়ে আছে বাঙালির চেতনা, সংস্কৃতি আর স্বপ্নের বুনন। আর তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  দীর্ঘদিন থেকে উত্তোলন করা হয় না জাতীয় পতাকা। এ নিয়ে এলাকাবাসী মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারী আধা সরকারী ও সায়ত্বস্বাশিত প্রতিষ্ঠানে অফিস চলাকালীন সময় পর্যন্ত প্রতিদিন নিয়মিত ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, তাহলে কেন উপজেলা পর্যায়ে প্রধান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে না।

এলাকাবাসী বলছেন, এক দেশে দুই নিয়ম হয় কি ভাবে মন্তব্য করে বলেছেন, যে দেশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় সে দেশের উপজেলা পর্যায়ের প্রধান সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে না কেন। এমন প্রশ্ন করে উত্তর জানতে চান বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে সোমবার দুপুর ২টার দিকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পতাকা উত্তোলনের মঞ্চ তৈরি করা আছে, সেখানে বাঁশ থাকলেও পতাকা নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে দেখা করতে গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফরা বলেন, ম্যাডাম রাজশাহীতে মাসিক মিটিং আছে তাই আজ (সোমবার) তিনি অফিসে আসেননি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কোথায় থাকে জানতে চাইলে তারা বলেন, ম্যাডাম রাজশাহীতে থাকেন তিনি নিয়মিত অফিসে আসা যাওয়া করেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে  চাইলে তারা কিছু জানে না বলে জানান।

এ বিষয়ে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা (টিএইচও) ইসমত আরা বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রানালয় থেকে কোন নির্দেশনা দেওয়া নেই, বিশেষ দিন ছাড়া জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না’ জানিয়ে তিনি মোবাইলের কল কেটে দেন।

তানোর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল ওয়াহাব শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ যে পতাকার জন্য লাখ লাখ মানুষ আত্মহুতি দিয়েছে, দুই লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে, হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার অঙ্গহানী হয়েছে। এতসব ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের এই পতাকা। সেই পতাকা যে তোলা বাধ্যতামূলক এটাও যদি মানুষকে মনে করিয়ে দিতে হয় তাহলে কোথায় আমরা অবস্থান করছি। বাংলাদেশের সরকারী প্রতিষ্ঠানে অবশ্যই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। এটা সরকারী অফিসের নিয়ম। এজন্য আমি প্রশাসনের কাছে দাবী জানায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে’।

তানোর উপজেলা আ’লীগ সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানী বলেন, সরকারী ও স্বায়ত্বস্বাষিত অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার নিয়ম। পৌরসভা স্বায়ত্বস্বাষিত প্রতিষ্ঠান সেখানেও নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ফোন দিলে তার অফিসের প্রটোকোল অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার নিয়ম নেই বলে জানান।

এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত আলী বলেন, বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবহিত করে জানতে চেয়েছিলাম কিন্তু স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার কোন নির্দেশ নেই। তিনি আরো বলেছিলেন রাজশাহী জেলার কোন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়না। তবে ইউএনও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সরকারী নিয়ম ও নির্দেশনায় কি বলা আছে তা দেখে জাতীয় পতাকা অবমাননা করা হয় তাহলে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী অঞ্চলে বিদ্যুতের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সামাজিক সংগঠন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *