Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • রাসিকের অস্বাভাবিক হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি তদন্তের নির্দেশ মন্ত্রণালয়ের– বিস্তারিত....
  • দুর্গাপুরে পুকুর খননের অভিযোগে চারজন আটক– বিস্তারিত....
  • জয়পুর মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান– বিস্তারিত....
  • ছাত্রলীগ নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পেটালো আ’লীগের নেতারা– বিস্তারিত....
  • মোহনপুরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ– বিস্তারিত....

বড়দিনের আমেজ নেই সাঁওতালপল্লীতে

ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : বড়দিনের ছোঁয়া লাগেনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঁওতালপল্লীতে। প্রতি বছর এ সময় উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর ও জয়পুরপাড়া উৎসবমুখর হয়ে উঠলেও ব্যতিক্রম ঘটল এবার। কারণ বাপ-দাদার ভিটেয় বসবাস ও চাষবাসের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে গত ৬ নভেম্বর পুলিশি হামলায় স্বজন হারিয়ে, উচ্ছেদ হয়ে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী প্রায় তিন শতাধিক সাঁওতাল এখনও আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ অবস্থায় বড়দিনের উৎসব নিয়ে কোনো বিশেষ আয়োজন নেই সাঁওতালপল্লীতে। নেই কোনো উচ্ছ্বাস-আনন্দ। গির্জার সামনে ত্রিপলের নিচে আশ্রয় নেওয়া টাটু টুডু বলেন, ‘৬ নভেম্বরের হামলার পর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকছি। হুমকি-আতঙ্কে বাইরে গিয়ে কাজকর্মও করতে পারি না। এনজিও আর বিভিন্ন সংগঠন যে ত্রাণ দিয়েছে তা দিয়ে কোনোমতে দিন চলছে। এর মধ্যে উৎসব করব কেমন করে? পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতেই বা যাব কোনখানে? বাইরে থেকে আত্মীয়-স্বজনই বা আসবে কেমন করে?’

নারী-পুরুষদের কেউ নতুন কাপড় কেনেননি, শিশুদের জন্যও নেই কোনো উপহার। তারপরও দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম তাদের কাছে। তাই বড়দিন উপলক্ষে স্থানীয় মাদারপুর মিশন গির্জায় আয়োজিত প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তারা। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের বিশপ ফাদার সেবাস্টিয়ান টুডু। প্রার্থনা, কেক কাটা ও ধর্মীয় আলোচনায় অংশগ্রহণ করা ছাড়াও তিনি আদিবাসী সাঁওতালদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

আদিবাসী সাঁওতাল বার্নাবাস টুডু বলেন, ‘প্রতিবছর বড়দিনে আনন্দ-ফুর্তি হতো। বাড়িতে মেয়ে-জামাই ও মেহমান আসত। কিন্তু এবার আর সে আনন্দ নেই। ৬ নভেম্বরের হামলায় সবকিছুই হারিয়ে গেছে।’

অনতুলি হেমরম বলেন, ‘প্রতিবছর বড়দিন এলে তারা আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠতেন। পাড়ায় পাড়ায় নানা অনুষ্ঠান হতো। ছেলে-মেয়েরা সারাদিন ঘোরাফেরা করত, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিত। কিন্তু এবার সেসবের কিছুই হচ্ছে না।’

গত ৬ নভেম্বর পুলিশ প্রশাসন, মিল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় দখলদাররা সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার সাঁওতালপল্ল্লীতে হামলা, আগুন ও গুলি চালায়। এতে তিন সাঁওতাল নিহত ও আহত হয় অনেকে। উচ্ছেদ হয় সব পরিবার। এরপর থেকে এসব পরিবার মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার গির্জার সামনে, পরিত্যক্ত স্কুল মাঠ ও খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে।