Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গি আটকের ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা– বিস্তারিত....
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবিরের ঝটিকা মিছিল থেকে আটক ৭– বিস্তারিত....
  • পবিত্র রমজান শুরু রোববার– বিস্তারিত....
  • শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সংঘর্ষ, উদ্বিগ্ন সাংসদ বাদশা– বিস্তারিত....
  • ভোটের ‘ধর্মীয় সেন্টিমেন্টে’ ভাস্কর্য সরানোর ‘পক্ষে’ আ’লীগ-বিএনপি– বিস্তারিত....

রাজশাহী চেম্বারের মতো জেলা পরিষদও বদলাতে চান মোহাম্মদ আলী

ডিসেম্বর ২৪, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মতো জেলা পরিষদও বদলে দিতে চান জেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার। তিনি বলেছেন, তিনি যখন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন চেম্বারের অবস্থা ছিল খুবই করুণ। তিনি চেম্বারের অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হলে তিনি জেলা পরিষদেরও অবস্থার পরিবর্তন ঘটাবেন।

শনিবার সারাদিন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে গিয়ে ভোটারদের এমন প্রতিশ্রুতি দেন মোহাম্মদ আলী সরকার। বিশিষ্ট এই ব্যবসায়ী রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ছাড়াও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র পরিচালক ছিলেন। এছাড়াও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন সার্ক চেম্বারের পরিচালক হিসেবে। এবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহবুব জামান ভুলু।

বাগমারায় প্রচারণা চালাতে গিয়ে মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, তিনি যখন রাজশাহী চেম্বারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন সেখানে বসার মতো জায়গা ছিল না। কর্মচারিদের বেতন দিতে হতো নিজের পকেট থেকে। এমনকি চেম্বারের তহবিলে চা খাওয়ার মতো পয়সাও ছিল না। তিনি এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এখন সারাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে আদর্শ সংগঠন।

তিনি বলেন, নিজের প্রচেষ্টায় তিনি যেমন চেম্বারের চিত্র বদলে দিয়েছিলেন, তেমনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তিনি ‘রুগ্নসার’ জেলা পরিষদের চিত্রও বদলে দিতে চান। রাজশাহী জেলা পরিষদকে তিনি দেশের সেরা পরিষদ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। জেলা পরিষদকে তিনি স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের আশা-ভরসার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে শনিবার সকালেই মোহাম্মদ আলী সরকার বাগমারার গণিপুর ইউপিতে গিয়ে সেখানকার চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রঞ্জুসহ সকল সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এরপর তিনি শ্রীপুর ইউপিতে যান। পরে তিনি উপজেলার হামিরকুৎসা, মাড়িয়া, ঝিকড়া ও বড় বিহানালী ইউপিতে গিয়ে সেখানকার চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করে নিজের আনারস প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। এছাড়াও এ দিন সন্ধ্যায় তিনি ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় গিয়ে সেখানকার মেয়র আবদুল মালেকসহ সকল কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ সময় পৌর কাউন্সিলর হাসেন আলী মোহাম্মদ আলী সরকারকে বলেন, এতোদিন জেলা পরিষদ থেকে ১০০ টাকা নিতে গেলে ৫০ টাকা দিয়ে আসতে হয়েছে। মেয়র আবদুল মালেক অভিযোগ করেন, মসজিদের জন্য বরাদ্দ নিতে গিয়েও জেলা পরিষদে বরাদ্দের ৩০ শতাংশ দিয়ে আসার মতো অভিজ্ঞতা তার আছে। এর আগে বড় বিহানালী ইউপির চার বারের সদস্য ইসহাক আলী বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে যেমন চাষিরা জমি বর্গা নেন, তেমনি এতোদিন টাকার বিনিময়ে জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ নিতে হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা যেন বর্গাচাষি ছিলেন। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন চাই।’

মোহাম্মদ আলী সরকার তাদের বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে জেলা পরিষদ থেকে ‘পার্সেন্টেজ প্রথা’ বিলুপ্ত করবেন। জেলা পরিষদকে তিনি বদলে দিতে চান, যেমন বদলে দিয়েছিলেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তাই তিনি সবাইকে আনারস প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। ভোটাররাও এ সময় তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আগামী ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচন। ১৫টি ভোটকেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ জেলার সবগুলো পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা এই নির্বাচনের ভোটার। মোট ভোটার সংখ্যা এক হাজার ১৭১ জন।