Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • রাজশাহীতে বিস্ফোরকসহ আটকদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা খুঁজছে পুলিশ– বিস্তারিত....
  • বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বৃষ্টি বাঁধা– বিস্তারিত....
  • ৩১১ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কা, তাসকিনের হ্যাটট্রিক– বিস্তারিত....
  • দেড় কোটি টাকা নিয়ে উধাও জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি– বিস্তারিত....
  • মোহনপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির মানববন্ধন– বিস্তারিত....

‘যে টোকাইরা বিশ্ববিদ্যালয় বানান করতে পারে না, তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ে তালা লাগায়’

ডিসেম্বর ২৪, ২০১৬

রাবি প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হয়ে দেখতে হয় বহিরাগত যে টোকাইরা বিশ্ববিদ্যালয় বানান করতে পারবে না, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনে কি লেখা আছে তা পড়তে পারবে না, তারাই এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে যায়। তাই বলতে চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী যদি থু-থু দেয় তাতেই এসব টোকাই ভেসে যাবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করতে স্থানীয় ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বাধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনসহ ফটকগুলোতে তালা লাগিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন বিশবিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুল মজিদ অন্তর। শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সকাল ১১টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সমানে থেকে শুরু করে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে সেখানে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে হিসেব বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সায়মন রহমান বলেন, আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অথচ বহিরাগতরা  এসে আমাদেরকে জেলখানার আসামীর ন্যায় অবরুদ্ধ করে রাখে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেতাদের তেল মালিশ করতে পছন্দ করে, তেল মালিশ করে তারা ক্ষমতায় আসে বলেই আমাদের এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শক্ত হলে এমন ঘটনা ঘটতো না।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন ছাত্রলীগ আইনের বাহিরে নয়। তবে নেতারা কি আইনের ঊর্ধে? আপনারা আপনাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করুন যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্বশাসন বজায় থাকে। আপনারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সুষ্ঠু বিচার করুন।

এসময় অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রদীপ মার্ডি বলেন, আজ এমন একটি সংকটময় সময় যখন বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনসহ প্রধান ফটকগুলো অবরুদ্ধ করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  বাংলাদেশের একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান যেখানে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। আজকে যদি সকল শিক্ষার্থী ওইসব বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটু হুংকার ছাড়ত তবে তারা এই সাহস পেতো না। বিশ্ববিদ্যালয় তথা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকস্বরুপ মাননীয় উপাচার্য, উপ-উপাচার্যকে হুমকি দেওয়া, প্রধান ফটকগুলোতে তালা লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দেয়। কিন্তু প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
ru-pic-2

সমাবেশে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজুল আবেদীন বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কোনো নেতা বা স্থানীয়দের নিকট হতে ইজারা নেয়া নয়। ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়ে আমরা এখানে পড়তে এসেছি। কারো দয়ায় নয়। কারো ব্যক্তিগত জায়গা-জমি এই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।

প্রশাসনের ব্যর্থ ভুমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি ন্যায্য দাবিতে শিক্ষার্থীরা যখন আন্দোলন করেছিলো প্রশাসন তখন প্রক্টর ও পুলিশ দিয়ে  শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়েছিলো। কিন্তু আজ কেন প্রশাসন নিশ্চুপ? যখন বহিরাগতরা আমাদের অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অপমান করে তাতে কি আপনাদের আমাদের মান-সম্মান যায় না? আমি মনে করি এর চেয়ে অপমানজনক ঘটনা ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি। ২রা ফেব্রুয়ারির ঘটনায় মামলা করা হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে অথচ মূল ঘটনা কি ছিলো তা আপনারা জানেন। আপনারা সব জেনেও সেই শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে এমনকি বিভাগ থেকে গ্রেফতার করাচ্ছেন।

সমাবেশে নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী লিটন দাস বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় কারো ব্যক্তিগত নয়, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি সাধারণ শিক্ষার্থীর। যা চলে খেটে মানুষের কষ্টের টাকায়, তাদের ট্যাক্সের টাকায়। এখানে বহিরাগত স্থানীয় কারো বা নেতাদের হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এসময় প্রায় অর্ধ-শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়ে বহিরাগত টোকাই সন্ত্রাসী ও নেতাদের কর্মকাণ্ডের প্রতি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এই ঘটনার প্রকিবাদে আগামী ২৬ ডিসেম্বর আবারো ছাত্র সমাবেশের ডাক দিয়েছেন বক্তারা। এই সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল  শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে অংশ নেয়ার অনুরোধ করা হয়।

প্রসঙ্গত, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাটালগ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও গ্রন্থাগার সহকারী পদের নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে দেন রাবি শাখা ছাত্রলীগ ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। পরীক্ষা বন্ধ করতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ও ফটকগুলোতে তালা লাগায়। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে ও বের হতে বাধা প্রদান করে। এমনকি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ছিঁড়ে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দেয় ছাত্রলীগ ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।