Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • মোহনপুরে বাস চাপায় ব্যবসায়ী নিহত, এসআই আহত– বিস্তারিত....
  • নাটোরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীতে ঈদের জামাতে জঙ্গিবাদ পরিহারের আহ্বান– বিস্তারিত....
  • ঈদ শুভেচ্ছা কমেছে কার্ডে, বেড়েছে পোস্টারে– বিস্তারিত....
  • নাটোরে ব্যাংকের বুথে টাকা শূণ্য, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা– বিস্তারিত....

বিভক্ত আমেরিকা

ডিসেম্বর ২৪, ২০১৬

সাহেব-বাজার রিপোর্ট : আমেরিকা বিভক্ত। ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা না বলে এখন ডিভাইডেড স্টেট অব আমেরিকা বলাটাই সঙ্গত।

এক।
সাদা-কালো, রেড এন্ড ব্লু, আরবান ভার্সাস রুরাল, কোস্টাল স্টেটস না মিডল আমেরিকা, কলেজ এডুকেটেড না স্কুলপাশ। আমেরিকা অনেক ভাবেই বিভক্ত। এই বিভক্তির সুযোগ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনগোষ্ঠী যখন বিভক্ত হয়, শ্রেণিতে শ্রেণিতে দ্বন্দ যখন চরমে ওঠে – ডেমাগগরা তখন সুযোগ নেয়, ফ্যাসিজম তখন মাথাচাড়া দেয়, রেসিজম তখন মারমুখি হয়।

দুই।
প্রগতির পক্ষের শক্তিও কিন্তু বসে থাকে না। তারাও আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়। আমেরিকার নির্বাচনে প্রাইমারি সিজনে আমরা তার সাক্ষ্য দেখেছি। বার্নি স্যান্ডার্স হিলারিকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে তের মিলিয়নেরও বেশি ভোট পেয়েছেন। (ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রাইমারিতে প্রায় সমসংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন।) ব্লু কলার শ্রেনির অনেকেই বার্নিকে ভোট দিয়েছেন। আমেরিকায় এই প্রথম বার্নি নিজেকে ‘সোশাল ডেমোক্রেট’দের প্রতিনিধি দাবি করে ভোট চেয়েছেন। সরাসরি ‘সোশ্যালিস্ট’ দাবি করেননি নিজেকে।
কারণ, আমেরিকায় ‘সোশ্যালিস্ট’ শব্দটা এখনো একটা গালিবাচক শব্দ।
তবুও বার্নির সাফল্য আমেরিকার রাজনীতিতে একটা বিরাট ধাক্কা। এই ধাক্কাটা হচ্ছে তথাকথিত এস্টাব্লিশমন্টের বিরুদ্ধে। ডোনাল্ড ট্রাম্পও এস্টাব্লিশমেন্টের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে সফল হয়েছেন। রিপাব্লিকান পার্টির ট্র্যাডিশনাল নেতৃত্বকে হটিয়ে নমিনেশন বাগিয়ে নিয়েছেন।

বার্নি এ যাত্রায় সেটা পারেন নি। ডেমোক্রেটিক পার্টির এস্টাব্লিশমেন্ট মনে হয় অতটা নড়বড়ে হয়ে যায় নি। বার্নি নমিনেশন পেলে কি হতো বলা মুশকিল। তবে আমরা এখন জানি, বার্নির অনেক সমর্থকরাই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছে। এদের আবার অনেকেই ওবামাকে ভোট দিয়েছিল। তাই বর্ণবাদ, মুসলিমবিদ্বেষ, অভিবাসনবিরোধিতা এসব দিয়ে এই নির্বাচনের ফলাফলকে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না।

কিন্তু একেবারেই যে যায় না, তা বলা যাবে না। ট্রাম্পের জিনোফোবিক, রেসিস্ট, মিসোজিনিস্ট কথাবার্তা অনেক সাদা আমেরিকানদের মনের কথা। ট্রাম্প এদের উস্কে দিয়েছেন। হিটলার যেমন ইহুদিদের বিরুদ্ধে র্জার্মানদের ক্ষেপিয়ে দিয়েছিলেন।

তিন।
অনেক টিভি পন্ডিতকে বলতে শুনেছি, ট্রাম্প মাত্র একলাখের কিছু বেশি ভোট পেয়ে জিতেছে, মোট ভোটের সংখ্যায় দেড় মিলিয়নেরও বেশি ভোট পেয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। তাই এটাকে ঠিক ম্যান্ডেট বলা যায় না। এটা ঠিক, মিশিগানে তের হাজারের মতো, উইস্কনসিনে প্রায় সাতাশ হাজার আর পেনসিলভানিয়ায় ষাট হাজারের কিছু বেশি ভোট পেয়ে ট্রাম্প জিতে গেলেন। যোগ কবলে এক লাখের কিছু বেশি হয়। এই তিন স্টেটের কোনটাতেই এক পার্সেন্টের বেশি না। এই তিনটা স্টেট ট্রাম্প না পেলে তার প্রেসিডেন্ট হওয়া হতো না। ঠিক। এভাবে চিন্তা করলে হিলারির সাপোর্টাররা মনে শান্তি পেতেই পারেন। কিন্তু ট্রাম্প এক্সিডেন্টালি জিতে গেছেন এটা মনে করলে বিরাট ভুল হবে।

ট্রাম্পের পক্ষে একটা জোয়ার ছিল। তা নইলে, ওহাইও, ফ্লোরিডা, আইওয়া, পেন্সিলভানিয়া, মিশিগান, উইসকন্সিন – যে স্টেটগুলিতে ওবামা দুই দুইবার জিতেছিলেন, হিলারি ক্লিন্টন সেগুলো পেলেন না কেন? নর্থ ক্যারোলিনাও একবার ওবামা পেয়েছিলেন, হিলারি পান নি। আর মিনেসোটার মতো ব্লু স্টেটেও হিলারি প্রায় হারতেই বসেছিলেন।

চার।
তাই বলছিলাম, এই নির্বাচনের ডাইনামিক্স কোন সরল অঙ্ক নয়। তবে হিলারির স্বামী বিল ক্লিন্টনের বিরানব্বইর নির্বাচনী স্ট্রাটেজি ‘ইটস ইকনমি, স্টুপিড’ কথাটাকে হিলারি আরেকটু সিরিয়াসলি নিলে মনে হয় ভাল করতেন। সম্পদ-বৈষম্য আর শ্রেনি-দ্বন্দকে পাত্তা না দেয়া হিলারির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর অন্যতম দূর্বলতা ছিল।

আমেরিকায় কিছু মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, তারা আগের চেয়ে আরো বেশি প্রান্তিক হয়ে গেছেন, তাদের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলি আগের চেয়ে আরো বেশি প্রকট। পুঁজিবাদ একসময়ে এদেরকে, ব্লু কলার জনগোষ্ঠিকে কায়িক পরিশ্রমের বিনিময়ে মধ্যবিত্তের আয় দিতে পারতো। পুঁজিবাদের সেই দিন আর নেই – গ্লোবালাইজেশন আর ইনোভেশন পুঁজিবাদকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

ট্রাম্পের তাহলে ভবিষ্যত কি? সে কিভাবে এই সঙ্কট থেকে পুঁজিবাদকে রক্ষা করবে? যুদ্ধ বাঁধিয়ে? ঘরেতো বাঁধিয়েই দিয়েছেন, বাইরেও মনে হয় বাঁধাবেন। হুমকিতো দিয়েই রেখেছেন।

পাঁচ।
পুঁজিবাদ, আর বাই এক্সটেনশন, সাম্রাজ্যবাদের সঙ্কট আরো তীব্র হবে ট্রাম্পের বিজয়ের ফলে। এ নিয়ে আমার মনে সন্দেহ নেই। সন্দেহ নেই এ নিয়েও যে, পৃথিবী এগিয়ে যাবেই, কয়েক পা পিছালেও।

ট্রাম্প জিতলেও ল্যান্ডস্লাইড বিজয় পান নি, অপেক্ষাকৃত তরুণ বয়সীরা তাকে তেমন ভোট দেয় নি, তার পক্ষে যারা ভোট দিয়েছেন তাদের মোহভঙ্গ হওয়াটা সময়ের ব্যাপার, এগুলো আশা জাগায়। আমি আশাবাদী।