Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • মোহনপুরে দুই সহদোরের শয়নকক্ষে মিললো গোখরার ৫৬ বাচ্চা– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীর ২০০ শিক্ষার্থী পেল জেলা পরিষদের বৃত্তি– বিস্তারিত....
  • নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপোস নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • মোহনপুরে তিনদিন ব্যাপি ফলদ ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন– বিস্তারিত....
  • মানবপাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় থাই জেনারেলের কারাদণ্ড– বিস্তারিত....

অবৈধভাবে সিগারেট আমদানি বাড়ছে, আড়ালে মূল হোতারা

ডিসেম্বর ২২, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়ে ৬০৫ শতাংশ শুল্কযুক্ত সিগারেট আমদানি করা হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে সিগারেট আমদানিতে সহায়তা করছে চট্টগ্রাম কাস্টমসের একাধিক জালিয়াত চক্র। এ বছর চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরে অর্ধশতাধিক সিগারেটের চালান আটক হলেও এর মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছয়টি ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে আনা অন্তত ৫৭টি সিগারেটের চালান আটক করেছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম বন্দরে আটককৃত চারটি চালানে ১৭৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় চারটি পৃথক তদন্ত কমিটি করেছিল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে জমা দেয়া দুটি তদন্ত প্রতিবেদনে এসব সিগারেটের চালান শুল্কায়নে শুল্ক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গাফিলতি থাকার পাশাপাশি নথি সংরক্ষণ ও স্থানান্তরে অনিয়মের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে মূল হোতাদের ধরতে শুল্কায়ন কর্মকর্তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ ও অবৈধ পথে সিগারেট আমদানি প্রতিরোধে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় শুল্ক ফাঁকির ঘটনা বাড়ছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার রেজাউল হক বলেন, ‘বছরের শুরুর দিকে জেনেটিক ফ্যাশন ও মাঝামাঝি সময়ে এফআরসি নিট কম্পোজিটের বিরুদ্ধে অবৈধ পথে সিগারেট আমদানির ঘটনায় মামলার পাশাপাশি দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্ত কমিটি অবৈধ পথে সিগারেট আমদানি প্রতিরোধে বেশকিছু সুপারিশ করেছিল। কিন্তু তার অধিকাংশই বাস্তবায়ন করা যায়নি। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সতর্ক থাকায় বেশ কয়েকটি চালান ধরা পড়েছে।’

শুল্ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন যে পরিমাণ চালান চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হয়, তার ৫ থেকে ১০ শতাংশ পণ্যে কায়িক পরীক্ষা করা হয়। লোকবল সংকটের কারণে শতভাগ চালানে কায়িক পরীক্ষা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে কম শুল্কের পণ্যের ঘোষণা দিয়ে অধিক শুল্কের পণ্য আনলেও সচরাচর তা ধরা পড়ে না। কেবল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব চালান আটক করা হয়। এছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি খালাসের ক্ষেত্রেও বাড়তি সুযোগ পান আমদানিকারকরা। এ সুবিধার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে একটি চক্র।

সিগারেট মামলার একাধিক তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আমদানিকারক সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানকে খালাসের লিখিতভাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল কিনা, তা শুল্কায়ন কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখেননি। চালানে সিপিসি (কাস্টমস প্রসিডিউর কোড) পরিবর্তন করা হলেও তা যাচাই করা হয়নি। তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানির প্রাপ্যতা ও বিকেএমইএর ‘ইউডি’ পত্র না থাকলেও এসব চালান শুল্কমুক্ত সুবিধায় শুল্কায়ন করা হয়েছে। ব্যাংকের নথি জালিয়াতির তথ্যও খতিয়ে দেখেননি শুল্কায়ন কর্মকর্তারা। এমনকি শুল্কায়নের সময় আমদানি নথি ফোল্ডারে সংরক্ষণ ও পাস বইতে লিপিবন্ধ করা বাধ্যতামূলক থাকলেও তা করা হয়নি। কাস্টমস হাউজ থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব হয়ে যাওয়ার তথ্যও এসব তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সিগারেট আটক মামলার একাধিক তদন্ত কমিটিতে থাকা চট্টগ্রাম কাস্টমসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আইনগতভাবে সরকারি কোনো নথি বাইরের লোক দিয়ে স্থানান্তরের নিয়ম নেই। অথচ কাস্টমসের গুরুত্বপূর্ণ নথি আমদানিকারকের প্রতিনিধির মাধ্যমেই স্থানান্তর হয়। ফলে তারা এসব নথি জালিয়াতি বা সহজে সরিয়ে নিতে পারেন। আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চালান খালাসে যে চুক্তি হয়, তার কপি কাস্টম হাউজে না থাকায় পরবর্তী সময়ে তারা অস্বীকার করার সুযোগ পায়।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়, তা বাস্তবায়নে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এছাড়া কাস্টমসের যেসব কর্মকর্তা এসব চালানের শুল্কায়নে জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা কিংবা উচ্চতর কোনো তদন্তের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এ কারণে সিগারেট আমদানির যে চক্রটি বন্দরে সক্রিয় রয়েছে, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।’- খবর বণিকবার্তার