Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • রাজশাহীতে বিস্ফোরকসহ আটকদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা খুঁজছে পুলিশ– বিস্তারিত....
  • বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বৃষ্টি বাঁধা– বিস্তারিত....
  • ৩১১ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কা, তাসকিনের হ্যাটট্রিক– বিস্তারিত....
  • দেড় কোটি টাকা নিয়ে উধাও জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি– বিস্তারিত....
  • মোহনপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির মানববন্ধন– বিস্তারিত....

নাটোর সদর ইউএনওর ঘুষ গ্রহণ নিয়ে দু’টি তদন্ত শুরু

ডিসেম্বর ২১, ২০১৬

নাজমুল হাসান, নাটোর : বিভন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নাটোর সদর ইউএনও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের ঘুষ গ্রহণ নিয়ে দু’টি তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। প্রথমে জেলা প্রশাসক স্ব-প্রণোদিত হয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শৃঙ্খলা অধিশাখার নির্দেশনা মোতাবেক আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল। ইতিমধ্যে ঐ কর্মকর্তা চট্টগ্রাম বিভাগে বদলী হয়েছে।

জানা যায়, ২ নভেম্বর নাটোর সদর উপজেলার লালমনিপুর গ্রামের মকবুল হোসেন এবং গত ২৫ আগষ্ট কানাইখালি এলাকার হারুন মন্ডলকে বাল্যবিয়েতে জড়িত থাকার অভিযোগে জড়িমানা করেন সদর ইউএনও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। ফেসবুকে এক হাজার টাকা করে জড়িমানার কথা উল্লেখ করা হলেও গণমাধ্যম কর্মীদের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জেল না দেওয়ার বিনিময়ে প্রশাসনের ঐ কর্মকর্তা প্রত্যেকের কাছে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেন। পরে সংবাদটি গত ৯ নভেম্বর যমুনা টেলিভিশনে প্রচার এবং ১০ নভেম্বর যুগান্তর, দৈনিক সকালের খবরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরপরই সদর ইউএনওর দৌড়ঝাপ শুরু হয়ে যায়। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা। অভিযোগ উঠে  রাতের আধারে ফেরত দেওয়া হয় ঘুষের টাকা।

হারুন মন্ডলের প্রতিবেশী শুভ জানান, ইউএনওর ঘুষ গ্রহনের বিষয়টি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর ঐ অফিসের লোকজন এসে হারুন মন্ডলকে ঘুষের নয় হাজার টাকা ফেরত দিয়ে যায়। এবং সেই সাথে ঘটনাটি কেউ যেন না জানে সেজন্য অনুরোধ করে যান।

মকবুল হোসেনের প্রতিবেশী লালমনিপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওহাব জানান, তিনি নিজে ২০ হাজার টাকা গুনে দিয়ে মকবুল হোসেনকে ছাড়িয়ে আনেন। প্রথমে ত্রিশ হাজার টাকার দাবী করা হলেও বড়হরিশপুর চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন তারা। ২০ হাজার টাকার রশিদ চাইলে ইউএনও অফিসের কর্মচারি হানিফ পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেন। পরে খবর প্রকাশের পর ইউওনও এস মকবুল হোসেনকে টাকা ফেরত দিয়ে তার সাথে আপোষ করে গেছেন।

ঘুষ গ্রহনে মধ্যস্থতাকারী ৫ নং বড়হরিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান গণি ভুঁইয়া জানান, মকবুল হোসেনকে জেল না দিয়ে টাকা জড়িমানা করতে তিনি ইউএনওকে অনুরোধ করেছিলেন। তবে ঐ কর্মকর্তা কতো টাকা নিয়েছিলেন তা তার জানা নেই।

বিষয়টি নিয়ে ইউএনও অফিসের কর্মচারি রবিন রুবায়েত জানান, তাদের আগে কর্মরতরাই ঘুষ গ্রহণের সাথে জড়িত।

এদিকে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবী জানিয়েছেন জেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুনীরুজ্জামান ভুঁইয়াকে প্রধান করে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর পরপরই বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শৃঙ্খলা অধিশাখা থেকে নাটোরের জেলা প্রশাসকের কাছে আরও একটি তদন্তের নির্দেশ এলে আগের তদন্ত কমিটির প্রধানকেই এই তদন্তের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানান নাটোরের জেলা প্রশাসক। অচিরেই তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে পাঠানো হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের ঘুষ গ্রহনের ঘটনা তদন্তে সাক্ষ্যগ্রহণে ইতিমধ্যে ১৪ জনকে চিঠি দিয়ে ডাকা হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন। ঐ কর্তকর্তা চট্টগ্রাম বিভাগে বদলী হয়েছে।